অধ্যাপক সাইদা হত্যা : গ্রেপ্তার আনারুলের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

আগের সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপ : নির্বাচন কমিশন গঠনে ৪ প্রস্তাব

পরের সংবাদ

শাবি বন্ধ ঘোষণা : শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সিলেট ব্যুরো : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজ সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। পরে সন্ধ্যায় উপাচর্যকে উদ্ধার করতে হলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছ। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্য, ১০ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৫ জন শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তিন দফা দাবিতে গতকাল সকালেও আন্দোলন চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে অবস্থান নিয়ে তারা দাবি আদায়ের পক্ষে বিভিন্ন সেøাগান দিচ্ছিলেন। বিকাল ৩টার দিকে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক জহির উদ্দিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলশি কুমার দাস। তারা দাবি পূরণের বিষয়ে সময় চাইলে আন্দোলনরতরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
একই সময়ে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। সে সময় তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় উপাচার্য আইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরাও আইসিটি ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিকাল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
এ ঘটনার পর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এর মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টার দিকে আইসিটি ভবনের গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে গিয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে বের করে তার বাসভবনের দিকে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ডাকে পুলিশ সেখানে যান এবং বিক্ষোভকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়লে তিনিসহ পুলিশের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষও।
আন্দোলকারীরা জানিয়েছেন, তাদের অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে হলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনাকে কেন্দ্র করে প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিরোধ দেখা দেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে বৃহস্পতিবার রাত ২টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলন করেন। পরে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে শুক্রবার থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন আন্দোলনরত ছাত্রীরা। তবে এর মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন তারা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গতকাল রাতে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়