নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের গণবিজ্ঞপ্তি

আগের সংবাদ

অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার : অভিযানে বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

পরের সংবাদ

আফগানে তালেবান : নিরাপত্তা প্রশ্নে চীন-রাশিয়া ভারতসহ ৮ দেশের বৈঠক

প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবান শক্তি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলো। পরিস্থিতির মূল্যায়নে বিভিন্ন সময়ে বৈঠকে বসেছে তারা। সে ধারাবাহিকতায় তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে শুরু হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের চতুর্থ দফা আঞ্চলিক সহযোগিতা বৈঠক। ভারতসহ আট দেশের এই বৈঠকে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা, মাদক পাচার রোধের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। লক্ষণীয়, বৈঠকে অংশ নিতে আমন্ত্রিত ছিল না আফগানিস্তানের অন্যতম প্রতিবেশী পাকিস্তান।
বৈঠকে আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে আবেদন জানিয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিনিধি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল গতকাল শুক্রবার এ ব্যাপারে বলেন, ভারত বরাবরই আফগানিস্তানের জনতার পাশে রয়েছে। সুরক্ষা এবং সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে তাদের সর্বতো সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে আয়োজিত ওই বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে হাজির ছিল রাশিয়া এবং চীন। পাশাপাশি আরো ছিলেন ইরান এবং সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অন্তর্গত তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান এবং কিরঘিজস্তানের প্রতিনিধিরা।
কাবুলে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর গত বছরের অক্টোবরে মস্কোয় তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জে পি সিংহের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। ওই বৈঠকে মোট ৯টি দেশ অংশ নেয়। ওই বৈঠকের পরে আফগানিস্তানের সুরক্ষা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্তরের বৈঠকের প্রস্তাব দেয় নয়াদিল্লি। তারই ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে এ বৈঠক।
আফগানিস্তানে চার বোমা বিস্ফোরণে নিহত ১৬ : তালেবান বাহিনী ক্ষমতায় আসার পরেই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের সংখ্যা বেড়েছে আফগানিস্তানে। বেশির ভাগ হামলারই দায় নিয়েছে আইএস। গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও উত্তর সীমান্তের বল?খ প্রদেশের মূল শহর মাজার-ই-শরিফে চারটি বোমার বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১৬ জন। গুরুতর আহত বহু। খোঁজ নেই অনেকেরই। হামলার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছে আইএস।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত বুধবার মাজার-ই-শরিফে যাত্রীবাহী তিনটি মিনিবাসে পর পর বিস্ফোরণ

হয়। এসব বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১০ জন। বিস্ফোরণের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা। বল?খ প্রদেশের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান নজিবউল্লাহ তাওয়ানা জানান, নিহত ১০ জনের মধ্যে তিন জনই মহিলা। বল?খ প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র আসিফ ওয়াজিরি জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসগুলোতে বোমা পেতে রেখেছিল জঙ্গিরা। কিন্তু বিস্ফোরণের ক্ষণ নির্ধারিত ছিল কাছাকাছি সময়ে, ফলে পর পর বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের বেশ কয়েক ঘণ্টা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্ফোরণের দায়ভার স্বীকার করে বিবৃতি দেয় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। ওই একই দিনে রাজধানী কাবুলের একটি মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত হন আরো ৬ জন। গুরুতর আহত হন ১৮ জন।
পুলিশ সূত্রে খবর, শহরের মাঝখানে হজরত জাকারিয়া মসজিদে বিকালে নামাজ পড়ার জন্য জমায়েত হন শহরবাসী, তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মসজিদের একটি বৈদ্যুতিক পাখার মধ্যে রাখা ছিল বোমাটি। পুলিশ আরো জানায়, কাবুলে মসজিদ হানার দায় এখনো পর্যন্ত কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে বিস্ফোরণের ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটাও ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীরই কাজ।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়