শুভ জন্মদিন : প্রেমিক কবি ফারুক মাহমুদ

আগের সংবাদ

দক্ষিণাঞ্চলে পেয়ারা বাজার মন্দা

পরের সংবাদ

সিআরবিতে হাসপাতাল করতে হবে কেন?

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে নতুন হাসপাতাল গড়ে তোলা নিয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়, কিন্তু সুনিবিড় ঐতিহাসিক সিআরবি এলাকায় হাসপাতালের জন্য স্থান নির্ধারণ করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের সচেতন মানুষ সিআরবির ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সবুজ রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছে। আমরাও তাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি। জানা যায়, সিআরবি এলাকায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সভায় প্রকল্পটি পিপিপিতে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি পিপিপি প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয় সিসিইএ সভায়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর গত বছরের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তারপর চলতি বছরের শুরুতে নির্ধারিত জমির সামনে প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ হবে। ৫০ বছর পর প্রকল্পের মালিকানা হবে রেলওয়ের। সিআরবি এলাকাটি রেলওয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এটি ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলীর একটি অনবদ্য নিদর্শন এবং বলা হয়ে থাকে এটিই চট্টগ্রামের সবচেয়ে প্রাচীনতম সুশীতল এলাকা। সিআরবি, সাতরাস্তার মোড় ও টাইগারপাস ঘিরে থাকা পাহাড় ও উপত্যকায় গাছপালা মণ্ডিত যে এলাকাটি রয়েছে, তা চট্টগ্রামের ‘ফুসফুস’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সমুদ্রবর্তী নদীবেষ্টিত চট্টগ্রাম নগরী তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য যুগ যুগ ধরে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে। এখানে রয়েছে শিরিষতলা নামে একটি প্রশস্ত মাঠ, যেখানে প্রতি বছর ১ বৈশাখ, ১ ফাল্পুন ইত্যাদি ঐতিহ্যগত উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে। ইট-কাঠ ও কারখানার ধোঁয়ার শহরে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের জন্য এখানে লোকজন বেড়াতে আসেন। গাছপালাঘেরা সবুজ শান্ত এলাকাটি নগরবাসীর পছন্দের জায়গা। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত মানুষ এই স্থানকে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে গ্রহণ করেছে। এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে বহুতল হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের মতো স্থাপনা নির্মাণ বাসযোগ্য পরিবেশ বিনষ্ট করবে। ২০১২ সালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিআরবি এলাকাকে আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। সেই পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি। এর মধ্যে নতুন হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা এলো। হাসপাতালের প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না। সিআরবি এলাকার সবুজ অংশ ধ্বংস করে হাসপাতাল তৈরি না করে অন্য জায়গা বেছে নেয়া যেতে পারে। প্রাকৃতিক সুন্দরের দিক থেকে সিআরবির মতো এত দৃষ্টিনন্দন স্থান বাংলাদেশের আর কোনো শহরে নেই। এ সৌন্দর্য ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। যে কোনোভাবেই এটি রক্ষা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়