ভালোবাসা এখন ‘ভার্চুয়াল’, আবেগেও পড়েছে টান : তবুও বসন্ত জেগেছে বনে

আগের সংবাদ

সংস্কৃতির চর্চা জোরদারের তাগিদ > বাঙালির প্রাণের মেলার উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী : হাতে নিয়ে বই পড়ার আনন্দ অনেক

পরের সংবাদ

ভোরের কাগজের ৩০ বছর, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আরো কিছু কথা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

ভোরের কাগজ প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্ণ করল, এটা নিঃসন্দেহে একটি বড় ঘটনা। এজন্য এই কাগজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলা প্রয়োজনীয় মনে করেই এই লেখা।
বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে কি-না সেটা কিছুটা বিতর্কিত বিষয়। কেউ মনে করেন দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই, আবার কেউ মনে করেন আছে। তবে সরকার পক্ষ যে সাধারণভাবে সমালোচনা পছন্দ করে না এটা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ কম। শুধু বর্তমান সরকারের আমলেই গণমাধ্যমের ওপর বা স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর অসহিষ্ণুতা দেখানো হয় ব্যাপারটা তেমনও নয়। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বঙ্গবন্ধুর আমল ছাড়া আর সব আমলেই হয়েছে। তবে আমরা যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন সেই সরকারকেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণকারী বলে মনে করি, প্রচার করি। কারণ বর্তমানটা আমাদের কাছে যতটা জ্বলজ্বলে, অতীতটা ততটাই ধূসর।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রায়ই বক্তৃতা-বিবৃতিতে সরকার সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন করছে উল্লেখ করে বলে থাকেন, ‘সত্য উদ্ঘাটন করাই তো সাংবাদিকদের কাজ’। কোনো সন্দেহ নেই, সত্য উদ্ঘাটন করাই সাংবাদিকদের কাজ। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন কি এটা মির্জা সাহেবদের মনে ছিল? বিএনপি আমলে কি দেশে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন কম হয়েছে? বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন সাংবাদিককে হত্যাও করা হয়েছে। হুমায়ুন কবির বালু, মানিক সাহা, শামসুর রহমান, দীপঙ্কর চক্রবর্তী খুন হয়েছিলেন কোন আমলে? কোনো হত্যাকাণ্ডের কি সঠিক তদন্ত ও বিচার হয়েছে? আমাদের দেশে ক্ষমতার বাইরে থেকে রাজনীতিবিদরা যা বলেন ক্ষমতায় গিয়ে তার বিপরীতটা করেন। রাজনীতির এই বৈপরীত্য সমাজের অন্য ক্ষেত্রগুলোকেও প্রভাবিত করে থাকে। গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতাও রাজনীতি ও সমাজের অন্য সব ‘মন্দ’ হাওয়া থেকে মুক্ত নেই। মুক্ত থাকার বাস্তব কারণও নেই।
আমাদের দেশে গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের এক ধরনের ‘ধান্ধা’র জীবন বেছে নিতে বাধ্য করেন। ঢাকার সাংবাদিকদের থেকে মফস্বলের সাংবাদিকদের জীবন আরো দুর্বিষহ। বেশির ভাগ মফস্বল সাংবাদিক একটি নিয়োগপত্র এবং পরিচয়পত্র ছাড়া আর কিছু পান না। কোনো কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল কিছু মাসোহারা দিলেও তা অতি সামান্য এবং অনিয়মিত। তাহলে মফস্বল সাংবাদিকের জীবন চলে কীভাবে? নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো যায় কিন্তু নিজের খাওয়াটা তো থাকতে হবে!
এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যারা সাংবাদিকদের কাছে সততা আশা করেন তারা আসলে কল্পজগতের বাসিন্দা। কিছু ‘তারকা’ সাংবাদিকের আয়-উপার্জন বা জীবন যাপন দেখে যারা মনে করেন সাংবাদিকদের আর সমস্যা কি তারা বাস্তবটা জানেন না, জানার চেষ্টাও করেন না।
সাংবাদিকদের সত্য সন্ধানের তাগিদ অহরহ দেয়া হয়। প্রশ্ন হলো, কোনো সত্য সন্ধান করবেন একজন সাংবাদিক। ব্যক্তি সাংবাদিকের কি আলাদা কোনো অস্তিত্ব আছে? আমি যদি অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন তৈরি করি সেটা প্রচার বা প্রকাশের ক্ষমতা তো আমার নেই। সেটা তো মালিক বা সম্পাদকের হাতে। তার ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে আমার প্রতিবেদন সাংঘর্ষিক হলে সেটা তো কোনো দিন আলোর মুখ দেখবে না।
এক সময় ধনিক গোষ্ঠীর লুটপাটের কাহিনী প্রকাশ করে পাঠকপ্রিয় হয়েছিল সাপ্তাহিক একতা। এখন কি কোনো গণমাধ্যম ধনিক গোষ্ঠীর লুটপাটের কাহিনী ধরাবাহিকভাবে প্রকাশ করবে? আমাদের দেশে ধনিক গোষ্ঠী তো গড়েই উঠেছে লুটপাটের মাধ্যমে। লুটেরা পুঁজির মালিকরাই তো এখন দেশের রাজনীতি ও অধিকাংশ গণমাধ্যমের নিয়ন্তা। গণমাধ্যমের মালিকানা এবং পরিচালনার হাত বদল না হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা একটি অলীক কল্পনা হয়েই থাকবে। আর সাংবাদিকদের বেঁচে থাকার মতো বেতন-ভাতা নিশ্চিত না করে তাদের কাছে সৎ সাংবাদিকতা আশা করাও দুরাশা। কারণ এখন ‘সেই সত্য রচিবে যা তুমি, ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি, তব মনোভূমি রামের জন্মস্থান, অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো’।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই এই কথা বলা হচ্ছে এবং তা গণমাধ্যমে তা প্রচার ও প্রকাশ হচ্ছে। কী এমন কথা, কার মনে আছে যা তিনি বলতে পারছেন না? হ্যাঁ, কিছু মামলা-গ্রেপ্তারের মতো নিন্দনীয় ঘটনা ঘটছে, কারো কারো মধ্যে কিছু অসহিষ্ণুতা দেখা যাচ্ছে। এটা সেই ‘রাজা যত বলে পরিষদ দলে, বলে তার শতগুণ-এর মতো নয় তো? ধরে আনতে বললে বেঁধে আনার ঘটনা অনেক সময়ই ঘটে। তবে নির্যাতন-নিবর্তনের একটি ঘটনাও সমর্থনযোগ্য নয়। তুচ্ছ কারণে জেলজুমুমের শিকার হতে হলে সেটা মানা যায় না। পেছন দিয়ে হাতি চলে যাবে, আর সামনে সুই দেখলে হৃদকম্প হওয়াটা ভালো লক্ষণ নয়। সরকারে থাকলে সমালোচনা সহ্য করার মানসিক শক্তিও থাকতে হবে। হঠাৎ হঠাৎ মাথা গরম করা ঠিক না।
গণমাধ্যম ও সাংবদিকদের সমস্যা নিয়ে বলার মতো কথা অনেক আছে। তবে আলোচনাটা বেশি দীর্ঘ হলে অনেকের কাছেই বিরক্তিকর মনে হতে পারে। এক কথায় এটাই বলা যায় যে, দেশে কর্মরত সাংবাদিকদের অধিকাংশ এখন নানা ধরনের সংকটে জর্জরিত। তাদের বেশির ভাগের চাকরির নিশ্চয়তা নেই। চাকরি চলে গেলে তাদের শূন্য হাতে বিদায় নিতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানেই নিয়মিত বেতন দেয়া হয় না। সৎ সাংবাদিকতার পথে সরকার যত না অন্তরায় সৃষ্টি করে, তার চেয়ে বেশি বাধা তৈরি করে মালিক পক্ষ। এটা নিয়ে কেউ বিতর্ক করতে পারেন, কিন্তু তাতে বাস্তব অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। সাংবাদিকদের যতক্ষণ পর্যন্ত বেঁচে থাকার মতো সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত গণমাধ্যম মানসম্পন্ন হবে না। সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার দেখাও পাওয়া যাবে না।
শত ফুল ফুটতে দেয়ার নীতি অনুসরণ করে দেশে অসংখ্য সংবাদমাধ্যমের জন্ম হয়েছে। তবে এগুলোর কয়েকটি ছাড়া বাকিগুলো এখন নানা ব্যাধিতে ধুঁকছে। খামখেয়ালিপনার কারণে গণমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েছে, সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত মান অর্জনের সক্ষমতা রয়েছে অধরা। এখন দেশের অনেক গণমাধ্যম চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। এই সংকট কাটানোর উপায় নিয়ে কারো কোনো গভীর চিন্তা আছে বলে মনে হয় না। আর্থিক সংকট দূর না হলে কীভাবে এগুলো চলবে?
আর্থিক সংকট দূর করার উপায় আয় বাড়ানো। আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। সরকারি বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করে এত এত ‘মিডিয়া’ চলবে না। আবার বেসরকারি বিজ্ঞাপন পেতে হলে যে সার্কুলেশন থাকা দরকার তা-ও অনেক পত্রিকার নেই। বেশিরভাগ পত্রিকাই আসলে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই। গ্রামবাংলায় একটি কথা চালু আছে ‘তোলা দুধে পোলা বাঁচে না’।
গণমাধ্যমের সংকট কাটাতে হলে আবেগী এবং তাত্ত্বিক কথাবার্তা না বলে বাস্তবতার আলোকেই সমাধান খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে রোগীর জন্য শল্য চিকিৎসা দরকার তাকে হোমিওপ্যাথি ডোজ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা যাবে কি?
মতলবি বা অসৎ সাংবাদিকতা নতুন কিছু নয়। সাংবাদিক কিংবা সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের চেষ্টাও নতুন কিছু নয়। ১৮৮৪ সালেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারে একটি রহস্যজনক মৃত্যুর খবর ধাপাচাপা দেয়ার জন্য সংবাদপত্রে ‘ঘুষ’ দেয়ার অভিযোগ আছে। তবে অতীতে এসব ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে থাকলেও এখন তা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। লুটেরা পুঁজির মালিক কিংবা পুঁজি গঠনের জন্য লুণ্ঠন প্রবৃত্তি যাদের মধ্যে প্রবল, তাদের হাতে গণমাধ্যমের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকলে ‘সত্য প্রকাশের দুরন্ত সাহস’ দেখানো গণমাধ্যমের পক্ষে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
গণমাধ্যমের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে এখন অনেক কথা হয়। সবাই গণমাধ্যমের কাছে নিরপক্ষতা প্রত্যাশা করেন। এই ‘নিরপক্ষতা’ বিষয়টিও আমাদের দেশে একটি বিশেষ অর্থ বহন করে। এখন অনেকের কাছে নিরপেক্ষতা মানে সরকারের বিরুদ্ধে থাকা। আবার এমন অনেক মানুষও আছেন যাদের কাছে আওয়ামী লীগ বিরোধিতাই হলো নিরপেক্ষতা। সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষে হলে ‘দালাল’ কিন্তু বিএনপি বা আওয়ামী লীগবিরোধী অন্য কোনো দলের সমর্থক হলে তাকে সচরাচর দালাল বলা হয় না, তার অবস্থান নিরপেক্ষ। দেশের মানুষের মনোজগৎ মূলত স্ববিরোধী চিন্তা-চেতনায় ঠাঁসা। মানুষের মধ্যে ধারণাগত স্বচ্ছতা তৈরিতে বা বিশেষ রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটাতে গণমাধ্যম ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। অতীতে সেটা করেছে। ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী সময় থেকে স্বাধীনতার সময়কাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক এবং সংবাদ প্রধানত এই দায়িত্ব পালন করেছে। দেশে বিশেষ রাজনৈতিক ধারা তৈরিতে এই পত্রিকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ‘কারাগারের রোজনামচা’য় লিখেছেন : ‘পূর্ব বাংলার জনসাধারণের জন্য ইত্তেফাক যা করেছে তা কোনো খবরের কাগজই দাবি করতে পারে না। এদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) থেকে বিরুদ্ধ রাজনীতি মুছে যেত যদি মানিক মিয়া এবং ইত্তেফাক না থাকত। একথা স্বীকার না করলে সত্যের অপলাপ করা হবে’। বঙ্গবন্ধু আরো লিখেছেন : ‘ছয় দফার আন্দোলন যে আজ এত তাড়াতাড়ি গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে এখানেও মানিক ভাইয়ের লেখনী না হলে তা সম্ভব হতো কিনা তাহা সন্দেহ’।
আমাদের দেশে গণমাধ্যম এখন আর জনমত গঠনে ভূমিকা পালন করাকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে না। প্রতিটি গণমাধ্যমের মালিক-সম্পাদকদের হয়তো একটি রাজনৈতিক পরিচয় আছে তবে সেটা গণমাধ্যম পরিচালনায় বড় ভূমিকা পালন করে না। ব্যবসায়িক স্বার্থই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে। জনমত গঠন নয়, জনমতকে বিভ্রান্ত করাই বেশিরভাগ গণমাধ্যমের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার এই বক্তব্য নিয়েও হয়তো কেউ কেউ বিতর্ক করবেন কিন্তু নির্দিষ্ট করে একটি গণমাধ্যমের নামও বলতে পারবেন না, যে গণমাধ্যম বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের জন্য লাগাতার কাজ করছে। সংবাদ পরিবেশন এমনকি উপসম্পাদকীয় কলামে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রেও অনুদারতার চরম প্রকাশই দেখা যায়। কোনো না কোনো কোটারি স্বার্থের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা বা প্রবণতা কোনোটাই লক্ষ করা যায় না।
এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। গণমাধ্যমকে জনস্বার্থের অনুকূল করতে হলে বর্তমান মালিকানা কাঠামোয় সেটা সম্ভব হবে না। তাহলে পথ কি? উপায় কি? আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, প্রকৃত গণউদ্যোগে যদি পেশাদারি মনোভাব নিয়ে গণমাধ্যমের জন্ম দেয়া যায় তাহলে একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার ধারা তৈরি হতে পারে। এখানেও প্রশ্ন আসবে, এমন উদ্যোগ কার্যকর করা কি আদৌ সম্ভব? আমার জবাব : কেন নয়? মানুষের পক্ষে সবই সম্ভব। পথের বাধা যেমন মানুষ তৈরি করে, তেমনি বাধা অপসারণের কাজও মানুষই করে। মন্দের সংখ্যা বেড়েছে, তাই বলে ভালো বিলীন হয়ে যায়নি। এক বা একাধিক মানুষের সৎ ও আন্তরিক উদ্যোগ গণমাধ্যমে নতুন প্রাণপ্রবাহ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়