লজিক প্রকল্প : রৌমারীতে সোলার পাম্প স্থাপন শুরু

আগের সংবাদ

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি : বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকার ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হবে > ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে

পরের সংবাদ

ছাত্র বিক্ষোভে ফের উত্তাল সড়ক : ২০১৮ সালের আন্দোলনের রেশ > ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : রাজধানীর সড়কে ফের ২০১৮ সালের চিত্র ফিরে আসছে। ওই বছরের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল পুরো ছাত্রসমাজ। প্রায় সপ্তাহখানেক রাজধানীর মূল সড়কগুলো ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণেই। এসময় শিক্ষার্থীরা বাসচালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেছেন, নিয়ন্ত্রণ করেছেন ট্রাফিক ব্যবস্থাও। উল্টো পথে আসা অনেক ভিআইপিকেও গাড়ি থেকে নামিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেছিলেন তারা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরাতে সড়ক আইন সংশোধনসহ নানা উদ্যোগও নিয়েছিল সরকার। ধারণা করা হয়েছিল, এরপর অন্তত সড়কে প্রাণহানি কমবে। কিন্তু বাস্তবে হয়নি কিছুই। তাই সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় সহপাঠী নাঈম হাসানের মৃত্যুর পর ফের লাগাতর আন্দোলনে নেমেছেন রাজধানীর নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সমর্থনে ও সড়কে শৃঙ্খলা আনার দাবিতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও সরব হচ্ছেন, নামছেন রাজপথে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া বাস্তবায়নের আন্দোলনও। সব মিলিয়ে যেন ২০১৮ সালের চিত্রই ফিরে আসছে রাজপথে।
সহপাঠী নাঈম হাসানকে (১৭) ফিরে না পেলেও এমন ঘটনা যেন ফের আর না ঘটে তা নিশ্চিত এবং দোষীদের গ্রেপ্তার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর গুলিস্তান, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, শান্তিনগর, উত্তরা ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন নটর ডেমসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের স্লোগানে রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠে। এমনকি গাড়ির কাগজ তল্লাশি করতেও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। পরে নগর ভবনের সামনে জড়ো হয়েও তারা বিক্ষোভ করে। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ফজলে নূর তাপস দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। তবে ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ফের সড়কে নামার ঘোষণা দিয়ে বিকালে ঘরে ফেরেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে বিক্ষোভে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজটের। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের। অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার

দুপুরে পল্টন মডেল থানায় মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আ. আহাদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ময়লার গাড়িটি চালাচ্ছিলেন গ্রেপ্তার রাসেল খান। তিনি প্রকৃতপক্ষে ওই গাড়ির চালক নয়। আমরা গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ও গ্রেপ্তার রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি গাড়িটির মূল চালক হারুন। তাকে গ্রেপ্তারে মাঠে রয়েছে পুলিশ।
নটর ডেম কলেজের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয় গতকাল বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে। মিছিলটি শাপলা চত্বরে পৌঁছায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়ায় দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় যানজটের। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাপলা চত্বর থেকে গুলিস্তান মোড়ের দিকে রওনা হয়ে জিরো পয়েন্টে পৌঁছে সেখানে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা মূলত ১০ দফা দাবি নিয়ে সড়কে নামে। দাবিগুলো হলো- যথাযথ তদন্ত করে শিক্ষার্থী নাঈমের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া, জেলা শহরের বিভিন্ন রুটে শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু, স্কুল-কলেজের সামনে হর্ন ও ওভারস্পিডিংয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে জরিমানা ও প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের অধিকার দেয়া, সব শিক্ষার্থীর হাফ পাস নিশ্চিত করা, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে একাধিক স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, শহরের প্রতিটি অচল ট্রাফিক লাইটের সংস্করণ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ, জেব্রা ক্রসিংয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করা, চলন্ত বাসে যাত্রী ওঠানামা করালে প্রত্যেক বাসকে আইনের আওতায় আনা এবং সর্বোপরি নিরাপদ সড়ক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করা।
এদিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ও মুন্সী আবদুর রউফ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা হাফ ভাড়া কার্যকর ও সড়ক দুর্ঘটনায় সহপাঠী নিহতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। তারা দুপুর ১টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত ওই সড়ক অবরোধ করে রাখেন। রাজধানীর শান্তিনগরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। একই সময়ে সিদ্ধেশ্বরী ও উত্তরায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। ফার্মগেটে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের বহনকারী একটি বাস এক ঘণ্টা আটকে রাখেন চালক লাইসেন্স দেখাতে না পারার কারণে। এ ছাড়াও জিরো পয়েন্ট থেকে শিক্ষার্থীরা দুপুর দেড়টার দিকে ডিএসসিসি কার্যালয় নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে দেখা করতে চান। কেননা, এই সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নাঈমের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তারা স্লোগান দেয়- মেয়র তোমার দেখা চাই, নাঈম হত্যার বিচার চাই। পরে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে নগর ভবনের মূল ফটকে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন মেয়র তাপস। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থী নাঈমের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান। এ সময় শিক্ষার্থীরা ডিএসসিসি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হওয়া নাঈম হাসানের নামে গুলিস্তান মোড়ে একটি ফুটওভার ব্রিজ করার দাবিও জানায়। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নেই গুলিস্তান মোড়ে একটি ফুটওভার ব্রিজ করে দেয়া হবে। মেয়রের আশ্বাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নগর ভবনের মূল ফটক ছেড়ে চলে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর নগর ভবনের সামনের রাস্তায় আবারো যান চলাচল শুরু হয়।
মতিঝিল বিভাগের ডিসি আ. আহাদ গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ২৪ নভেম্বর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ার গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাঈম হাসান রাস্তা পার হওয়ার সময় পূর্ব দিক থেকে আসা ডিএসসিসি (রেজিঃ নম্বর ঢাকা মেট্রো-শ ১১-১২৪৪) চালক রাসেল খান বেপরোয়া গতিতে ময়লা নিয়ে সজোরে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। এ সময় ভিকটিমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। তখন স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে বেলা পৌনে ১২টায় মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার টহল পুলিশ ও পথচারীরা ট্রাকের চালক রাসেল খান ও গাড়ির ভেতরে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মী গোলাম রব্বানী ও বেলালকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ অফিসের পূর্ব প্রান্ত থেকে আটক করে।
আ. আহাদ আরো বলেন, সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ দেয়া গাড়ির চালক হারুন। গাড়িটি তার চালানোর কথা থাকলেও রাসেলকে দিয়ে চালাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে হারুনকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনব। হারুনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কেন রাসেলকে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। গ্রেপ্তার রাসেল সিটি করপোরেশনের কেউ না। তবে সিটি করপোরেশনের কিছু কাজ করেন। রাসেল জানিয়েছেন তার আত্মীয়স্বজন সিটি করপোরেশনে চাকরি করে সেই সূত্র ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। রাসেল এর আগেও এই গাড়ি চালিয়েছেন নাকি সেদিনই প্রথম এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি আ. আহাদ বলেন, রাসেল জিজ্ঞাসাবাদে জানান, এর আগেও গাড়িটি চালিয়েছেন। গাড়ির চাবি সিটি করপোরেশনের হারুনই রাসেলকে দিয়েছিল।
৩ দিনের রিমান্ডে রাসেল : নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খানের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিকে পল্টন থানার সড়ক ও পরিবহন আইনে মামলায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তার বিরুদ্ধে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার অ্যাডিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত বুধবার রাতে নিহতের বাবা শাহ আলম পল্টন থানায় সড়ক ও পরিবহন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। তবে এই মামলায় রাসেল খানকে গাড়িচালক হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গাড়ির মূল চালক হারুন অর রশিদ পলাতক রয়েছেন।
‘হাফ ভাড়া’ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে শনিবার : শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া চালুর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গতকাল বৃহস্পতিবার বনানীর বিআরটিএ কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রথম বৈঠকে হাফ ভাড়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী শনিবার এ বিষয়ে আবারো বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেদিন হাফ ভাড়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসবে।
এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আশা করছি, হাফ পাসের জন্য শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি আগামী শনিবারের মধ্যে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হবে। গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
জানা গেছে, গণপরিবহনে হাফ পাসের কোনো আইন নেই। কিন্তু হাফ পাসের দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবারও তারা সড়ক অবরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তৎপরতা শুরু করেছে বিআরটিএ। এরই আলোকে গতকাল বনানীর বিআরটিএ কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব, আইজিপি, পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এই সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সড়ক পরিবহন ভবনের সভাকক্ষে সভা শুরু হয়। সভার শুরুতে সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, বাসে হাফ ভাড়া নিতে শিক্ষার্থীদের দাবি ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে। আমরা বিষয়টি ইতিবাচক ভাবেই নিচ্ছি। তাই এ বিষয়ে সবার কাছ থেকে মতামত আশা করছি।
সভায় বাস মালিকদের পক্ষ থেকে দেয়া প্রস্তাবে বলা হয়, শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান বিআরটিসিতেই হাফ ভাড়া চালু করা হোক। গণপরিবহনে কখনোই শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার প্রচলন ছিল না। এখন পরিবহন খরচ বেড়েছে, বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। রাজধানীর বাসগুলোতে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী থাকে। রাতে এবং ছুটির দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। বেসরকারি বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া চালু হলে অনেকে ভুয়া পরিচয়পত্র দেখিয়ে বাসে যাতায়াত করবে। সরকার যদি বেসরকারি বাসের জন্য ভর্তুকি দেয় তাহলে হাফ পাস সিস্টেম চালু করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, হাফ ভাড়া নেয়ার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন। গত মঙ্গলবার তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকারের প্রতি আল্টিমেটামও দিয়েছেন। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীরা বাসে হাফ ভাড়া নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়