নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি

আগের সংবাদ

অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার : অভিযানে বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

পরের সংবাদ

দিশাহারা ব্যাটিংয়ে বড় হার এক টেস্টে ৯ ‘শূন্য’র লজ্জা : দাপটে খেলে সিরিজ জিতল লঙ্কানরা

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : ব্যাটারদের ব্যর্থতায় লঙ্কানদের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। এ হারের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হারল মুমিনুল। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট ড্র করলেও ঢাকা টেস্টে সিংহলিজদের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ উইকেটে হারল তামিম-সাকিবরা। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার মানুষের জন্য এ জয় স্বস্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করেন ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ডিকভেলা। তিনি বলেন, আমরা কঠিন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই জয় মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি।
লঙ্কানদের বিপক্ষে টাইগাররা কেন সিরিজ হারল, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ কেউ বলছেন শ্রীলঙ্কার এ দলটা অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল, তেমন বলার সুযোগ নেই। সিরিজটা জিততে না পারলেও অন্তত খুব সম্মানের সঙ্গে ড্র

করতে পারা উচিত ছিল বাংলাদেশের। আমাদের টেস্ট দলের ওই সামর্থ্য আছে। চট্টগ্রামে একই রকম পরিস্থিতি থেকেই চাপের মুখে দারুণ ব্যাটিং করে ড্র করেছিল শ্রীলঙ্কা। টাইগাররা সেটি পারিনি। আবার কেউ কেউ বলছেন, দল নির্বাচনে একজন স্পিনার কম থাকা, একই সঙ্গে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্বিতীয় টেস্ট ও সিরিজটি হারতে হয়েছে। পাশাপাশি দল যখন জয়-পরাজয়ের সামনে, এমন চাপের মুখে টাইগারদের ব্যাটিংটা যে কখনই ভালো হয় না, সেটিও আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে।
এমন ব্যাটিং বিপর্যয় দু-একবার হলে সেটিকে অঘটন হিসেবে ধরে নেয়া যায়, কিন্তু বারবার হলে সেটি খুবই আশঙ্কার ব্যাপার। দলে ব্যাটিং কোচ, বিশেষজ্ঞ কোচ আছেন। তারা এর দায় এড়াতে পারেন না। নতুন ব্যাটারদের দিয়ে আঙুল না তুললেও অনেকে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদেরও দিকে আঙুল তুলেছেন। কেন রানে ফেরানো যাচ্ছে না অভিজ্ঞদের? আর এমন কন্ডিশনে শ্রীলঙ্কান পেসারদের বোলিং দেখে উপলব্ধি হওয়া উচিত এ বিভাগে টাইগাররা কতটা পিছিয়ে আছে।
টেস্টে সময়টা ভালো যাচ্ছে না অধিনায়ক মুমিনুল হকের। মাঠে তার নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রানখরায় আছেন দেশের একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার তকমা পাওয়া এ খেলোয়াড়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ হারের পর মুমিনুল প্রসঙ্গটি আরো জোরালোভাবে সামনে আসে। গতকাল বিকালে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, মুমিনুল কি চিন্তা করছে সেটা জানার অপেক্ষায় আছেন তারাও।
বিসিবি সভাপতির দিকে প্রশ্নটা ছিল এমন, মুমিনুল ফর্মে নেই আবার অধিনায়ক, এর আগে মাশরাফির ক্ষেত্রেও আমরা দেখেছি বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স করতে পারেনি, অফ ফর্মে থাকলে নেতৃত্বের ওপরও একটা বড় চাপ আসে, সেক্ষেত্রে বিসিবি কী ভাবছে?
নাজমুল বলেছেন, একটা অধিনায়ক যখন রান করতে পারে না ওর ওপর চাপটা কিন্তু আরো অনেক বেশি। আমার ধারণা মুমিনুল প্রচণ্ড মানসিক চাপে আছে। আমার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ হয়েছে, আমি ওকে বলেছি ওর সঙ্গে বসব। একটু খোলামেলা কথা বলে দেখি ওর মাথায় কী আছে, ও কী চিন্তা করছে।
টেস্টে অধিনায়কত্বটা মুমিনুলের কাছে আসে হঠাৎ করে। গ্রহণের জন্য বলতে গেলে প্রস্তুত ছিলেন না মুমিনুল। সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞায় তার কাঁধে আসে নেতৃত্ব ভার। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ দিয়ে হয় শুরু। দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হার। এখন হাসছে না তার ব্যাটও। শেষ ১০ ইনিংসে তার রান মাত্র ৭৪। ৮ ইনিংসেই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। তিনটিতে মেরেছেন ডাক। রান না পাওয়ায় বেশ সমালোচিত হচ্ছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। সঙ্গে যোগ করছে নেতৃত্বগুণের ঘাটতিও। সব মিলিয়ে মুমিনুলের নেতৃত্বে ১৭ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১২টিতে হেরেছে, ২টিতে ড্রয়ের সঙ্গে জিতেছে কেবল তিন ম্যাচে। লম্বা সময় ৫০-এর বেশি গড়ে ব্যাট করা টাইগার দলপতি বর্তমানে নিজের ব্যাটিং গড় নামিয়েছেন ৪০-এর নিচে। অধিনায়ক হিসেবে ৩১.৪৫ গড়ে ৯১২ রান করেছেন মুমিনুল। যেখানে তার বর্তমান ক্যারিয়ার ব্যাটিং গড় ৩৮.৩২।
বাংলাদেশ-শ্রীলংকার সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। এ পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ৩ জয়, ২ হার, ১ ড্রতে ৪০ পয়েন্ট ও শতকরা ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ জয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে শ্রীলংকা।
আর ৮ ম্যাচে ১ জয়, ৬ হার, ১ ড্রতে ১৬ পয়েন্ট ও শতকরা ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ জয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পর টেবিলের নবম ও শেষ দল ইংল্যান্ড। টেবিলের শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া। ৮ ম্যাচে ৫ জয়, ৩ ড্রতে ৭২ পয়েন্ট ও শতকরা ৭৫ শতাংশ জয় পেয়েছে অজিরা।
মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ছয় ব্যাটার শূন্য রানে আউট হওয়ার পরও লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ৩৬৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করেছিল বাংলাদেশ। যার ফলে একসঙ্গে হয়েছিল দুটি রেকর্ড। প্রথমত, এক ইনিংসে সর্বোচ্চ শূন্য আর অন্যটি ছিল ছয়টি শূন্যের পরও দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে এর সঙ্গে আরো তিনটি শূন্য যোগ করে নতুন বিব্রতকর রেকর্ডে নাম তুলেছে স্বাগতিকরা। টেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ শূন্যের বিশ্বরেকর্ডে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গী হলো তারা। এ তিন দলই এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯টি ডাকের নজির গড়েছে।
ম্যাচ শেষে টাইগারদের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলছেন, ওরা বাজে উইকেটে খেলে অভ্যস্ত, তাই ভালো করতে পারছে না। আমি হতাশাটা বুঝতে পারছি। যত ভালো উইকেটে আমরা খেলব, ক্রিকেটারদের উন্নতিও তত ভালো হবে। আমি জানি সবাই জিততে চাচ্ছে। আমি জানি চটজলদি ফলাফলের সুযোগ আছে।
বাজে উইকেটে খেলে প্রতিপক্ষকে ১০০ রানে অলআউট করে ফেলে আমরা ১২০ রান করব। এভাবে খেললে দল উন্নতি করবে না। এভাবে খেলেও কিন্তু সিরিজ জিততে পারিনি- আরো যোগ করেন।
স্লো উইকেট, স্পিন উইকেটে খেলে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু স্পোর্টিং উইকেট হলে ক্রিকেটারদের ব্যর্থতার ছাপ ফুটে উঠত। বিদেশের মাটিতে যে সমস্যা আরো প্রকটভাবে দেখা দিত। সদ্য হারা ঢাকা টেস্টে ছিল স্পোর্টিং উইকেট, কিন্তু বাংলাদেশ এখানে সুবিধা আদায় করতে পারেনি।
টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৩২টি ম্যাচ খেলেছে। তাতে সাফল্য বলতে ১৬টি ম্যাচে জয় আর ১৮টিতে ড্র। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে ২০১৬ সালে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০১৭ সালে স্লো উইকেট/টার্নিং উইকেট বানিয়ে জয় পেয়েছিল। আবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে এমন উইকেট বানিয়ে উল্টো ফলও পেয়েছিল। ঢাকা টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন শ্রীলঙ্কার আসিথা। আর সিরিজসেরা হন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। দুটি সেঞ্চুরিসহ সিরিজে ৩৪৪ রান করেছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়