সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

সাকরাইন উদযাপনে বাহারি ঘুড়ি ও উদ্দাম ডিজে পার্টি : অতিষ্ঠ হয়ে ৯৯৯-এ অভিযোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

রকি আহমেদ, জবি : ভোরের কুয়াশা ভেদ করে রাঙা সূর্য ওঠার আগেই গতকাল শুক্রবার পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় আকাশ ছেয়ে যায় বাহারি রং-বেরংয়ের ঘুড়িতে। এরপর সারাদিন চলে একজন আরেকজনের ঘুড়ি কাটার আনন্দে। ছিল পিঠাপুলির আনন্দে মাতামাতিও। এরপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে ডিজে পার্টির তালে তালে ও রঙিন লেজার আলোতে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা।
পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ, মুরগিটোলা, কাগজিটোলা, গেন্ডারিয়া, বাংলাবাজার, ধূপখোলা মাঠ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, শাঁখারীবাজার, সদরঘাট, কোট-কাচারি, তাঁতিবাজার, সূত্রাপুর, বকশিবাজার, শিংটোলাসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুড়িসহ জাঁকালোভাবে সাকরাইন উৎসব পালন হতে দেখা যায়। এর আগে সাকরাইন উৎসবকে ঘিরে বেশ কিছু দিন আগে থেকেই পুরান ঢাকার বিভিন্ন অলি-গলিতে চলছিল ঘুড়ি, নাটাই ও সুতা বেচাকেনার ধুম। ছাদভর্তি ছিল পুরোদমে রোদে সুতা শুকানোর কাজ।
পুরান ঢাকাবাসী জানান, বারো মাসে তেরো পার্বনের এদেশে পৌষ মাসের শেষ দিন সাকরাইনে নতুন ধানের চালের পিঠাপুলি খেয়ে ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ-উৎসব করার রেওয়াজ। এই দিনে জামাই এলে হাতে তুলে দেয়া হয় ঘুড়ি। পুরান ঢাকার মানুষ এ উৎসব পালন করে আসছে প্রায় ৪০০ বছর ধরে। তবে এখন আর আগের মতো সবার ঘরে ঘরে পিঠা তৈরি হয় না। ডিজে গান আর আতশবাজি ফুটানোর মতো আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে এখনকার

সাকরাইনে। তবে এখনো কিছু কিছু ঘরে সেসময়ের রেওয়াজ ধরে পিঠা তৈরি করে। পিঠার সংস্কৃতিটা কমে গেলেও অন্যান্য সংস্কৃতির মতো ঘুড়ি উড়ানোর মতো উৎসবে পিছিয়ে নেই এ প্রজন্মের তরুণরাও।
গাজীপুর থেকে পুরান ঢাকায় গত কয়েক বছরের ন্যায় সাকরাইন দেখতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নিহাল আহমেদ বলেন, উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে পুরান ঢাকা। এখানে সাকরাইন উৎসবে ঘুড়ি উড়ানো দেখতে এলেই ভালো লাগে। রাতে থাকে জমকালো উৎসব। তাই বন্ধুদের সঙ্গে উৎসব দেখতে এসেছি।
এদিকে সাকরাইনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ডিজে পার্টির উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। আবার অনেকে থানায় যোগাযোগ করেন। এমনই একজন জগন্নাথ বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পরীক্ষা চলছে কিন্তু শব্দে পড়া যাচ্ছে না। তাই ৯৯৯-এ কল করি। তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয় জানানো হয়। তারা স্থানীয় থানার নম্বর দিয়ে পুলিশের সাহায্য নেয়ার পরামর্শ দেয়। সামিরা ইসলাম নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ভোরের কাগজকে বলেন, পরীক্ষা পরশু দিন। সারা পুরান ঢাকায় শব্দ। বাসায় পড়তে না পেরে ক্যাম্পাসের লাইব্রেরিতে এসেছিলাম কিন্তু এখানেও শব্দ। থানায় ফোন করেও লাভ নেই।
সূত্রাপুর থানায় অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলী বলেন, এমন অভিযোগ অনেক এসেছে। অনেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানাচ্ছে। কিন্তু সারা এলাকাজুড়ে থামানো কষ্ট। এদিকে সম্প্রতি ইংরেজি নববর্ষে দুর্ঘটনা ঘটায় বিগত বছরের ন্যায় এবারো সাকরাইনে ফানুস ও আতশবাজি ছিল কম। কিছু আতশবাজি ফুটলেও ফানুসের তেমন দেখা মেলেনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়