১০ সরকারি ব্যাংকে নতুন ২০ ডিএমডি

আগের সংবাদ

মাসসেরার দৌড়ে সাকিব

পরের সংবাদ

ইইউ-চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের অঙ্গীকার > ৫০ বছরেই ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ : এক হাজার কোটি ডলার তহবিলের নিশ্চয়তা, উষ্ণতা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা

প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিপর্যয়ের মুখে থাকা বিশ্ব বাঁচাতে ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ হওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন মেয়াদি সময়সীমা ঘোষণা করলেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। অর্থাৎ, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে এমন ব্যবস্থা নেবে বিশ্ব, যাতে নতুন করে কোনো কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত হবে না বায়ুমণ্ডলে। শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ‘নেট-জিরো’ বা শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দেয় ভারত। গøাসগোর কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের ১২০টি দেশের প্রতিনিধি সভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন, ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণমুক্ত অর্থনীতির দেশ হবে ভারত। এক্ষেত্রে চীন ২০৬০ সাল নাগাদ এ লক্ষ্য অর্জনের অঙ্গীকার করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ২৭-দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানায়, ২০৫০ সাল নাগাদ শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জন করবে তারাও।
এছাড়া, বিশ্বের ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিশ্রæতির আলোকে, এ দশকের শেষ নাগাদ ৩০ শতাংশ মিথেন গ্যাস নির্গমন হ্রাসে স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উর্সুলা ভন ডের লেয়ান একথা জানান। কপ-২৬ জলবায়ু সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২০ সালের তৃতীয় ধাপ অর্জনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য অতি ক্ষতিকর গ্রিন হাউস গ্যাস হ্রাস দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের লাগাম টেনে ধরবে। অন্যদিকে চলমান এই কপ-২৬ সম্মেলন নিয়ে পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞ মহলের বহুবিধ সংশয় এবং সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এর ‘অগ্রগতি সন্তোষজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো অঙ্গীকার করেছিল শিল্পবিপ্লব পূর্ববর্তী

পৃথিবীর যে তাপমাত্রা ছিল তার চেয়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি যেন না বাড়তে পারে, তা নিশ্চিতে সচেষ্ট হবে সবাই।
এটি করতে না পারলে পৃথিবী এবং মানব সভ্যতা মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে, সব দেশই তা মেনে নেয়। ছয় বছর পর স্কটল্যান্ডের গøাসগো শহরে চলমান এবারের কপ-২৬ সম্মেলনেও ফের এক?ই ঘোষণার জোরালো দাবি জানাল বিশ্ব। তবে এবারের সম্মেলনে ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংরক্ষণের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে সর্বাধিক। বিশ্ব নেতাদের ঘোষণায় ‘গালভরা’ আকর্ষণীয় অঙ্গীকার থাকলেও সমালোচকরা বলছেন, ২০১৪ সালেও এ জাতীয় অঙ্গীকার করা হয়েছিল, কিন্তু গত সাত বছরে কতটুকু অর্জন হয়েছে তার! অন্যদিকে, গøাসগো ঘোষণায় সবার আগে জলবায়ু তহবিল হাতে পাওয়ার বিষয়টির নিশ্চয়তা থাকুক, এটাই চাইছে জলবায়ু বিপর্যয়ে ইতোমধ্যেই সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো। তবে গøাসগোতে কি ঘোষণা আসছে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সম্মেলনের শেষ দিন পর্যন্ত।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ উন্নত দেশগুলোর চেয়ে কম। অতীতে যে মাত্রায় নিঃসরণ হয়েছে, তার জন্য এসব দেশের দায় নিতান্তই কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি তাদেরই বেশি পোহাতে হচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য তাদের তহবিল দরকার। এজন্য প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংরক্ষণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে জোরালো আওয়াজ তুলছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কপ-২৬ সম্মেলনের পাশাপাশি ফোরামের সভাপতি হিসেবে ৪৮ জাতি সিভিএফ নেতাদের সংলাপে ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কার্বন নিঃসরণকারী গুরুত্বপূর্ণ উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রæত তহবিল না দেয়ায় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দরিদ্র দেশগুলোকে আরো অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক পরিণতি মোকাবিলায় আমাদের নিজেদের মতো করে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রæত বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে আজ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। 
কপ-২৬ সম্মেলনে সিভিএফ ও ভি-২০ সভাপতি হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষে বাংলাদেশ সোচ্চার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানোর দাবি জানিয়েছেন। তহবিল সংগ্রহের পক্ষেও তিনি উচ্চকণ্ঠ। তাছাড়া জলবায়ুবিষয়ক ইস্যুতে, যেমন- জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচি গ্রহণ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে তার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা বিশ্ববাসীর সামনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়