র‌্যাব মহাপরিচালক : নাশকতার তথ্য নেই তবুও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি

আগের সংবাদ

বাংলাদেশের গর্ব, বিশ্বের বিস্ময় : জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে যেভাবে ডানা মেলল স্বপ্নের পদ্মা

পরের সংবাদ

স্বপ্ন ছোঁয়ার অপেক্ষায় দেশ সবদিকে উৎসবের আমেজ

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৪, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

দেব দুলাল মিত্র : পদ্মা সেতুর শতভাগ নির্মাণকাজ শেষ। গত বুধবার নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর দায়িত্ব প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। আর মাত্র একদিন। আগামীকাল শনিবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই স্বপ্ন ছোঁয়ার জন্য পুরো দেশবাসী এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত প্রবাসীরাও অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। পদ্মার দুই তীরে জেগেছে আনন্দের জোয়ার, সেজেছে নতুন সাজে।
উদ্বোধনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, পদ্মা সেতু ততই সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। প্রমত্তা পদ্মার প্রবল স্রোত উপেক্ষা করে সোয়া ৬ কিলোমিটারের পদ্মা সেতু আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতল বিশিষ্ট পদ্মা সেতু তৈরিতে অনেক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্রান্ত, বাধাবিপত্তি এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সব মোকাবিলা করেই ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সামর্থ্য ও সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে সেতুর মাওয়া প্রান্তে গিয়ে পৌঁছবেন। তিনি মাওয়া প্রান্তে সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের পর সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। পরবর্তী সময়ে গাড়িতে সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরে দলীয় জনসভায় অংশ নেবেন। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে জনসভার জন্য এগারোটি পিলারের উপর ১০টি স্প্যান বসিয়ে পদ্মা সেতুর আদলেই মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। মঞ্চের ঠিক সামনে পানিতে ভাসতে থাকবে বিশাল আকৃতির একটি নৌকা। দেখে মনে হবে পদ্মা সেতুর পাশ দিয়ে বড় একটি নৌকা চলছে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন স্থানের রাস্তার উভয় পাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশাল সাইজের ছবিসহ নানান ধরনের বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে মুন্সীগঞ্জের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের উচ্ছ¡াসের যেন শেষ নেই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে পদ্মাপাড়ের অবহেলিত অঞ্চল মাদারীপুরের শিবচরেও উৎসবের আমেজ বইছে। মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার পদ্মাপাড়ের ৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এখন আলোকসজ্জায় উদ্ভাসিত। লৌহজংয়ের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন বলেন, সেতু পার হওয়ার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি। মুন্সীগঞ্জের মানুষের আবেগ এই সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এখানের মানুষ সেতুর জন্য বাপ-দাদার ভিটা পর্যন্ত দিয়েছে। সেতু নির্মাণের পেছনে এই জেলার মানুষের ত্যাগ রয়েছে সহযোগিতা রয়েছে।
ব্যবসায়ী আবুল কালাম খান বলেন, পদ্মা সেতু পুরো দেশের অহংকার। সবার স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন। মুন্সীগঞ্জের মানুষ এই স্বপ্ন ছোঁয়ার অপেক্ষা করছে। ২৫ জুনই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে। আমরা উচ্ছ¡সিত, আনন্দিত। মুন্সীগঞ্জবাসী প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে পুরো দেশে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে নিরাপত্তা তল্লাশি শুরু করছে। এক্সপ্রেসওয়ের কুচিয়ামোড়া, নিমতলা, চালতিপাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে মোটরসাইকেল ও গাড়িতে তল্লাশি চলছে। সেতু এলাকায় বসানো হচ্ছে র‌্যাবের ওয়াচ টাওয়ার। ফুট পেট্রল, মোটরসাইকেল পেট্রোল, বোম স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড

সতর্ক রয়েছে। স্পেশাল ফোর্স নিয়ে র‌্যাবের হেলিকপ্টার প্রস্তুত রয়েছে। গত মঙ্গলবার পদ্মা সেতুর দুই দিকে দুইটি থানার উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বছর আগেই জাজিরা প্রান্তে শেখ রাসেল সেনানিবাস উদ্বোধন করা হয়। এক ব্রিগেড সেনা সদস্য রয়েছে সেখানে। গুজব ও অসন্তোষ ছড়িয়ে নাশকতা আশঙ্কায় সারাদেশেই সতর্কতা জারি করা হয়।
এদিকে গত বুধবার পদ্মা সেতুর নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) বাংলাদেশের সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে সেতুটি হস্তান্তর করেছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আবদুল কাদের জানিয়েছেন, সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষকে বুধবার সেতুটি বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সেতুর সব কাজ বুঝে নিয়ে ঠিকাদারকে টেকিং ওভার সার্টিফিকেট দিয়েছে। তবে পদ্মা সেতুর অবকাঠামোগত ছোট ছোট কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি আগামী ১ বছর ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড’ হিসেবে কাজ করবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়