সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

যেখানে দরকার সেখানে তদবির চালাবে সরকার : লবিস্ট নিয়োগ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য দেশের স্বার্থে যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানেই বাংলাদেশ তদবির চালাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ দেয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে বাংলাদেশ তাদের ব্যবহার করবে। আমাদের দেশে এটিকে আমরা তদবির বলি। যেখানে দরকার হবে সেখানে আমরা এই তদবির চালাব। দেশেও তো কাজ করতে গেলে অনেক সময় তদবির লাগে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল এন্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে (বিলিয়া) এক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১০ ডিসেম্বর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সময়সাপেক্ষ এবং জটিল হবে ধারণা করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সামনে রেখে দেয়া এ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে বাংলাদেশ সরকারের নানামুখী তৎপরতা চালাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থানরত মার্কিন নীতিবিশ্লেষক প্রশান্ত পরমেশ্বরণ

বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা এবং এটি প্রত্যাহারের ব্যাপারটি মার্কিন স্বার্থ এবং ভূরাজনৈতিক জটিল সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, বিধিনিষেধ আরোপ সহজে হলেও এটি প্রত্যাহার বেশ কঠিন- বিশেষ করে ট্রেজারি যখন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করে দেয়। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অর্থ- এটি মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ লাগবে। এছাড়া যেহেতু আরো কিছু দেশের সঙ্গে একসঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তাই এটি অন্যান্য দেশের সঙ্গে একত্রে পর্যালোচনা করতে হবে। আমি মনে করি এটি হলো বড় চ্যালেঞ্জ।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আরোপ কিংবা প্রত্যাহার করতে লবিং কতটা কাজ করছে- সেটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিশ্লেষক ড. সাঈদ ইফতেখার আহমেদ। তিনি বলেন, যে আদর্শিক এবং কৌশলগত অবস্থান থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসেছে সেখানে লবিস্ট নিয়োগ করে বাইডেন প্রশাসনকে প্রভাবিত করা কোনো পক্ষের জন্যই সহজ কাজ হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আমার যে দীর্ঘ অবজারভেশন সেখানে মনে হয়েছে লবিস্টদের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি বলেন, লবিস্টদের দ্বারা যে জিনিসটা হয়েছে যে আপনার যে কনসার্নটা এখানকার রাজনীতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থাটা সম্পর্কে একটা ব্রিফ তাদের কাছে যাচ্ছে। এর বাইরে খুব বড় দাগে কোনো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন হয় বা হবে বলে আমার কাছে কখনোই মনে হয়নি।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে লবিস্ট নিয়োগ : মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুঁজি করে বাংলাদেশে সরকারবিরোধীরা জনমত গড়ে তুলতে চাইছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে তৎপর হয়েছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রয়োজনে সেখানে লবিস্ট নিয়োগেরও পরামর্শ দেয়ার খবর বেরিয়েছে।
জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি এসব বলতে পারব না। লবিস্ট নিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাধারণ প্র্যাকটিস। বাংলাদেশ ২০১৩-১৪ সালে লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছিল। ওরা কাজ করছে। তিনি বলেন, সময় সময় আমাদের অনেক ধরনের দুর্যোগ আসে। আমরা সেগুলো সমাধান করি। এখনো একটা হয়তো অসুবিধা আসছে। কিন্তু আমরা এটা সমাধান করতে পারব। আমেরিকানরা পরিপক্ব জাতি। তারা দেখবে। যদিও র?্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে গত কয়েক বছরে সন্ত্রাস কমেছে। এটা তাদের নিরপেক্ষ সমীক্ষা। সেগুলো নিয়ে তারা চিন্তাভাবনা করবে। পৃথিবীজুড়ে সন্ত্রাস দূর করা ও সন্ত্রাসীদের ধরা তাদের লক্ষ্য। মাদক ও মানবপাচার কমানো তাদের লক্ষ্য। র?্যাব এগুলো সফলভাবেই করছে। এ কারণেই র?্যাব জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। আমার মনে হয় সবাই এটা বুঝবে। তখন হয়তো অবস্থার পরিবর্তন হবে।
মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক কারণে এ দেশ সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্রে অনেক ধাক্কা আসে। সব গণতন্ত্রেই অপরিপূর্ণতা আছে। এটা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমরা দিনে দিনে পরিপক্বতা অর্জন করেছি। আমেরিকা পরিপক্বতা অর্জন করার মধ্যেও ধাক্কা খায়। এ ধরনের ধাক্কাটাক্কা আসে। কোথাও দুর্বলতা থাকলে আমরা অবশ্যই তা দূর করার চেষ্টা করব।
সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, আমেরিকাতে লবিস্ট নিয়োগের একটা কালচার আছে, সেই লবিস্ট নিয়োগ করে আমেরিকান সরকারকে বুঝাতে হবে। আর ব্যক্তিদের ওপরে যে নিষেধাজ্ঞা সেটি প্রত্যাহার চেয়ে আমেরিকা সরকারের কাছে আপিল করতে হবে।
বাংলাদেশের সামনে পথ কী : বাংলাদেশে যে ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে সেটি প্রত্যাহারে করণীয় কী হবে- সেটি নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। এ অঞ্চলের ভূরাজনীতি এবং বাইডেন প্রশাসনে নীতিগত অবস্থানের দিকটি তুলে ধরে প্রশান্ত পরমেশ্বরণ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা এবং সম্পর্ক উন্নয়নই হবে একটা বড় উপায়। এশীয় প্রশান্ত অঞ্চলে বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার কী- সেখানে বাংলাদেশকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে চীনের ব্যাপারে। আঞ্চলিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতার মতো বহু বিষয় বাইডেন প্রশাসন আলোচনার টেবিলে আছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার ব্যাপার আছে।
অন্যদিকে ড. সাঈদ ইফতেখার আহমেদ বলছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে এখন দক্ষ কূটনীতিই ভরসা। তিনি বলেন, স্ট্রিকট কোনো রুল নেই যে ঠিক এটা এটা করলে প্রত্যাহার হবে বা এটা হলে প্রত্যাহার হবে না। বিষয়টা অনেকটা সে রকম নয়। নির্ভর করছে বাংলাদেশ কতটা কূটনৈতিক তৎপরতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চালাতে পারছে এবং বাংলাদেশ তার অবস্থানে থেকে কতটা নেগোশিয়েট করতে পেরেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ।
নিষেধাজ্ঞার পর বন্দুকযুদ্ধে কেউ মারা যায়নি : মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এক মাসে দেশে কেউ বন্দুকযুদ্ধে মরেনি। মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ বাস্তবতায় র?্যাবের কার্যক্রমে একটা সংস্কারের সুযোগ আছে বলেও মনে করেন সাবেক আইজিপি শহীদুল হক। তিনি বলেন, সংস্কার করতে হলে বেপরোয়াভাবে যেন কিছু না হয়। সবকিছু কন্ট্রোলের মধ্যে রাখতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়