বিজিএমইএ নির্বাচন মার্চে

আগের সংবাদ

জাপার আসনে নৌকা প্রত্যাহার! ৩০ থেকে ৩৫ আসন প্রত্যাশা জাতীয় পার্টির > চলছে দেনদরবার

পরের সংবাদ

তামিলনাড়ু বৃষ্টিতে ভাসিয়ে ভূমিতে ঘূর্ণিঝড় মিগযাউম : অন্তত ৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ , ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে তুমুল বৃষ্টি ঝরিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিগযাউম গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বাপালার কাছ দিয়ে স্থলভাগে উঠে আসে। পরে সেটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের দিকে এগিয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে চেন্নাইয়ে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে, সেখানে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। অন্ধ্রপ্রদেশে উঠে আসার সময় ঘূর্ণিঝড় মিগযাউমের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। তবে রাজ্যটি অতিক্রমের সময় কোথাও কোথাও বাতাসের গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠে। অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য পার হতে ঘূর্ণিঝড়টির প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগার কথা জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
তামিলনাড়ু আর অন্ধ্রপ্রদেশ- এই দুই রাজ্যেই হাজার হাজার গাছ আর বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। স্তব্ধ হয়ে গেছে পরিবহনব্যবস্থা। দুই রাজ্যেই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের চারটি জেলায় স্কুল-কলেজ ও ব্যাংকে ছুটি ঘোষণা করা হয়।
চেন্নাই শহর পানির নিচে : মিগযাউমের প্রভাবে ঘরবাড়ি ধসে পড়া ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তামিলনাড়– রাজ্যে এ পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী চেন্নাইয়ের প্রায় পুরোটাই সোমবার থেকে পানিতে ডুবে যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, কোথাও গলা সমান পানি, কোথাও কোমর ডোবা পানি। একটি মালবাহী ট্রাক প্রায় সম্পূর্ণ ডুবে ছিল।
চেন্নাই শহরের উপকণ্ঠে মেদাভাক্কাম এবং পল্লিকারানাইয়ের নিচু এলাকার অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কাছে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের এলাকা থেকে পানির তোড়ে গাড়িগুলো ভেসে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। কোথাও কোথাও বাড়ির একতলা প্লাবিত হওয়ায়, দুই বা তিন তলায় বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে মানুষ আশ্রয় নেয়।
জলাবদ্ধতার ফলে চেন্নাইয়ের পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। রাস্তায় গাড়ি, বাস ইত্যাদি যেমন আটকে ছিল, তেমনই একাধিক সুড়ঙ্গ পথও বন্ধ করে দিতে হয়। বাতিল করা হয় অন্তত দেড়শ ট্রেন।
চেন্নাই বিমানবন্দর সোমবার বন্ধ করে দিতে হয়। তবে গতকাল সকাল থেকে চেন্নাইয়ে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় বিমানবন্দর আবারো চালু হয়েছে। এদিন দুপুরে কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করে।
অন্ধ্র প্রদেশের পরিস্থিতি : মিগযাউমের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী নগর ও শহরে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়া হয়। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এমনকি কোথাও কোথাও অতিভারী (৩০-৪০ সেন্টিমিটার) বর্ষণও হতে পারে।
অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য সরকার থেকে ৮ জেলায় সতর্কতা জারি করে। এগুলো হলো- তিরুপতি, নেল্লোরে, প্রকাসম, বাপালা, কৃষ্ণা, পশ্চিম গোদাভরী, কোনাসীমা এবং কাকিনাদা। পুডুচেরিতে উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কর্মকর্তাদের এই ঘূর্ণিঝড়কে বৃহৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় দুর্গত প্রতিটি জেলায় বিশেষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুই কোটি রুপি তহবিলও ছাড়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এজন্য রাজ্যজুড়ে দুই শতাধিক ত্রাণ শিবির স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে উদ্ধার করে নিয়ে আসা লোকজনকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
রাজ্যের অনেক জায়গায় গতকাল হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। পূর্ব গোদাবরি, পশ্চিম গোদাবরি, এলুরু, কৃষ্ণা, এনটিআর, গুন্টুর, বাপাতলা এবং পালনাডু প্রকাশম জেলার কয়েকটি জায়গায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয় আবহাওয়া বিজ্ঞান দপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় নেল্লোর ও তিরুপতি জেলার বেশ কিছু অংশে ২৫ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া প্রবল বাতাসের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হাজার হাজার বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। ফসল কাটার মৌওসুমের মুখে এসে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে।

##

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়