গুলশানের ইউনিমার্ট ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

আগের সংবাদ

ধাক্কা কাটিয়ে চাঙ্গা অর্থনীতি

পরের সংবাদ

সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা হয় ১৪.৯ শতাংশ : ওষুধ পান মাত্র ৩ শতাংশ রোগী

প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের বাজেট কম। একই সঙ্গে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে জনপ্রতি স্বাস্থ্য খাতে খরচ সবচেয়ে কম (৪৫ ডলার)। সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ পান মাত্র ৩ শতাংশ রোগী, আর ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ রোগীর হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অধিকাংশ রোগীকে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয় এবং সেবা নিতে হয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। এতে রোগীর নিজের পকেট থেকে ব্যয় বেড়ে যায় এবং প্রায়ই রোগী আর্থিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন। শুধু সরকারি অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে এর সমাধান সম্ভব নয়। সঙ্গে সঙ্গে খরচ করার দক্ষতা থাকতে হবে, যাতে বাজেট অব্যবহৃত থেকে না যায়।
গতকাল রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ একাউন্ট সেলের মুখপাত্র ডা. সুব্রত পাল পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নিজ পকেট থেকে চিকিৎসার জন্য ব্যয় অবস্থা, এ থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক (গবেষণা) ‘রোগী নিজ পকেট থেকে চিকিৎসার জন্য উচ্চব্যয়ের নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. নুরুল আমিন। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, রোগীর নিজ পকেট থেকে ব্যয়ের প্রধান উৎস হলো ওষুধ খাতে ব্যয়, যা প্রায় ৬৪ ভাগ। হাসপাতালে অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেয়ার মাধ্যমে যথাক্রমে ১২ ও ১১ ভাগ ব্যয় হয়। এছাড়া রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে ব্যয় হয় ৮ ভাগ। গ্রামপর্যায়ে বিস্তৃত সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যথাযথ কার্যকর না হওয়ায় এবং শহর এলাকায় পর্যাপ্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা না থাকায় রোগী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা নিতে বাধ্য হন। তাছাড়া সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবাগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ ওষুধ দেয়া হয় না। রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগও থাকে না।
প্রবন্ধে আরো উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এন্টিবায়োটিকসহ প্রায় সব ধরনের ওষুধ কেনার সুযোগ থাকায় এবং ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মাত্রাতিরিক্ত বিপণনের কারণে স্বীকৃত ডাক্তারদের পাশাপাশি পল্লী ও হাতুড়ে ডাক্তারও ব্যবস্থাপত্রে অতিমাত্রায় ওষুধ লিখে থাকেন। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ খেতে হয়। আর রোগীর ব্যয় বেড়ে যায়। জরুরি ওষুধের তালিকা সংশোধন ও স¤প্রসারণ এবং ব্যবস্থাপত্রে প্রটোকল অনুসরণপূর্বক কোম্পানির ওষুধের ‘ব্র্যান্ড নাম’ ব্যবহারের পরিবর্তে ‘জেনেরিক’ নাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে

এ ব্যয়ে লাগাম টেনে ধরা সম্ভব। আর বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাক্রিডিটেশন পদ্ধতি না থাকা এবং এর সেবার মান ও মূল্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি না থাকায় সেবাগ্রহীতারা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সেবা বিষয়ে রোগীদের অসন্তুষ্টি ও কখনো কখনো আস্থার ঘাটতি তাদের দেশের পরিবর্তে বিদেশ থেকে সেবা নিতে উৎসাহিত করে। এভাবে চিকিৎসার ব্যয় মিটাতে গিয়ে অনেক মানুষ ভিটে জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন তার প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। এর তিনটি দিক রয়েছে। প্রথমটি হলো- স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া; প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত স্বাস্থসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে আর্থিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা। প্রথম দুটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য দেশে ১৪ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতির ফলে সূচকে দেখা গেছে অভাবনীয় সাফল্য, মিলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। কিন্তু তৃতীয় ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে বাংলাদেশ বহুদূর পিছিয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশে রোগীর নিজ পকেট থেকে ব্যয় ছিল ৬৪ ভাগ। ২০৩২ সালের মধ্যে এই ব্যয় ৩২ ভাগে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন কৌশল : ২০১২-৩২’ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালে এই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ ভাগ। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ‘নিজ পকেট থেকে গৃহস্থালি ব্যয় সংকোচনের কৌশল’ শীর্ষক টেকনিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। এই রিপোর্টের অবহিতকরণ কর্মশালাই এদিন অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়