সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

বদলে গেছে ‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি’

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কামরুজ্জামান খান ও অনতু রেজা : চেহারা আমূল পাল্টেছে ‘প্রাচ্যের ড্যান্ডি’খ্যাত বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জের। যানজট, জলজট ও আবর্জনার দুর্গন্ধের ভোগান্তি নগরবাসীর জন্য বিষফোঁড়া হলেও এর পুরনো রূপ বদলাতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে একের পর এক প্রকল্প। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ছোট-বড় শতাধিক প্রকল্প। আরো কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর গত এক দশকে নগরীর চেহারায় যে পরিবর্তন এসেছে অনেকের কাছে তা এক বিস্ময়। কয়েক’শ বছরের পুরনো এই শহরে রাতের অন্ধকার দূর হয় এলইডি বাতিতে। সড়কের পাশে সবুজের সমারোহে জ¦লে রঙিন বাতি। শিশুদের খেলার মাঠ-পার্ক অবারিত। নির্মাণ হয়েছে ওয়াকওয়ে। খাল উদ্ধার হওয়ায় পানিপ্রবাহ বেড়েছে। আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে মসজিদ-মন্দির ও শ্মশানের পুরনো চিত্র। সৌন্দর্যবর্ধনে ভাস্কর্য নির্মাণ স্থাপন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। শিল্প সংস্কৃতির বিকাশে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক মানের স্থাপনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ১২টি আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মাসদাইরে শ্মশান ও বৌদ্ধদের সৎকার স্থান আধুনিকায়ন, শেখ রাসেল পার্ক ও পার্কের পাশে লেক নির্মাণ, বাবুরাইল খাল খনন করে দুই পাড় বাঁধাই করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। বাবুরাইল খাল খননের মাধ্যমে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ধলেশ্বরী নদীর সংযোগ করায় অবাধ পানিপ্রবাহের মাধ্যমে পানি দূষণ রোধ হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঢাকার হাতিরঝিলের আদলে আধুনিক লেক ও লেকের উপরে ওভার ব্রিজ নির্মাণে নগরে সৌন্দর্য বেড়েছে। বন্দর রেললাইন থেকে নবীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করে নারায়ণগঞ্জের পুরনো চেনা সড়কের নতুন পরিচিতি দেয়া হয়েছে। বন্দরের প্রধান সড়কগুলোতে নয়নাভিরাম স্ট্রিট ও গার্ডেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে। আল আমিন নগরে আলী আহমেদ চুনকা স্টেডিয়াম নির্মাণ, শেখ রাসেল পার্কসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি খেলার মাঠ নির্মাণ, নগরীতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়ামসহ আধুনিক পাঠাগার নির্মাণ, নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে আধুনিক এলইডি স্ট্রিট ও গার্ডেন লাইট স্থাপন, পরিত্যক্ত খাল ভরাট

করে প্রশস্ত শহীদ বাপ্পী সড়ক নির্মাণের ফলে নিতাইগঞ্জ এলাকার পরিবেশই বদলে গেছে। জমির মূল্য বেড়েছে ১০ গুণ। কাঠের দোতলা মসজিদের সামনে থেকে ১নং বাবুরাইলের মোড় পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা

সড়ক নামকরণ, নগরবাসীর সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ওয়াসার দায়িত্ব গ্রহণ, নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে এমন কোনো স্থান নেই- যেখানে নতুন রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। সড়ক বিভাজকগুলোতে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বৃক্ষরোপণ, ২নং রেলগেট এলাকায় অবৈধ মার্কেট উচ্ছেদ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য এবং মানুষের বিশ্রামের জন্য মিনিপার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। আবার বিনোদন সুপার মার্কেট উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশনের জমি উদ্ধার এবং সেখানে করপোরেশনের আয় বাড়াতে আধুনিক বহুতল মার্কেট নির্মাণকাজ চলছে। জিমখানা এলাকায় নয়নাভিরাম লেক নির্মাণকাজ চলছে। যা রাসেল পার্কের সঙ্গে যোগ হবে। চলছে আধুনিক চারুকলা ইনস্টিটিউট ভবন ও নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের কার্যালয় নির্মাণ নির্মাণকাজ। কলরব কিন্ডার গার্টেন স্কুল নির্মাণ, দেওভোগে অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত মাতৃসদন নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে কয়েক দিন পূর্বে নামমাত্র মূল্যে কিডনি ডায়ালসিসের সুবিধা দেয়া হয়েছে। আইইটি স্কুল মোড়, খানপুর মোড় এবং ২নং রেলগেট এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ, ১৫ তলাবিশিষ্ট আধুনিক নগর ভবনের ৯ তলা পর্যন্ত নির্মাণ, নাগবাড়ি এলাকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ, পানির ট্যাংকি এলাকায় সিটি করপোরেশনের দখলকৃত জমি উদ্ধার করে মার্কেট ও টানবাজার এলাকায় সিটি করপোরেশনের বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চলমান। সিটি করপোরেশনের আয় বাড়ানোর জন্য পদ্মা সিটি প্লাজা ১, ২, ৩, দোয়েল সিটি প্লাজা ১, ২ নামে বাণিজ্যিক ও আবাসিক বহুতল ভবন নির্মাণ, শত বছরের পুরনো মণ্ডলপাড়া ব্রিজ অপসারণ করে সেখানে উচ্চতা বাড়িয়ে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ, নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড পঞ্চবটিতে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে স্থানান্তর, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে পিডিবির সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক কদম রসুল এলাকা এবং জালকুড়ি এলাকায় যথাক্রমে ৭২ ও ৪৪ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ লেক, মিউচুয়াল ক্লাব, আরবান পার্ক, শেখ হাসিনা বিজ্ঞান কমপ্লেক্স, সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক অফিস, সোনাকান্দা স্টেডিয়াম, পাইকপাড়া কবরস্থান, কাউন্সিলর অফিস, চিলড্রেন পার্ক, বঙ্গবন্ধু পার্ক, ডিআইটি পার্ক, নাগবাড়ি মন্দির, হাজিগঞ্জ ঘাট, মাসদাইর পার্ক রয়েছে আলোচনায়।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাজ করা হয়েছে। নগরীর সৌন্দর্য বাড়াতে নেয়া হয়েছে প্রকল্প। এতে নগরীর গুরুত্ব বেড়েছে, বদলেছে রূপ। নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে এগুলো পার হলে নারায়ণগঞ্জ হবে দেশের মডেল শহর। বাণিজ্যিক এই শহরে ঘনবসতি থাকলেও আছে সম্ভাবনার হাতছানি। সঠিক পরিকল্পনা করে টুরিস্টদের আকৃষ্ট করতে সাজাতে উদ্যোগ নেয়া হলে বন্দর নগরীর গুরুত্ব আরো বাড়বে বলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়