সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

রাজমিস্ত্রি গ্রেপ্তার, খুনের দায় স্বীকার : লুট করতে ঢাবির অধ্যাপক সাঈদা গাফফারকে খুন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

এম নজরুল ইসলাম, গাজীপুর : নিখোঁজের তিন দিন পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর এলাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাঈদা গাফফারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কাশিমপুরের পানিশাইল এলাকায় অবস্থিত ঢাবির আবাসন প্রকল্পের ভেতরে একটি জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের নির্মাণাধীন বাড়ির কন্টাক্টর রাজমিস্ত্রি আনারুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, বাসাটি থেকে লুটপাট করতে গত মঙ্গলবার তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাশের জঙ্গলে ফেলে দেয়া হয়। এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় আনারুলের সহযোগী শ্রমিকরাও। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
একাধিক সূত্র জানায়, নিহত সাঈদা গাফফার ঢাবির সাবেক অধ্যাপক মৃত কিবরিয়াউল খালেকের স্ত্রী। ২০১৬ সালে ঢাবি থেকে অবসর নেন সাঈদা গাফফার। পানিশাইল এলাকায় অবস্থিত ঢাবি শিক আবাসন প্রকল্পের ভেতরে বাড়ি নির্মাণ করার সুবাদে তিনি গত ১১ মাস আগে স্থানীয় মোশারফ মৃধার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করেন। তার সঙ্গে আর কেউ থাকতেন না। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তার ছেলেমেয়েরা কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। পরে তার মেয়ে সাহিদা আফরিন গত বৃহস্পতিবার কাশিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান জানান, জিডি করার পর নির্মাণাধীন বাড়ির প্লটে গিয়ে খোঁজখবর নেয়া হয়। পরে ওই প্লটে কর্মরত রাজমিন্ত্রী আনারুলকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যমতে প্লট থেকে ২০০ গজ দূরে একটি জঙ্গল থেকে সাঈদা গাফফারের মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত রাজমিস্ত্রী আনারুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন সাঈদা গাফফারের হাতে টাকা দেখে সে ছিনিয়ে নিতে চায়। এ সময় সাঈদা গাফফার চিৎকার দিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায় আনারুল ও তার সহযোগীরা।
কাশিমপুর থানার ওসি মাহবুব-এ খোদা বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজমিস্ত্রি আনারুল ইসলামকে গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর থানার বুজুর্গ

জামালপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অধ্যাপক সাঈদা গাফফারের বাড়ি থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লুটে নেয়া হয়েছে। আরো কী কী মালামাল নেয়া হয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
কাশিমপুর থানা সূত্রে জানা যায়, সাঈদার প্রজেক্টের কন্টাক্টর ছিলেন গ্রেপ্তারকৃত রাজমিস্ত্রি আনোয়ার। বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় আনোয়ার নিহত অধ্যাপকের ছেলের মোবাইলে ফোন করে জানান, বাসার দরজা খোলা এবং সাঈদা ম্যাডামকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। রাত সোয়া ৯টায় তার ছেলে ও মেয়ে সাদিয়া আফরিন সেই বাসায় গিয়ে তার মাকে কোথাও খুঁজে পাননি। পরে সাদিয়া আফরিন কাশিমপুর থানায় এ সংক্রান্ত জিডি করেন।
এ বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, অধ্যাপক সাঈদা গাফফার পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি অবসর জীবনযাপন করছিলেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়