অধ্যাপক সাইদা হত্যা : গ্রেপ্তার আনারুলের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

আগের সংবাদ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপ : নির্বাচন কমিশন গঠনে ৪ প্রস্তাব

পরের সংবাদ

ভোরের কাগজ-আইসিএলডিএস গোলটেবিলে বক্তারা : উন্নয়ন-শান্তিতে সমৃদ্ধ হবে পার্বত্য অঞ্চল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে দেশের সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এই এলাকা হবে সম্পদ ও শান্তিতে সমৃদ্ধ। এজন্য সংঘাত-সংঘর্ষ ছেড়ে সরকার ও স্থানীয়দের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শান্তিচুক্তির দুই দশকে আমাদের হিসাব করতে হবে- পার্বত্য এলাকায় আগে কী উন্নয়ন হয়েছিল, আর এখন কতটা উন্নয়ন হচ্ছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তি হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলের ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। তবে নি¤œ আয়ের মানুষের উন্নয়ন হচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। আর যারা শান্তি ফেরাতে বিরোধিতা করছে, চাঁদাবাজি করছে, তাদের স্বার্থ কী সেটাও দেখতে হবে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল আমারিতে ভোরের কাগজ ও আইসিএলডিএসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন : একুশ শতকে পার্বত্য চট্টগ্রাম’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আইসিএলডিএসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জমিরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইসিএলডিএসের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল অব. মো. আবদুর রশীদ। সঞ্চালনা করেন ভোরের কাগজ সম্পাদক এবং আইসিএলডিএসের পরিচালক শ্যামল দত্ত। বক্তব্য রাখেন- সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, আইসিএলডিএসের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, বান্দরবান উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যাশৈহ্লা মারমা, সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) এম আসহাব উদদীন এনডিসি, মেজর জেনারেল (অব.) আলাউদ্দিন এম এ ওয়াদুদ বীরপ্রতীক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব আনাম খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সাইদুর রশিদ সুমন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআই পরিচালক ফারাহ্ মাহমুদ তৃণা, ব্যারিস্টার মিতি সানজানা, ব্যারিস্টার তাসমিয়া নাহিয়া আহমেদ, এডভোকেট ইকবাল করিম, আমেরিকান অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি নুসরাত ফিরোজ আমান, এক্টিভিস্ট অনন্ত ধামাই, বান্দরবানের বাসিন্দা অমর জ্যোতি চাকমা ও ফিলিপ ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটির বাসিন্দা দিবাকর দেওয়ান ও হাবিব আজম এবং খাগড়াছড়ির বাসিন্দা মাইন উদ্দিন ও দীপন চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান প্রথম থেকেই পরিষ্কার। এরই ধারাবাহিকতায় পার্বত্য শান্তিচুক্তি হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলের ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রধান সমস্যা ভূমি বিরোধ সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে যে প্রকল্পগুলো আসছে সেগুলো ত্বরিত গতিতে পাস হওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমি মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্টরা ও আওয়ামী লীগ সরকার দৃশ্যমান উন্নয়ন করতে সমন্বিতভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অচিরেই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নের দিক থেকে সমৃদ্ধি ও শান্তিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের বোঝা নয়, এ অঞ্চল সম্পদ ও শান্তিতে সমৃদ্ধ। তবে শান্তি ও সমৃদ্ধির সুফল পেতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সফরে গিয়েছিলেন এবং পিছিয়ে পড়া জনগণকে এগিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তারই অংশ হিসেবে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড গঠন করেন। সরকার এই অঞ্চলকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করে কাজ করছে। বন্দুক দিয়ে যে সমস্যার সমাধান করা যায়নি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে তা সমাধান করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। কোনো কমিটি একটু বেশি সক্রিয় আবার অন্যটা কিছুটা কম। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। চুক্তির কোথাও উল্লেখ নেই পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হলে খুনোখুনি, হত্যা, নির্যাতন, গুমের মতো ঘটনা ঘটাতে হবে। এটি একটি দলিল। আজ হোক কাল হোক পূর্ণাঙ্গভাবে তার বাস্তবায়ন হবে। অস্ত্র জমা দিয়ে শান্তি চুক্তি করার পরেও অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখানো সম্পূর্ণ অবৈধ।
সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সরকারের উচিত, ২০ বছরের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো। পাশাপাশি সেখানকার নারীরা খুব পরিশ্রমী ও মেধাবী। কীভাবে তাদের উন্নয়ন ঘটানো যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
মোহাম্মদ জমির বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে, সহিংসতা নয় সহনশীলতার মাধ্যমে এগোতে হবে। সহায়ক ভূমিকা পালন করে সামগ্রিকভাবে কাজ করলে সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
আব্দুল মান্নান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বয়স ৫০০ বছরের পুরনো এবং বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এ অঞ্চলের। এত বছর পরও কেন আমরা সম্প্রীতির আলোচনা করছি, এটা ভেবে দেখতে হবে। তবে বর্তমান সরকারের এক যুগে পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে, তাতে অবহেলিত অঞ্চলগুলোও সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে- উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে অবশ্যই শান্তি সম্প্রীতি সৌহার্দ্য নিশ্চিত করতে হবে।
মেজর জেনারেল (অব.) মো. আবদুর রশীদ, শান্তির বার্তা নিয়ে দুই যুগ আগে চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তির ফলে শান্তি ফিরে এসেছে, তবে আরো শান্তির জন্য সকলকে কাজ করতে হবে। আগে শান্তি বাহিনীর সঙ্গে আর এখন স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই আছে। এসব সমস্যার কারণ নির্ধারণ করে অধিকতর শান্তির পথ খুঁজতে সকলকে কাজ করতে হবে।
ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, দুই যুগের রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামিয়ে ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তিতে মূল ভূমিকা রাখে আওয়ামী লীগ সরকার। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর সেখানকার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন যেমন সম্ভব হয়নি, তেমনি থামেনি সশস্ত্র সংঘাত। এখনো সেখানকার অনেক মানুষ খুন ও গুমের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি বাঙালিদের সঙ্গে পাহাড়িদের সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও অনেকটা দূরত্বও রয়ে গেছে। এই দূরত্ব কমিয়ে প্রতিবেশী সুলভ সম্প্রীতির সম্পর্কের মেলবন্ধন ঘটানোই বড় চ্যালেঞ্জ।
নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সম্প্রীতি এখনো আসেনি। যা খুবই দরকার। উন্নয়ন করা হয়েছে তবে এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে। বাংলাদেশের যে ১৫টি জেলা দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে তার মধ্যে পার্বত্য জেলা রয়েছে। এই এলাকার উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক মন্ত্রণালয় এবং ভূমি কমিশন গঠন করা হলেও নানা কারণে তা পূর্ণাঙ্গ কাজে আসছে না।
নিখিল কুমার চাকমা বলেন, পার্বত্য এলাকায় একটা থমথমে পরিবেশ ছিল যার স্থায়ী সমাধানের জন্য শান্তিচুক্তি করা হয়। বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি ও বাঙালি সমান সমান। তবে জনসংখ্যার ভারসাম্যের দিকটাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় যেভাবে চাষাবাদ হচ্ছে তাতে আর বেশিদিন নয় যেদিন পাহাড় বোঝা নয়, সম্পদে পরিপূর্ণ হবে।
এম আসহাব উদদীন বলেন, শান্তিচুক্তির আগে ও পরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তবে আদিবাসীদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে না পারলে শান্তি আনা সম্ভব নয়। পার্বত্য এলাকার সমাজ, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতি সমতলের থেকে আলাদা। তাই তাদের শান্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে।
ক্যাশৈহ্লা মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। সামগ্রিকভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সড়কের উন্নয়ন হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ যাচ্ছে। জুমের পরিবর্তে আধুনিক চাষাবাদ হচ্ছে। তবে আমার কাছে মনে হয়, প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। উন্নয়ন করতে গিয়ে অনেক গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর প্রথাগত আইনের সঙ্গে দেশের প্রচলিত আইন যেন সাংঘর্ষিক না হয় সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।
অমর জ্যোতি চাকমা বলেন, পার্বত্য এলাকায় শান্তির অন্যতম উদ্দেশ্য সম্প্রীতি স্থাপন করা। এই এলাকায় অশান্তি রেখে সারাদেশে শান্তি থাকতে পারে না। হারানোর বেদনা থেকে বেরিয়ে এসে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
ইকবাল করিম বলেন, পাহাড়ে বসবাসকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য যদি বজায় রাখা যায়, তাহলে শান্তি আনার সহজ হবে। তাই আস্থার জায়গা আরো দৃঢ় করতে হবে।
হাবিব আজম বলেন, দুই যুগেও শান্তি-সম্প্রীতি স্থাপিত হয়নি। সরকার ধাপে ধাপে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করছে। যারা শান্তি চায় না তারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বাধা দিয়ে আসছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দিনেও হরতাল ডাকা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে একজনকে। তাই শান্তি স্থাপনে উভয়পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে।
অনন্ত ধামাই বলেন, শান্তি তখন প্রতিষ্ঠিত হবে যখন সংঘাত থেমে যাবে। খুন-চাঁদাবাজি-অরাজকতা কাদের ইন্ধনে হচ্ছে, তা আমরা কখনোই খুঁজে বের করি না। রাস্তাঘাট-পর্যটন কেন্দ্র করলেই উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ভালো থাকতে না পারবে।
মাইন উদ্দিন বলেন, পার্বত্য এলাকার জনগণকে কি আমরা বাংলাদেশের মানুষ ভাবতে পারব না? সেখানে উন্নয়ন হয়েছে বিধায় আজ আমরা সেখানে বেড়াতে যাই। উন্নয়নের সুফল সবাই না পেলে তা কাজে লাগানো যাবে না।
নুসরাত ফিরোজ আমান বলেন, পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে আনতে হবে। তাদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে যুবকদের বেশি করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
তারিকুল ইসলাম বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা হলে উন্নয়ন জনগণের কাজে আসবে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় যে বিষয়গুলো বাধা সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
দীপন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শুধু রাস্তা কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলে হবে না। উন্নয়ন প্রকল্পের পরে সেখানকার মানুষ কি অবস্থায় আছে সেদিকে জোর দিতে হবে।
প্রফেসর ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, শান্তিচুক্তি হয় ভাঙার জন্য। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে শান্তিচুক্তি এখনো অক্ষত রয়েছে। সেই সঙ্গে উন্নয়নের রোল মডেল হতে চলেছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামকে এক সময় বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাবা হতো। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ, এই আদর্শে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।
এম এ ওয়াদুদ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে উন্নয়ন সবার কাছে পৌঁছাতে হবে। না হলে, অশান্তি লেগেই থাকবে। তবে রোহিঙ্গারা পার্বত্য অঞ্চলের জন্য বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাদের মাধ্যমে যদি এই এলাকাগুলোতে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক বিস্তার লাভ করতে থাকে, তাহলে শান্তি ফেরানো কঠিন হবে।
সাহাব আনাম খান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এই অঞ্চল গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের কাছাকাছি অঞ্চল। সুতরাং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ অঞ্চলের উন্নয়নের বিকল্প নেই। এজন্য স্থানীয় কমিউনিটি ও সরকারের সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটাতে হবে।
মিতি সানজানা বলেন, শান্তিচুক্তিটি রাজনৈতিকভাবে এলাকাটির সংকট নিরসনে প্রথমবারের মতো কোনো উদ্যোগ ছিল। এখনো কিন্তু শান্তিচুক্তির অনেকগুলো বিষয় বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা রয়েই গেছে। এ বিষয়টি সমাধানের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফিলিপ ত্রিপুরা বলেন, এক সময় বান্দরবান থেকে থানচি যেতে ৩ দিন, আসতে ৩ দিন লাগত। এখন ২ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে পৌঁছানো যায়। এটিই উন্নয়নের সুফল। তবে রোহিঙ্গা বিষয়টি এ অঞ্চলে করোনার মতো ছড়াতে পারে। এজন্য বিষয়টিতে নজর দিতে হবে।
তাসমিয়া নাহিয়া আহমেদ বলেন, সম্প্রীতি স্থায়ী করার জন্য সরকারের আন্তরিকতা আছে। অন্যপক্ষকেও এ বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে।
দিবাকর দেওয়ান বলেন, এক ধরনের ফুল দিয়ে যেমন বাগান হয় না, তেমনি সম্প্রীতি বাদ দিয়ে উন্নয়ন কল্পনা করা ঠিক নয়। সমভাবে যদি উন্নয়ন না হয়, তাহলে একপক্ষ আরেকপক্ষকে ভালোবাসবে, কিন্তু অন্যপক্ষের খোঁজ থাকবে না। ফলে শান্তিও ফিরবে না।
সাইদুর রশিদ সুমন বলেন, পাবর্ত অঞ্চলের বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর আইনগুলো এবং তাদের সামাজিক সংস্কৃতি বজায় রেখে নানামুখী উন্নয়ন সম্ভব। উন্নয়ন করার সময় এ বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে হবে।
ফারাহ্ মাহমুদ তৃণা বলেন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের পরিচয় ধরে রাখতে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য পার্বত্য অঞ্চলকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়