বিজিএমইএ নির্বাচন মার্চে

আগের সংবাদ

জাপার আসনে নৌকা প্রত্যাহার! ৩০ থেকে ৩৫ আসন প্রত্যাশা জাতীয় পার্টির > চলছে দেনদরবার

পরের সংবাদ

যশোর কুড়িগ্রাম দেওয়ানগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস আজ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : দেশের দুই জেলা ও এক উপজেলা পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত দিবস আজ বুধবার। প্রতি বছর যশোর, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ৬ ডিসেম্বর দিবসটি পালন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
যশোর : ঐতিহাসিক যশোর হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনেই শত্রæমুক্ত হয় যশোর জেলা। এদিন বিকালে যশোর সেনানিবাস ছেড়ে পালিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। যশোরেই প্রথম উঠেছিল বিজয়ী বাংলাদেশের রক্তসূর্যখচিত গাঢ় সবুজ পতাকা। এ দিন উদযাপনে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল ৯টায় টাউন হল মাঠ থেকে র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়। এ সময় মিত্রবাহিনীও সীমান্ত এলাকা থেকে যশোর সেনানিবাসসহ পাক আর্মিদের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা ও গোলা নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে পর্যুদস্তু পাক বাহিনী ৫ ডিসেম্বর থেকে পলায়ন শুরু করে। যশোর সেনানিবাস ছেড়ে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে খুলনার গিলাতলা সেনানিবাসের দিকে পালিয়ে যেতে থাকে। পলায়নকালে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর শহরতলীর রাজারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রচণ্ড লড়াই হয়।
৬ ডিসেম্বর বিকেলের আগে যশোর সেনানিবাস খালি করে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা। বিকেলে মিত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে মিত্র ও মুক্তিবাহিনী সেনানিবাসে প্রবেশ করে দখল নেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুক্তির আনন্দে উচ্ছ¡সিত মুক্তিযোদ্ধা-জনতার ঢল নামে শহরে। পাড়া মহল্লায়ও চলে খণ্ড খণ্ড আনন্দ মিছিল। মুক্তির আনন্দে ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে ফেটে পড়ে গোটা জেলার মানুষ।
যশোর মুক্ত দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৯টায় বিভিন্ন সুধী মহলের উপস্থিতিতে টাউন হল মাঠ থেকে এক বর্ণাঢ্য র?্যালি বের করা হবে।
কুড়িগ্রাম : ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলার অকুতোভয় দামাল ছেলেরা মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এদেশীয় রাজাকার আল-বদরসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে কুড়িগ্রাম অঞ্চলকে হানাদারমুক্ত করেন।
মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ৬ ডিসেম্বর অর্জিত না হলেও সেদিনই বাংলার দামাল ছেলেরা উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত লাগোয়া তৎকালীন মহকুমা কুড়িগ্রামকে শত্রæমুক্ত করে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা উত্তোলন করে এক ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভাসহ বিজয়স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার কর্মসূচি নিয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত লাগোয়া কুড়িগ্রামের গোটা অঞ্চল মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ছিল ৬ ও ১১ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন। একমাত্র রৌমারী উপজেলা ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি, ফলে ওই থানার অধীন রৌমারী অঞ্চল পুরোটাই মুক্তাঞ্চল হিসাবে থেকে যায়। ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া এই মুক্তাঞ্চলেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে তোলা হয়। এখানে ট্রেনিং গ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে একের পর এক পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করতে থাকে।
এ ছাড়া অনেকেই সীমান্ত লাগোয়া ভারতের মাইনকার চরে মুক্তিযোদ্ধার ট্রেনিং নিয়ে রৌমারীতে আসেন। এসব অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাগণ কুড়িগ্রাম অঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম থেকেই ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে সাঁড়াশি আক্রমণ পরিচালনা করেন। একের পর এক আক্রমণে জেলার চিলমারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী এলাকায় স্থাপিত পাক হানাদার বাহিনীর তৈরি শক্ত ঘাঁটিগুলোর একের এক পতন ঘটতে থাকে।
মিত্রবাহিনীর অভিযানের ফলে নভেম্বর মাসেই হানাদারমুক্ত হয় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, চিলমারী ও উলিপুর। পাক হানাদার বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে এক পর্যায়ে তাদের ঘাটিগুলো গুটিয়ে কুড়িগ্রাম শহরে অবস্থান নিতে থাকে। এ সময় তাদের এদেশীয় দালাল রাজাকার আল বদররা পাকবাহিনীকে সহযোগিতা দিয়ে স্বাধীনতাকামী মানুষকে নির্বিচারে হত্যার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। এ অবস্থায় ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর একের পর এক বিমান হামলায় বেসামাল হয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানদার বাহিনী। মিত্রবাহিনীর আক্রমণের মাত্রা তীব্র হলে পাক সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এক পর্যায়ে পাকসেনারা কুড়িগ্রাম শহর ছেড়ে ট্রেনযোগে পালানোর সময় দুই দিকে বৃষ্টির মত গুলি করতে করতে ৫ ডিসেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর ভোররাত পর্যন্ত তিস্তা ও কাউনিয়া হয়ে রংপুরের দিকে চলে যায়। এরপরই আসে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার মাহেন্দ্রক্ষণ ৬ ডিসেম্বর। সেদিনই ভোরে কুড়িগ্রাম অঞ্চল সম্পূর্ণ হানাদার মুক্ত হয়।
ঐদিন ৬ নম্বর সাব সেক্টরের কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হাই সরকার বীর প্রতীক এর নেতৃত্বে ৩৩৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রথম কুড়িগ্রাম শহরে প্রবেশ করেন এবং এদিন বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বীর প্রতীক আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে কুড়িগ্রাম নতুন শহরের ওভারহেড পানির ট্যাংকের উপর প্রথম বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল সবুজ পতাকা উত্তোলন করা হয়।
ওই দিন সকালের আলো ফোটার সাথে সাথে মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত হাজার হাজার মানুষ কুড়িগ্রাম শহরের রাস্তায় নেমে আসে। তাদের উপস্থিতিতে ৬নম্বর সাব-সেক্টরের কোম্পানি কমান্ডার মো. আবদুল হাই সরকার বীর প্রতীকের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে জেলার সাধারণ মানুষ উল্লাস প্রকাশ করতে থাকে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন ও স্বাগত জানাতে হাজার হাজার মুক্তিকামী জনতা রাস্তায় নেমে এসে উল্লাস প্রকাশ করে। উল্লসিত জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহরের মোড়ে মোড়ে বিজয় মিছিল বের হয়। তাদের মিছিল যখন শহরের প্রধান প্রধান সড়ক অতিক্রম করছিল তখন রাস্তার দুই ধারের বাসা-বাড়ি থেকে শত শত নারী-পুরুষ বেরিয়ে তাদের অভিনন্দন ও স্বাগত জানান।
মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণ রাখতে এবারো মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক দল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় শহরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) : দেওয়ানগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস আজ বুধবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মুক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ৬ ডিসেম্বর ভোরে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনস্থ গাজী নাছির কোম্পানির প্লাটুন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আক্রমণ করে। সেদিন পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকাররা পালিয়ে যায়।
সেদিনের স্মৃতিচারণ করে গাজী নাছির কোম্পানির প্লাটুন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিতাড়িত করার পর, জিলবাংলা চিনিকল, দেওয়ানগঞ্জ কো অপারেটিভ হাইস্কুল ও একেএম কলেজে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পালিয়ে যাওয়ার খবরে সেদিন দেওয়ানগঞ্জের আপামর জনতা খুশিতে রাস্তায় নেমে আসে। সকলের মুখে সেদিন জয় বাংলা স্লোগানে মুখর হয়েছিল দেওয়ানগঞ্জের আকাশ বাতাস।’
প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবসে নানা কর্মসূচি পালন করে দেওয়ানগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। কর্মসূচির মধ্যে পতাকা উত্তোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্স জানান, ‘দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিগত বছরের মতো এবারো পতাকা উত্তোলন ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়