ডেঙ্গুতে ৯১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত সাড়ে ২৩ হাজার

আগের সংবাদ

তৃণমূলে সংঘাত থামছেই না : সংঘর্ষে জড়িতদের তালিকা করছে আ.লীগ, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে এক মাসে নিহত ৮, নির্বাচনী সংঘর্ষে ৩৮ নিহত

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যের নথি গায়েবে তোলপাড়, সিআইডিতে আটক ৬ কর্মচারী : দেড় মাস আগে গায়েব ফাইলও মিলছে না

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের ১৭টি ফাইল গায়েবের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট ও গোয়েন্দা ছায়া তদন্ত করছে। ছায়া তদন্তের অংশ হিসেবে বিভাগটির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ছয় কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে আটক করেছে সিআইডি। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সচিবালয় থেকে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তে সহায়ক তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে সিআইডি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত করেছেন।
যাদেরকে আটক করা হয়েছে, তারা হলেন- জোসেফ, আয়েশা, বাদল, বারী, মিন্টু ও ফয়সাল। এর আগে সিআইডি সদস্যরা সকালে সচিবালয়ে এসে তিন নম্বর ভবনের নিচতলার ২৪ নম্বর কক্ষ (এ কক্ষ থেকে ফাইল চুরি হয়েছে) থেকে আলামত সংগ্রহ করেন এবং সেখানে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রী ও জনপ্রশাসন সচিবও এ ব্যাপারে খোঁজখবর করছেন। তবে এবারই প্রথম নয়। এর মাত্র দেড় মাস আগেও এই শাখা থেকেই ফাইল গায়েব হয়ে গিয়েছিল। সেই ফাইলটি ছিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সংক্রান্ত। যার খোঁজ এখনো মেলেনি।
এদিকে, মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. শাহ্ আলম। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব আহসান কবীর এবং উপসচিব আবদুল কাদের। কমিটির প্রধান চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. শাহ আলম বলেছিলেন, রহস্যটা কোথায়, তা খুঁজে বের করতেই কমিটি। এটা খুব স্পর্শকাতর বিষয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের মতো করে দেখছে। আমরা আমাদের মতো করে কাজ করছি।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জনসংযোগ) আজাদ রহমান গতকাল রাতে ভোরের কাগজকে বলেন, দুপুরে তাদের তদন্তকারীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। তখনই স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ক্রয় সংক্রান্ত শাখার ছয় কর্মচারীকে সিআইডি

কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, ওই শাখায় যারা ফাইলগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করত, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় জিডি হয়েছে। তাই কীভাবে হারিয়ে যেতে পারে, তা জানতেই মূলত তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এতে তদন্তের ক্লু মেলার ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
জানা গেছে, নথি গায়েবের ঘটনায় সচিবালয়ে তদন্ত শুরু করেছেন সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা। তদন্তের জন্য সচিবালয়ে যান সিআইডির বিশেষ সুপার মো. কামরুজ্জামান। তিনি জানান, যেহেতু একটা জিডি হয়েছে সেটার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের জন্য খোঁজখবর নিতে আমরা এসেছি। কিছু তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। ক্রাইম সিনের সদস্যরা সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিচতলায় (২৯ নম্বর কক্ষ) অতিরিক্ত সচিব শাহাদাৎ হোসাইন ও যুগ্ম সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনের কক্ষে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এ সময় তারা সবার আঙুলের ছাপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেক করেন। অন্তত ১৩ জনের আঙুলের ছাপ নেয়া হয়। আলমারিতে থাকা আঙুলের ছাপের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখছে সিআইডি। এর অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবারই প্রথম নয়। এর মাত্র দেড় মাস আগেও এই শাখা থেকেই ফাইল গায়েব হয়ে গিয়েছিল। সেই ফাইলটি ছিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ সংক্রান্ত। ফাইল গায়েব হওয়ার পর তিন দিনের ভেতরে ফাইল খুঁজে দেয়ার জন্য অফিস স্টাফ আয়েশা সিদ্দিকাকে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তিনি চিঠির জবাব দেননি। পরে তাকে শোকজ করা হয়। আয়েশা সিদ্দিকা অন্তঃসত্ত্বা থাকায় চিঠির জবাবে তিনি বেশির ভাগই তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এরপর নিয়ম অনুযায়ী, সে জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনিক শাখায় অভিযোগ পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরে তার শরীরের অবস্থা বিবেচনা ও সন্তানের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে কিনা চিন্তা করে অ্যাকশনের বিষয়টি স্লো হয়ে যায়। এখনো বিষয়টি ঝুলে আছে।
প্রসঙ্গত, ১৭টি ফাইল গায়েব হওয়ার ঘটনায় শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মন্ত্রণালয়। ফাইলগুলো ছিল স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদৎ হোসাইনের কক্ষের লাগোয়া কক্ষে। সেই কক্ষে বসেন ক্রয় ও সংগ্রহ শাখা-২-এর সাঁট মুদ্রাক্ষরিক ও কম্পিউটার অপারেটর জোসেফ সরদার ও আয়েশা সিদ্দিকা। ফাইলগুলো এই দুই কর্মীর কেবিনেটে ছিল এবং এই কেবিনেটের চাবিও থাকে তাদের দুজনের কাছে। এই দুটি চাবি দিয়েই কেবিনেট খোলা হয় বলে মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ থেকে ১৭টি নথি হারিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় জিডি করেন উপসচিব (প্রকল্প বাস্তবায়ন-১ শাখা, অতিরিক্ত দায়িত্ব ক্রয় ও সংগ্রহ-২) নাদিরা হায়দার। পরদিন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। এরপর রবিবার দুপুরে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই শাখায় যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জিডিতে বলা হয়েছে, গত ২৭ অক্টোবর অফিস করে নথিগুলো ফাইল কেবিনেটে রাখা হয়। পরদিন দুপুর ১২টায় কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় ফাইলগুলো কেবিনেটের মধ্যে নেই। যে নথিগুলো গায়েব হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ অন্যান্য মেডিকেল কলেজের কেনাকাটা সংক্রান্ত একাধিক নথি, ইলেকট্রনিক ডেটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি, নিপোর্ট অধিদপ্তরের কেনাকাটা, ট্রেনিং স্কুলের যানবাহন বরাদ্দ ও ক্রয়সংক্রান্ত নথি। আর এগুলোর বেশির ভাগই বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিভাগের কেনাকাটার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেসঙ্গে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের নথি রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়