স্বপ্নজয়ের পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আগের সংবাদ

হাওর জনপদে স্বাস্থ্যসেবা ‘নেই’

পরের সংবাদ

পদ্মা সেতু মর্যাদার প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী > কারো বিরুদ্ধে আমার আর অভিযোগ বা অনুযোগ নেই

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিলেন তাদের কারো বিরুদ্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ বা অনুযোগ নেই। কারণ জাতির পিতা বলেছিলেন এই মাটি আমার, এই দেশ আমার। আজকের দিনটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ দিন। আজ এই অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলাম। আপনারা পাশে ছিলেন বলেই পদ্মা সেতু করতে পেরেছি। জনগণের শক্তি বড় শক্তি। আমি সেটাই বিশ্বাস করেছি।
গতকাল শনিবার দুপুরে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের ফলক উন্মোচনের পর কাঁঠালবাড়ীতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য আবদুস সোবহান গোলাপের পরিচালনায় জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী প্রমুখ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১২টা ৫২ মিনিটে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় মঞ্চে বাজানো হয় শিল্পী আবদুল আলীমের ‘সর্বনাশা পদ্মা নদীরে’ এবং ‘নদীরে একটি কথা সুধাই শুধু তোমারে’ গান। জয় বাংলা স্লোগানে জনসভাস্থল মুখরিত করে তোলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মঞ্চে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অনেক জ্ঞানীগুণী বলেছিলেন- নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ সমর্থন দিয়েছে এবং পাশে দাঁড়িয়েছে। জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। পদ্মা সেতু তৈরিতে যারা বাধা দিয়েছেন, তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়েছে। তাদের জানিয়ে দিলাম- বাংলাদেশও পারে। এজন্য সাহস দিয়েছেন আপনারা। শক্তি দিয়েছেন আপনারা। আমিও আপনাদের পাশে আছি। নিঃস্ব আমি, রিক্ত আমি। আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের ফলে আমাদের

সেতু নির্মাণ খানিকটা বিলম্বিত হয়েছে কিন্তু হতোদ্যম হইনি। শেষ পর্যন্ত অন্ধকার ভেদ করে আলোর মুখ দেখেছি আমরা। পদ্মার বুকে জ্বলে উঠেছে লাল, নীল, সবুজ ও সোনালি আলোর ঝলকানি। এই সেতুর মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ সহজ হবে।
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে পদ্মা সেতুর জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। খালেদা জিয়া এসে তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে এসে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করি। তখন তারা বলেছিল, আওয়ামী লীগ নাকি কোনো দিন পদ্মা সেতু করতে পারবে না। খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞেস করি- আসুন, দেখে যান, পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে কিনা।’
দুর্নীতি নয়, বরং মুহাম্মদ ইউনূসের তদ্বিরেই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন থেকে বিশ্ব ব্যাংক সরে গিয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসকে যখন গ্রামীণ ব্যাংকের এমডির পদ থেকে চলে যেতে হবে, তখন বিশ্ব ব্যাংক, আমেরিকায় তদবির করে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিল। কে দুর্নীতি করেছে? এই সেতু আমাদের প্রাণের সেতু। যে সেতুর সঙ্গে আমার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য জড়িত, সেই সেতু করতে গিয়ে কেন দুর্নীতি হবে? দুর্নীতি-ষড়যন্ত্রের কথা বলে টাকা বন্ধ করে দিল। টাকা বন্ধে করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ বসে থাকেনি।
পদ্মা সেতু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সুবিধার দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর আপনাদের কষ্ট করতে হবে না। এই খরস্রোতা পদ্মা নদী পার হতে গিয়ে আর কাউকে সন্তান হারাতে হবে না, বাবা-মাকে, ভাই-বোনকে হারাতে হবে না। আজকে সেখানে আপনারা নির্বিঘেœ চলতে পারবেন। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি।
পদ্মা সেতু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কমকাণ্ডে গতি আসার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশে আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল করেছি। আজকে পদ্মা সেতু হয়েছে। এখানেও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে, শিল্পাঞ্চল হবে, কর্মসংস্থান হবে এবং কলকারখানা হবে। আমাদের ফসল উৎপাদন হবে। সেই ফসল আমরা প্রক্রিয়াজাত করতে পারব। দেশে-বিদেশে রপ্তানি করতে পারব। এখানে যে মাছ হবে, তা আমরা প্রক্রিয়াজাত করে দেশে-বিদেশে পাঠাতে পারব। বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ ঘুচে যাবে এবং ভাগ্য পরিবর্তন হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে সভানেত্রী নির্বাচিত করে। শত বাধা পেরিয়ে আমি আপনাদের মাঝে আসি। আমার লক্ষ্য জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ করা। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। দেশের মানুষের জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিত করা। অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে আজকে আমরা বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আজকে আমরা বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিক করে মানুষের ঘরের কাছে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করেছি।
দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ওয়াদা ছিল- প্রত্যেক ঘরে আলো জ্বলবে। আজকে বাংলাদেশের প্রত্যেক ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব বলে প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলাম। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। সবার হাতে মোবাইল ফোন। সবাই আজকে অনলাইনে কেনাবেচা করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি। মানুষের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। উন্নত জীবন যাতে সবাই পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করব। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এই একটা কারণে বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচিত হয়েছি এবং এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছি।
খাদ্যের চাহিদা পূরণে সবাইকে ফসল উৎপাদনের দিকে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বর্ষাকালে এ অঞ্চলে বন্যা হতে পারে। এখন থেকে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, আপনারাও প্রস্তুতি নিতে থাকেন। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার শক্তি বাংলাদেশ রাখে।
দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আজকে সারা বিশ্ববাপী খাদ্যের অভাব। বাংলাদেশে যেনো খাদ্যের অভাব না হয়, সেজন্য যার যেটুকু জমি আছে, যে যা পারেন তাই উৎপাদন করবেন। নিজে খাবেন, অপরকে দেবেন। বাজারে পাঠাবেন। কোনো জায়গায় এক ইঞ্চি জমি বাদ না যায়, সেভাবে কাজ করবেন। এই দেশ আপনাদের। এই দেশ আমাদের। জাতির পিতা দেশ দিয়ে গেছেন। এই দেশকে আমরা গড়ে তুলব উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা হিসেবে।’
পদ্মায় আর কাউকে স্বজন হারাতে হবে না : শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবা-মা সব হারিয়ে পেয়েছি আপনাদের। আপনাদের মাঝে খুঁজে পেয়েছি বাবা ও মায়ের স্নেহ। আপনাদের পাশে আমি আছি। আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত- এই ওয়াদা আমি দিয়ে গেলাম। আপনাদের জন্য প্রয়োজনে আমার নিজের জীবন দেব। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন পিতার স্বপ্ন পূরণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়