এবার রাজধানীতে গাড়িচাপায় সাইকেল আরোহী নিহত

আগের সংবাদ

প্রতিকারহীন মৃত্যুর মিছিল!

পরের সংবাদ

‘জাওয়াদের’ বাগড়া : মেঘলা দিনে ঝলক দেখালেন তাইজুল

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামে মুমিনুল বাহিনী। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর আলো স্বল্পতার কারণে গতকাল ৯০ ওভার পর্যন্ত খেলা সম্ভব হয়নি। প্রথমদিন শেষে ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ৫৭ ওভারে ১৬১ রান সংগ্রহ করেছ। উইকেটে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক বাবর আজম ৬০ ও আজহার আলী ৩৬ রান। তবে মেঘলা দিনে বল হাতে ঝলক দেখিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তিনি দুর্দান্ত স্পিন ঘূর্ণিতে ২ উইকেট শিকার করেছেন। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর কিছুটা উত্তাল। গতকাল সকাল থেকে উপকূলীয় এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ আছে মেঘের ঘনঘটা। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেও। যেহেতু গতকাল আলো স্বল্পতার কারণে প্রথমদিন অর্ধেকটা পণ্ড হয়েছে, সেহেতু আজ ম্যাচের সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হবে। তাছাড়া গতকাল ম্যাচ শুরুর আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। সকাল থেকে আকাশও ছিল ঘন কুয়াশায় ডাকা। দিনের আলো থাকলেও ছিল না সূর্যের দেখা। এরই মধ্যে সাড়ে ১টার দিকে মিরপুরে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে মাঠকর্মীরা দ্রুতই কভার দিয়ে মাঠ ঢেকে ফেলেন। ২৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের খেলা শুরু হয়। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, তিন দিন সারাদেশে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ছিল। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব পড়তে পারে যে কোনো সময়।
তবে যাইহোক ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখার অপেক্ষায় আছেন ঢাকা টেস্টের ভাগ্যে কি আছে। তাছাড়া সাকিবের ফেরার ম্যাচে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের।
এছাড়া গতকাল ঢাকা টেস্টে নিজেদের একাদশে তিন পরিবর্তন করে মাঠে নামে টাইগাররা। যেখানে অভিষেক হয়েছে তরুণ টপঅর্ডার ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়ের। তিনি খেলবেন সাদমান ইসলামের উদ্বোধনী সঙ্গী হিসেবে। ৯৯তম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট অভিষেক হয়েছে জয়ের। এর আগে চট্টগ্রাম টেস্টে অভিষেক হয়েছিল ইয়াসির আলী রাব্বির। তিনি বাংলাদেশের ৯৮তম টেস্ট ক্রিকেটার। কিন্তু চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ইনিংসে মাথায় আঘাত পাওয়ার আগে ভালো ব্যাট করছিলেন। এরপর দ্বিতীয় টেস্টে সাকিব আল হাসান ফেরায় তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে। সাইফ হাসানের অসুস্থতার জন্য অভিষেক হয়েছে জয়ের। তিনি সবশেষ জাতীয় লিগে দারুণ ফর্মে ছিলেন। দলে ডাক পাওয়ার আগে দুই সেঞ্চুরির সঙ্গে দুইটি ফিফটিও হাঁকান। এ সুবাদেই জয় পেয়ে গেলেন টেস্ট ক্যাপ।
এদিকে সৈয়দ খালেদ আহমেদ অনেকটা আলোচনার বাইরে থাকার পর টেস্ট দিয়ে মাঠে ফিরলেন প্রায় আড়াই বছর পর। এর আগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছেন তিনি।
অন্যদিকে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই খেলতে নামে পাকিস্তান। গতকাল টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। ব্যাট হাতে দুই ওপেনার আবিদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিক বেশ ঠাণ্ডা মেজাজে খেলতে থাকেন। আর শুরুর দিকে সুযোগ পেলেও উইকেট শিকার করতে ব্যর্থ হয় টাইগার বোলাররা। এমনকি দুই পেসার ইবাদত ও খালেদের শুরুর আক্রমণে বেশ ধার ছিল। কিন্তু উইকেট নেয়ার মতো ডেলিভারি ছিল কমই। ফলে থিথু হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ পান আবীদ আলী ও আব্দুল্লাহ শফিক। দুই বছরেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে খালেদ শুরুটা ভালো করেছিলেন। প্রথম দুই ওভারে সুইং আদায় করে রান দিয়েছেন মাত্র ৪। কিন্তু তৃতীয় ওভারে অফস্টাম্পের বাইরের আলগা বলে আবীদ আলী তাকে শাসন করেন।
পাকিস্তানের খেলার চিত্র পাল্টে যায় স্পিন আক্রমণ আসতেই। দশম ওভারে মুমিনুল বল তুলে দেন সাকিবের হাতে। আরেক প্রান্তে বোলিংয়ে আসেন তাইজুল। তারা দুজন মিলে চাপ তৈরি করতে থাকেন সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ওপর। পাকিস্তানের দলীয় ৫৯ রানে প্রথম সফলতা পান তাইজুল। তিনি দারুণ এক ঘূর্ণিতে ওপেনার আব্দুল্লাহর অফস্টাম্প উপড়ে ফেলেন। এরপর আবীদ আলীকেও ভেতরে ঢোকানো বলে ইনসাইড এজে বোল্ড করেন বাঁ-হাতি স্পিনার। সাকিব ও তাইজুলের জমাট জুটিতেই এসেছে সাফল্য। ২৩ থেকে ২৮ পর্যন্ত সবকটি ওভারই ছিল মেডেন। আবার ২৯ থেকে ৩১ পর্যন্ত এসেছে মাত্র ৬ রান। দুই বাঁ-হাতির ধারাবাহিক এ আক্রমণে বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু উইকেট ভাগ্য ছিল না বাংলাদেশের।
প্রথম সেশনে সাকিব টানা ১১ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৬ মেডেনে দিয়েছেন ১৬ রান। তাইজুল বিরতির পরও এসে হাত ঘোরান। টানা ১৭ ওভারে তার মেডেন ছিল ৫টি। রান দিয়েছেন ৪৯। তবে এদিন ছন্দ পাননি মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রায় প্রতি ওভারেই বাজে বল করেছে। তাতে সহজেই রান তুলেছেন বাবর আজম। অনেকটা ওয়ানডে স্ট্যাইলে খেলে রান তুলেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। ৯৯ বলে ৬০ রান তুলেছেন ৭ চার ও ১ ছক্কায়। আজহার আলী ছিলেন পুরো রক্ষণাত্মক। ১১২ বলে করেছেন ৩৬ রান। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার।
তবে যাইহোক ঘুমোট আবহাওয়ায় স্পিনাররা সাহায্য পেয়েছিল। তাইজুল ও সাকিব তা কাজে লাগিয়েছেন ভালোভাবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়