নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি

আগের সংবাদ

অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার : অভিযানে বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

পরের সংবাদ

তৎপর ঢাকা-দিল্লি : মুক্তিযুদ্ধ স্মারক স্বাধীনতা সড়ক এ বছরই

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের নতুন স্মারক হিসেবে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ‘স্বাধীনতা সড়ক’। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ঠিক করা হয়, চাপড়া থেকে মুজিবনগর পর্যন্ত রাস্তাটির নাম স্বাধীনতা সড়ক রাখা হবে। ইতিহাস বলে, সেই উত্তাল একাত্তরের কোনো একদিন মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে কলকাতার কিছু সাংবাদিককে খবর পাঠানো হলো, ১৭ এপ্রিল ভোরে প্রেস ক্লাবে উপস্থিত থাকতে। ভারতের কৃষ্ণনগর, চাপড়া, হৃদয়পুর হয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হলো সীমান্ত পেরিয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভূখণ্ড আমবাগান ঘেরা বৈদ্যনাথ তলায়। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে শপথগ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার, মুজিবনগর সরকার। সাংবাদিক বৈঠকও হয়। এরপরে ওই একই পথে কলকাতায় ফিরে যান সাংবাদিকরা।
সেই স্মৃতি বিজড়িত সীমান্ত এলাকা বৈদ্যনাথ তলার নাম সেই দিনই বদলে রাখা হয় মুজিবনগর। এই সীমান্তবর্তী এলাকাকে স্মরণীয় করে রাখতে সেখানে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতের নতুন দরজা (দুই দেশের প্রবেশ-প্রস্থান পয়েন্ট) তৈরির জন্য উদ্যোগী হয়েছে দিল্লি ও ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গত বছরের ঢাকা সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে স্থির হয়, চাপড়া থেকে হৃদয়পুর হয়ে মুজিবনগর পর্যন্ত ওই ঐতিহাসিক রাস্তাটির নামকরণ করা হবে ‘স্বাধীনতা সড়ক’।
নামে ‘স্বাধীনতা সড়ক’ হলেও সেখানে ভিসা ইমিগ্রেশনের বন্দোবস্ত না-থাকায় মানুষের যাতায়াত ছিল না। এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য ভারত সফরে যাতে স্বাধীনতা সড়ক বরাবর নতুন ইমিগ্রেশন পয়েন্ট ঘোষণা করা যায়, সেজন্য তৎপর দুই সরকার। এজন্য সেখানে এগজিট এবং এন্ট্রির জন্য ৬০০ মিটার রাস্তা পাকা করতে হবে। কাজটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় হতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশনা দিয়েছে। সেখানে ভিসা ইমিগ্রেশন পয়েন্ট খোলা হলে দুদেশের দুই প্রান্তেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ ইমরান সম্প্রতি নদিয়ার হৃদয়পুর সীমান্ত ঘুরে দেখেন। ইতোমধ্যে সেখানে ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের ঘাঁটি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের দিকে কাস্টমস আর ভিসা ইমিগ্রশন পয়েন্ট তৈরির জন্য পরিকাঠামো গড়ার কাজ প্রায় শেষ। ভারতের দিকে পরিকাঠামো যাতে হয়, সে ব্যাপারে দিল্লির আশ্বাস পাওয়া গেছে। এরপর রাস্তা পাকা করার কাজ বাকি থাকবে।
গত বছর নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, মুজিবনগর থেকে নদীয়া পর্যন্ত ঐতিহাসিক রাস্তাকে ‘স্বাধীনতা সড়ক’ নাম দিতে ঢাকার প্রস্তাবে সাড়া দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানান, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তার মনে হয়েছে নতুন চেক পোস্টের বিষয়ে সবাই আগ্রহী।
অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসাল্টেটিভ কমিটির (জেসিসি) বৈঠক দিল্লিতে হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ মে। বৈঠকে যোগ দিতে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি দিল্লি যাওয়ার আগে ২৮-২৯ মে গুয়াহাটিতে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী গোষ্ঠী আয়োজিত নদী সম্মেলনে যোগ দেবেন। সূত্রের খবর, গুয়াহাটির অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশের রাষ্ট্রদূত গেলেও, আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও না-ও যেতে পারেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়