চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা : চালকের সহকারী শাহীরুল এখন কোটিপতি

আগের সংবাদ

তিস্তার তাণ্ডবে লালমনিরহাটে পথে বসেছে হাজারো পরিবার

পরের সংবাদ

টাইগার ওপেনিংয়ে আস্থার প্রতীক নাঈম

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ওপেনিং সমস্যা দীর্ঘদিনের। ইমরুল, বিজয়, সৌম্য, লিটনসহ একাধিক ব্যাটসম্যান এলেও তামিমের যোগ্য পার্টনার হতে পারেননি এখন পর্যন্ত কেউ। আর তামিম দলে না থাকলে ওপেনিং যেন একেবারেই ভঙ্গুরে থাকে টাইগারদের। দেশসেরা ওপেনারের যোগ্য পার্টনারের খোঁজে একসময় দলের ওপেনার হিসেবে জায়গা পান নাঈম শেখও। দলে সুযোগ পেয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে খেলেন ৪৮ বলে ৮১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। এরপর দলে ধরাবাহিক না হলেও যখনই সুযোগ পান কাজে লাগান। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়ে আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিশ্বকাপে তিন ম্যাচের দুই ম্যাচেই তার ব্যাট থেকে আসে ফিফটির দেখা।
বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম হয়নি। কিন্তু কেউই দিতে পারেননি আস্থার প্রতিদান। চলতি বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার বিচারে সৌম্য সরকার ও লিটন দাসকে ওপেনিংয়ের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছিল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ওই ম্যাচে সৌম্য ৫ বল সমান রান এবং লিটন ৭ বলে ৫ রানের ইনিংস খেলে ওপেনিংয়ের দায়িত্ব শেষ করেন। ওপেনিংয়ে ভালো পুঁজি না পেয়ে সে ম্যাচে বাংলাদেশকে হারতে হয় ৫ রানের ব্যবধানে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে সৌম্যের পরিবর্তে মাঠে ওপেনিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় নাঈম শেখকে। সুযোগ পেয়েই জ¦লে ওঠেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। ৪টি ওভার বাউন্ডারি ও ৩টি বাউন্ডারির সাহায্যে ওমানের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ৫০ বলে ৬৪ রানের নির্ভরশীল এক ইনিংস খেলেন নাঈম। পরের ম্যাচে অবশ্য পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচবন্দি হয়ে শূন্য রানেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। তবে যার আগমন দলের আস্থার প্রতীক হওয়ার জন্য, তার কি শূন্য হাতে ফেরা মানায়! পরের ম্যাচেই গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জ¦লে ওঠেন নাইম। ৬ বাউন্ডারির সাহায্যে এদিন ৫২ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দলকে একটি আদর্শ স্থানে নিয়ে তারপর মাঠ ছাড়েন। নাঈমের মতো এমন ওপেনারই প্রয়োজন বাংলাদেশ দলের। যে কিনা দলের ভিত গড়ে দেবেন। তবে পরীক্ষা এখনো বাকি নাঈম শেখের জন্য। দেশসেরা ওপেনার তামিমের যোগ্য পার্টনার হতে তাকে আস্থার প্রতিদান দিতে হবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বাকি থাকা ৪ ম্যাচে।
বাংলাদেশ দলে নাঈমের অভিষেক ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। প্রথম ম্যাচে চমক দেখাতে না পারলেও দলকে ২৬ রানের একটি ইনিংস উপহার দেন। দ্বিতীয় ম্যাচে নাঈমের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। আর তৃতীয় ম্যাচে এসেই ফিফটির দেখা পেয়ে যান তিনি। ভারতের বিপক্ষে ৪৮ বলে ৮১ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। ভারতের পর পাকিস্তানের মাঠেও তার ব্যাটিং জ¦লে ওঠে। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ৪৩ রান করেন নাঈম। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য ক্যারিয়ারের প্রথম ডাকের দেখা পান তিনি। এরপর গত দুই বছর কখনো সুযোগ পেয়েছেন আবার কখনো পাননি। তবে যখনি মাঠে নেমেছেন তার ব্যাট কথা বলেছে। তবে নাঈম টেস্ট কিংবা ওয়ানডেতে খুব একটা সুযোগ পাননি মাঠে নামার। এখন পর্যন্ত তিনি অবশ্য টেস্টের সাদা জার্সি গায়ে মাঠে নামেননি। তবে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে নেমেছেন দুইটি ওয়ানডে ম্যাচে। সেসব ম্যাচে অবশ্য নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি নাঈম।
ওয়ানডে কিংবা টেস্টে দলে জায়গা করে নিতে না পারলেও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে এখন পর্যন্ত ২৫টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে ফিফটির দেখা পেয়েছেন চার ম্যাচে। যার মধ্যে দুইটিই ম্যাচই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে। যার মধ্যে একটি গত মঙ্গলবার ওমানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে নাঈম ৫০ বলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলেন। আর দ্বিতীয়টি গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই ম্যাচে তিনি ৫২ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলে দলের ভিত গড়ে দেন। বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে বর্তমানে তার রান সংখ্যা ১২৬।
নাঈমের ব্যাট থেকে আসা বাকি দুইটি অর্ধশতকের একটি ভারতের বিপক্ষে অন্যটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তবে মজার বিষয় হচ্ছে নাঈমের টি-টোয়েন্টি চারটি ফিফটিই দেশের বাইরে এসেছে। ২০১৯ সালে ভারতের নাগপুরে খেলা ৮১ রানের ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। আর অন্য ফিফটি এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে। ওই ম্যাচে নাঈম ৫১ বলে ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। সব মিলিয়ে ২৫ ম্যাচে নাঈমের রান সংখ্যা ৬৯৬, যেখানে তার গড় ২৯। শেষ ১০ ইনিংসে নাঈমের রান সংখ্যা যথাক্রমে ৬২, ০, ৬৪, ২৩, ২৯, ১৩, ৩৯, ১, ২৩, ২৮।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়