ভিসি এয়ার মার্শাল নজরুল : ওবিই হচ্ছে জ্ঞানগর্ভ ও চিন্তা উদ্দীপক কর্মশালা

আগের সংবাদ

টানা ৪ জয়ে সেমিতে পাকিস্তান

পরের সংবাদ

টি-টোয়েন্টি নয়, টেস্টে ফিরছেন তামিম

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : তামিম ইকবাল খান বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে তিনি বাংলাদেশের সেরা রান সংগ্রাহক। ৬৪ টেস্ট ৪৭৮৮, ২১৯ ওয়ানডে ম্যাচে ৭৬৬৬ এবং ৭৮ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৭৫৮ রান তামিম ইকবালের ব্যাটে। চোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের বাইরে আছেন তামিম ইকবাল। সে বৃত্ত ভাঙতে যাচ্ছে শিগগিরই। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজ দিয়েই দলে ফিরতে যাচ্ছেন তিনি।
তামিমকে অবশ্য তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলে পাওয়া যাবে না। তামিমের চোখ আপাতত টেস্ট সিরিজে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হতেই পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ধারণা করা হচ্ছিল, এই সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়ে আবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফিরবেন তামিম ইকবাল। তবে তামিমের কথা সত্যি হলে, দেশের হয়ে আরো একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ মিস করতে চলেছেন তিনি।
আগামী ১৯ নভেম্বর মিরপুরে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর দুটি টেস্ট। তামিম ফিরতে চান ওই টেস্ট সিরিজ দিয়েই। ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক নিজেই দিয়েছেন এমন তথ্য।
হাঁটুর চোট থেকে সেরে উঠলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তামিম। এরপর খেলতে যান নেপালে অনুষ্ঠিত এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল)। তবে সেখানে খেলার সময় আবার বিপত্তি। বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলে পান চোট। সেই চোট কাটিয়ে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হতেই দ্রুত ব্যাট হাতে নেমে পড়বেন তিনি। ক্রিকবাজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তামিম বলেছেন, আমি ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করেছি, তারা আমায় আগামী ৭ নভেম্বর থেকে স্পিনের বিরুদ্ধে ব্যাটিং করার পরামর্শ দিয়েছে। আমি তাই এনসিএল খেলার পরিকল্পনাও করেছি।’
আঙুলের চোটের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আঙুলের ইনজুরি এখনো পুরোপুরি সারেনি। তিন সপ্তাহের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করেছি, আরো এক সপ্তাহ বাকি আছে। এরপর আমি ব্যাটিং শুরু করতে পারব।’
পাকিস্তান সিরিজের আগে ঘরের মাঠে গেল আগস্ট-সেপ্টেম্বরে হাঁটুর ইনজুরির কারণে তামিম মিস করেন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতে হওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজটিও পারিবারিক কারণে খেলেননি তিনি। খেলেননি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে তামিম সবশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন গত বছরের মার্চে। এরপর থেকেই কোনো না কোনো কারণে টাইগারদের হয়ে একের পর এক সিরিজ মিস করে যাচ্ছেন এই ড্যাশিং ওপেনার।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেই তিনি। এর কারণ অবশ্য তামিম নিজেই। আচমকাই স্কোয়াড থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছেন তামিম। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কমতি নেই এখনো। ঠিক কোন কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিমুখ হলেন তামিম, তা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এক রহস্য।

তবে এবার বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, তামিমকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা ছাড়তে বলেছিলেন তিনি অনেক আগেই। তার আগে নাকি তামিমকে এ পরামর্শ কেউ দেয়নি।
সম্প্রতি ‘দ্য তামিম ইকবাল শো’-তে উপস্থিত হয়ে তামিমের সামনেই এ তথ্য দেন মাশরাফি।
‘নড়াইল এক্সপ্রেস’খ্যাত তারকা বলেন, আমিই একমাত্র মানুষ, যে তামিমকে অনেক আগেই বলেছিলাম- তোর খেলার যে ধরন, তুই টি-টোয়েন্টি থেকে একটা সময় সরে যা। তুই ওয়ানডে ও টেস্টে সেরা খেলোয়াড় হলেই যথেষ্ট। বাংলাদেশের এই জিনিসটা বেশি দরকার।’
মাশরাফির কথার পিঠে হ্যাঁ-সূচক মাথা নেড়ে তামিম বলেন, ২০১৯ বিশ্বকাপের সময়ই মাশরাফি ভাই আমাকে এই কথা বলেছেন।’
তামিম চাইলে চলমান বিশ্বকাপে যোগ দিতে পারতেন মন্তব্য করে এ সফল অধিনায়ক বলেন, আমি নিশ্চিত, তামিমকে বাদ দেয়ার সুযোগ কোনোভাবেই ছিল না। আমি নিজেও তামিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি।
এরপর তামিমের উদ্দেশে মাশরাফি বলেন, তুই ১৬টি ম্যাচ খেলিসনি, তোর কী মনে হয়, তুই সরে না দাঁড়ালে এবারের বিশ্বকাপ দল থেকে কেউ তোকে বাদ দিতে পারত না?’
তামিম বলেন, হয়তো বা আমি টি-টোয়েন্টি দলে থাকতাম কিন্তু এটা মনে হয় ফেয়ার হতো না।
তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে এখনই অবসরে যাচ্ছেন না। তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে লিটন, সৌম্য ও নাইম শেখ ওপেনিং ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
ওপেনার তামিম ইকবাল চোট থেকে ফিরে ব্যাট হাতে ছন্দ পেতে নেপালের এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে গিয়েছিলেন। সেখানে তো পারফর্ম করতে পারেনইনি, উল্টো বাধিয়ে এসেছেন আঙুলের চোট। যে কারণে আরো কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।
গতকাল তামিম সে চোটের পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনায় বসেছিলেন বিসিবির মেডিক্যাল দলের সঙ্গে। সেই আলোচনায় নির্ধারিত হয়েছে যে, আগামী ৭ নভেম্বর তামিম স্পিনের বিপক্ষে ব্যাটিং অনুশীলন শুরু করবেন। এরপর ধাপে ধাপে পূর্ণ অনুশীলনে নামবেন তিনি।
তামিম ক্রিকবাজকে বলেন, আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আমাকে ৭ নভেম্বর থেকে স্পিনের বিপক্ষে অনুশীলনের পরামর্শ দিয়েছেন। এখন আমি এনসিএলের পঞ্চম রাউন্ড দিয়ে মাঠে ফেরার কথা ভাবছি। আঙুলের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠিনি আমি। তবে আমি পুনর্বাসনের তিন সপ্তাহ কাটিয়ে ফেলেছি। অনুশীলনে ফেরার আগে আরো এক সপ্তাহ সময় আছে আমার হাতে।’
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড তাদের অনুশীলন শুরু করার কথা ১২ নভেম্বর থেকে। আগামী ১৯, ২০, ও ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ দল পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টির লড়াইয়ে মাঠে নামবে। এরপর তামিমের ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে আগামী ২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর মাঠে গড়াবে দুই টেস্টের প্রথমটি। এরপর ৪ থেকে ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়