ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু কমেছে

আগের সংবাদ

নতুন উত্তাপ ‘১০ ডিসেম্বর’ > মানববন্ধন করবে বিএনপি, ঘরোয়া কর্মসূচি আ.লীগের > অনুমতি ছাড়া করলে ব্যবস্থা : ডিএমপি

পরের সংবাদ

ই-অরেঞ্জের প্রতারণা : সোহেল-সোনিয়াসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৮, ২০২৩ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০২৩ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম অফিস : অনলাইনে পণ্য বিক্রির কথা বলে কোটি কোটি টাকা নিয়েও ক্রেতাকে পণ্য বুঝিয়ে দেয়নি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ই-অরেঞ্জ’। প্রতারণার শিকার হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান ও সোনিয়ার ভাই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দাশ এই আদেশ দেন।
মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করলে আদালত তা গ্রহণ করে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে এই চক্রটি নানাভাবে এক লাখ লোকের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রায় এক হাজার ১০০ কেটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই মামলায় আসামিরা হলেন- ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানা, ই-অরেঞ্জ কর্মকর্তা আমান উল্লাহ চৌধুরী, জায়েদুল ফিরোজ, নাজনীন নাহার বিথী ওরফে বিথী আক্তার এবং নাজমুল হাসান রাসেল। ই-অরেঞ্জের মালিকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর প্রতারণার অভিযোগে তিনজন গ্রাহকের পক্ষে মামলাটি করেন নুরুল আবছার পারভেজ (৩৫)। তিনি নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী। অগ্রিম টাকা দিয়েও পণ্য না পাওয়ায় তিন গ্রাহকের পক্ষে তিনি মামলাটি করেন। সেদিন আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারে বলা হয়, নুরুল আবছার পারভেজ ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০০ টাকা করে চারটি মোটর সাইকেলের জন্য মোট পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৬০০ টাকা এবং ১০টি গিফট ভাউচারের জন্য মোট ৩০ হাজার টাকা (যাতে দ্বিগুণ গিফট দেওয়ার কথা ছিল) পরিশোধ করেন। আরেক গ্রাহক মোরশেদ শিকদার দুটি মোটর সাইকেলের জন্য দুই লাখ ১৭ হাজার ৮০০ টাকা, একটি মোবাইলের জন্য ৮ হাজার ৯৯০ টাকা এবং ১৯টি গিফট ভাউচারের জন্য ৫৭ হাজার টাকা দেন। অন্য গ্রাহক মাহমুদুল হাসান খান দুটি মোটর সাইকেলের জন্য দুই লাখ ৮০ হাজার ৯৫০ টাকা দেন।
গত ২০২১ সালের ২৭ মে এবং ১২ জুন ও ১৩ জুন এসব টাকা পরিশোধ করেন তারা। কিছুদিনের মধ্যেই গ্রাহকদের কেনা পণ্য তাদের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা আর পৌঁছেনি। পরে তারা ই-অরেঞ্জ এর হেড অফিসে গেলে তা বন্ধ দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করেন। সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের উল্লেখ করে আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, জানা গেছে- ই-অরেঞ্জের সঙ্গে সম্পৃক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে থানায় মামলা হতে থাকলে, তিনি দেশ থেকে পালিয়ে ভারত চলে যান। পরবর্তী সময়ে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা অনুপ্রবেশের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত থেকে তাকে আটক করে। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের আদালতে তার তিন বছরের জেল হয়। পরে ৫ সেপ্টেম্বর সোহেলকে সাময়িক বরখাস্তের কথা জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ। ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৮টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। একটি মানিলন্ডারিং, দুটি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে এবং বাকিগুলো প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়