সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

‘দেশ’ পত্রিকার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে উপেক্ষিত ইন্দিরা গান্ধী!

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকাকে মোদী সরকার ‘সচেতনভাবে’ উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ ডিসেম্বর এ নিয়ে প্রথম অভিযোগ তোলেন দেশটির কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। দেরাদুনে এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘আজ দিল্লিতে বাংলাদেশ যুদ্ধ নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে ইন্দিরা গান্ধীর কোনো উল্লেখ ছিল না। যে মহিলা এই দেশের জন্য ৩২টি বুলেট খেয়েছিলেন, তার নাম আমন্ত্রণপত্রে ছিল না, কারণ এই সরকার সত্যকে ভয় পায়।’ (সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, ১৬ ডিসেম্বর ২০২১)
এরপর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দেশ পত্রিকার গত ২ জানুয়ারির সংখ্যায় সুমিত মিত্র, দেবাশিস ভট্টাচার্য এবং অগ্নি রায়ের ৩টি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছাপা হয়। আর প্রচ্ছদে ছাপা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধীর ঐতিহাসিক একটি ছবি। ‘ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক’ শিরোনামের নিচে লেখা হয় ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে স্বয়ং ইন্দিরা গাঁধীকে উপেক্ষা করল মোদী সরকার।’ কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে লেখা হয় সম্পাদকীয়ও।
ওই সংখ্যায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে সে সময়ের ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর ভূমিকা অনস্বীকার্য, অগ্রগণ্য। তার অদম্য ও সাহসী উদ্যোগ, কূটনৈতিক দূরদৃষ্টি না থাকলে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ওভাবে ব্যবহার করা যেত না। অথচ ঐতিহাসিক এই ঘটনার সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে অনৈতিহাসিক এক ঘটনা ঘটালেন মোদী সরকার- পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা করলেন ইন্দিরাকেই!’
‘ইতিহাসচেতনা মুছে ফেলার অপচেষ্টা’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘একাত্তরের যুদ্ধের অব্যবহিত আগে তদানীন্তন পূর্বপাকিস্তানে ইয়াহিয়া খানের সেনার বীভৎস অত্যাচার বর্বরতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। পূর্ববঙ্গের এই ঘোর দুর্দিনে ভারতের তৎকালীন সরকার নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকতে পারেননি। নয়াদিল্লির অকুণ্ঠ সহযোগিতা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টা- স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের ক্ষেত্রে এর অস্বীকার কার্যত অসম্ভব। আর সেই সরকারের প্রধান রূপে ইন্দিরা গাঁধীর ভূমিকা তো কখনোই বিস্মৃত হওয়া যায় না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের মতো অটল ব্যক্তিত্ব সেই সঙ্গে ইন্দিরা গাঁধীর অপরাজেয় মনোভাব, এই দুইয়ের মিলিত

ইচ্ছাশক্তি সেদিন পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনীকে পর্যুদস্ত করার শক্তি জুগিয়েছিল।’ এতে আরো বলা হয়, ‘সমগ্র বিশ্বও যদি সেদিন দিল্লির বিপক্ষে অবস্থান নিত, তাহলেও তিনি পিছু হটতেন না। বজ্রের মতো তার সে অবস্থানকে কী করে ভুলে যাওয়া বা উপেক্ষা সম্ভব! অথচ পরিতাপের বিষয়, সেটিই করা হল। নিছক রাজনীতির স্বার্থে। ক্ষুদ্র স্বার্থে। দলীয় রাজনীতির পঙ্কিল আবর্তে নিবদ্ধ করা হল দেশীয় শৌর্যের এক গৌরবময় অধ্যায়কে।’
মোদীর নামোল্লেখ করে এতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশতম বর্ষ নিয়ে তার বক্তৃতা এবং কর্মসূচিতে উহ্য রাখলেন ইন্দিরা গাঁধীর প্রসঙ্গ। … অত্যন্ত সচেতনভাবে এবং পরিকল্পিত উপায়ে ইন্দিরা গাঁধীকে এই প্রসঙ্গ থেকে ব্রাত্য করে রাখা হল।’
সুমিত মিত্রের লেখা প্রচ্ছদ কাহিনী-১ এ বাংলাদেশের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর সম্পর্কে ঐতিহাসিক দিকগুলো তুলে ধরা হয়। ‘বাংলাদেশ, ইন্দিরা এবং ইতিহাসের সত্য’ শিরোনামে ওই লেখায় বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরই ভারতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, ‘ঢাকা আজ এক স্বাধীন দেশের মুক্ত রাজধানী। মানবজাতির স্বাধীনতার পথে জয়যাত্রায় এটি হবে এক উজ্জ্বল মাইলফলক।’ অন্যদিকে, পাকিস্তানি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে বাংলাদেশ ফেরার পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমার এক বিশেষ অর্ঘ্য নিবেদন করার ছিল ভারতের মানুষকে এবং শ্রীমতী ইন্দিরা গাঁধীর মতো মহীয়সী প্রধানমন্ত্রীকে।’ ২০১১ সালে বাংলাদেশের শীর্ষতম ‘স্বাধীনতা সম্মাননা’ পান ইন্দিরা গান্ধী (মরণোত্তর)। সেখানেও ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। এ প্রসঙ্গে সুমিত মিত্র লেখেন, ‘তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ব্যবস্থা করেছিলেন প্রশিক্ষণের, লক্ষ লক্ষ শরণার্থীকে দিয়েছিলেন আশ্রয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নির্মাণ করেছিলেন বিশ্বব্যাপী জনমত। কিন্তু… মোদী এবং তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ যখন গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে সেই দিনের মাহাত্ম্য স্মরণে বলতে উঠলেন, তখন তাদের বক্তব্য সেনাদের শৌর্য সম্পর্কে উচ্ছ¡সিত। কিন্তু যে-নামটি একবারের জন্যও উচ্চারিত হল না, সেটি ইন্দিরা গাঁধীর।’
প্রচ্ছদ কাহিনী -২ এ ‘সচেতন অবহেলা’ শিরোনামে দেবাশিস ভট্টাচার্য লেখেন, ‘…বরং যারা আজ ওই যুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পূর্তি আনুষ্ঠানে ইন্দিরাকে ভুলিয়ে দিতে তৎপর, সেই বিজেপি শাসকদের রাজনৈতিক সংকীর্ণতা এবং ইতিহাসের প্রতি সচেতন অবহেলা দেখে করুণার উদ্রেক হয়। মন বলে ওঠে, হায়। ওরা জানে না, ওরা কী করছেন!’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ইন্দিরা গান্ধীর নাম উল্লেখ না করায় এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ওই দিন সকালে মোদীর টুইট বার্তায়ও ইন্দিরা গান্ধীর নাম উল্লেখ ছিল না। তিনি লিখেছিলেন, ‘আজ ৫০তম বিজয় দিবস। মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনাদের বীরত্ব, আত্মত্যাগের কথা আমার মনে পড়ছে। আর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহসী সেনা জওয়ানদের কথাও মনে পড়ছে। আমরা একসঙ্গে অত্যাচারী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিলাম এবং তাদের পরাজিত করেছিলাম। এই উপলক্ষে ঢাকায় গিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, যা প্রত্যেক ভারতীয়র জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়