দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ : চট্টগ্রামে বিএনপির বিক্ষোভ

আগের সংবাদ

ঢিমেতালের ফাঁদে সোনালি ব্যাগ : সিলিং মেশিনে আটকে আছে উৎপাদন, বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ

পরের সংবাদ

তথ্যপ্রযুক্তি সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি : বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর ফ্রিল্যান্সার দেশ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, সরকার গত এক যুগে ডিজিটাল বাংলাদেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করায় দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল ডিভাইড কমে আসছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিশ্ব সম্মেলনের ২৫তম আসর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন ইনফরমেশন টেকনোলজি ‘ডব্লিওসিআইটি-২০২১’ এবং একই সঙ্গে ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল সামিট-২০২১’ এর উদ্বোধন করতে গিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি ভার্চুয়ালি এ দুই সম্মেলন উদ্বোধন করেন।
আবদুল হামিদ বলেন, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানো, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল যন্ত্র হাতের নাগালে আনার পাশাপাশি মানুষের হাতের মুঠোয় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। জনগণ এখন ঘরে বসেই দুই শতাধিক নাগরিক সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২১ সাল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অনন্য ও স্মরণীয় বছর। এ বছর আমরা একই সঙ্গে উদযাপন করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ বছরই পূরণ হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার। এমনই এক শুভক্ষণে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন ইনফরমেশন টেকনোলজির ২৫তম আসর। এ আয়োজন বাংলাদেশে আইসিটি খাতের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দূরদর্শী চিন্তা থেকে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান গবেষণা এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ভিত্তি রচনা করেছিলেন। তারই উদ্যোগে ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আইটিইউর সদস্যপদ লাভ করে। বঙ্গবন্ধু প্রখ্যাত বিজ্ঞানী কুদরত-এ-খুদার নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। এ কমিশনের সুপারিশে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় বিজ্ঞান গবেষণা, উদ্ভাবন ও কারিগরি বিদ্যাকে। ১৯৭৩ সালেই বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন জাতির পিতা বেতবুনিয়ায় স্যাটেলাইট আর্থ-স্টেশনের উদ্বোধন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে পথচলা থেমে যায়। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেন। তিনি মোবাইল ফোনের মনোপলি ভেঙে তা মানুষের কাছে সহজলভ্য করেন।
আবদুল হামিদ আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। ২০০৯ সালে দেশের মাত্র ৮ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সেবা পেত। বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১২ কোটির বেশি। এ সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে চারগুণেরও বেশি।
ডিজিটাল বাংলাদেশের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, করোনা মহামারিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেই দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখা হয়। আইসিটি বিভাগের ‘সুরক্ষা’ প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের সংখ্যা এরই মধ্যে ৭ কোটি ছাড়িয়েছে। আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার ও আইটিসেবা সরবরাহ হচ্ছে। আইটি খাতে রপ্তানি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যার দিক থেকে সারাবিশ্বে আমাদের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশে সাড়ে ৬ লাখ সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। তাদের পেশাগত উন্নয়নে আইডি কার্ড দেয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪ দিনব্যাপী ডব্লিওসিআইটি সম্মেলন চলবে। নির্ধারিত অ্যাপ ও ওয়েবসাইট থেকে রেজিস্ট্রেশন করে দর্শনার্থীরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি সম্মেলন পরিদর্শন করতে পারবেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়