আইপিও আবেদন করতে বাড়াতে হবে বিনিয়োগ

আগের সংবাদ

‘ইভিএম’ রেখেই ভোটের ছক!

পরের সংবাদ

কেরালাকে হারিয়ে সেমির স্বপ্নে বিভোর বসুন্ধরা

প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : এএফসি কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতীয় ক্লাব মোহনবাগানের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ছিটকে যাচ্ছিল বসুন্ধরা। সম্ভাবনার দ্বার ধীরে ধীরে যেখানে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল সেখান থেকে দ্বার খোলার দায়িত্ব নিয়েছে প্রথম ম্যাচে বসুন্ধরার কাছে হেরে যাওয়া লঙ্কান ক্লাব মাজিয়া স্পোর্টস এন্ড রিক্রিয়েশন। গত ২১ মে বিকাল ৫টায় কলকাতার ঝড়ের সঙ্গে মোহনবাগানের বিপক্ষে ৪-০ গোলে উড়ে যায় বসুন্ধরা। এরপর রাত ৯টায় গোকুলাম কেরালাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বসুন্ধরাকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা জাগায় মাজিয়া স্পোর্টস। জটিল সমীকরণে সবার আগে প্রয়োজন ছিল গোকুলাম কেরালাকে হারিয়ে বসুন্ধরার পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন। এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে মাজিয়া স্পোর্টস ও মোহনবাগানের মধ্যবর্তী খেলার দিকে। সেখানে মাজিয়া স্পোর্টসের জয় কিংবা দুই দলের ড্র ছাড়া অন্য কোনোকিছুরই প্রত্যাশা করবে না কিংস সমর্থকরা। কেননা মাজিয়া জয় পেলে হেড টু হেড বিবেচনায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে বসুন্ধরা। এছাড়া পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিলে সর্বোচ্চ ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকবে বসুন্ধরা। কিন্তু মোহনবাগান জিতে গেলে হেড টু হেড বিবেচনায় বসুন্ধরার প্রত্যাশাকে বানের জলে ভাসিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাবে অ্যাথলেটিকো মোহনবাগান।
এই জটিল সমীকরণে সবার আগে বসুন্ধরার কাছে যার অনবদ্য প্রয়োজন ছিল তা হলো গোকুলাম কেরালার বিপক্ষে জয়। সল্টলেকে গতকাল বিকালে সেই কাক্সিক্ষত জয় পেয়েছে অস্কার ব্রুজনের শিষ্যরা। ভারতের ক্লাব গোকুলাম কেরালাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে। কিংসদের হয়ে একটি করে গোল করেছেন রবসন রবিনিও ও নুহা মারং।
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে প্রথম ম্যাচের একমাত্র স্কোরার নুহা মারংকে একাদশে ফিরিয়েছেন অস্কার ব্রুজন। একই সঙ্গে প্রথম দিনের কৌশল অনুসারে রক্ষণভাগকে বেশ অপ্রতিরোধ্যভাবে সাজিয়েছেন তিনি। আর ফরোয়ার্ডে নুহার মারং খেলেছেন একা। তার পেছনে ছিল তিন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। ফুটবলরদের অসাধারণ দক্ষতায় কেরালাকে শুরু থেকেই বেশ চেপে ধরেছিল রবসন রবিনিওরা। ম্যাচের প্রথমেই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু প্রতিবার ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ হচ্ছিল ব্রুজনের শিষ্যরা। ১৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেয়া সোহেল রানার গতির শট ব্লক করে দেন ডিফেন্ডার দোউবা আমিনউ। ২৩তম মিনিটে মিগেলের প্রচেষ্টা দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল চলে যায় মাঠের বাইরে। ২৭ মিনিটে কেরালাকে রক্ষা করেন গোলকিপার রাকশিত দাগার। বাম প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে দ্ইু ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে গোলমুখে নেয়া কিংস অধিনায়কের শটকে লাফিয়ে উঠে রুখে দেন দাগার। একের পর এক আক্রমণে ব্যর্থ হলেও প্রথমার্ধেই সফলতার মুখ দেখে বসুন্ধরা। ৩৬তম মিনিটে কিংস জার্সিতে অসাধারণ গোলে কেরালার রক্ষণ ভাঙ্গেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সেই রবসন রবিনিও। ক্সের কোণা থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে দূরের পোস্টে জাল খুঁজে নেন তিনি। এরপর ৪১তম মিনিটে আবারো শট নিয়েছেন তিনি। তবে এই সময় বলকে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। ১ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতি থেকে ফিরে সমতায় ফিরতে বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠেছে কেরালা। তবে ডি বক্সের সামনে বিশ্বনাথ ঘোষ ও খালেদ শাফির প্রতিরোধ ব্যূহ ভাঙতেই অধিকাংশ সময় তারা ব্যর্থ হয়েছে। কেরালা যখন রক্ষণ ভেঙে সমতায় ফেরার চেষ্টায় লিপ্ত, সেই সুযোগ বসুন্ধরার লিডকে দ্বিগুণ করেন প্রথম ম্যাচের স্কোরার নুহা মারং। সম্প্রতি কিংস শিবিরে নাম লেখানো এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড তার উচ্চতার জন্যই অনেকটা অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকেন। ভারতীয় উপমহাদেশের ফুটবলারদের উচ্চতার তুলনায় অনেকেটা উপরেই উঠে থাকে নুহা। এই সুবাদে রবসনের ক্রস যখন কেরালার ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছিল সেখানে সহজেই হেড করে দ্বিগুন লিড উপহার দেন নুহা।
এরপর ৭৫ মিনিটে এক গোল শোধ দেয় কেরালা। ডান প্রান্ত থেকে জসিমের ক্রসে ছয় গজ বক্সের সামনে বল নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ডান পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন ফ্লেচার। ৯০ মিনিটে অল্পের জন্য বেঁচে যায় কিংস। প্রায় ত্রিশ গজ দূর থেকে ফ্লেচারের নেয়ায় ফ্রি কিক জিকোর হাতে লাগার পরেও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ দিকে বেশ কয়েকবার বল নিয়ে কেরালার ডি-বক্সে প্রবেশ করেছিল রবসন। তবে কেরালার ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের জন্য ব্যবধানকে আর বাড়াতে পারেননি তিনি।
এই ম্যাচে সবদিক থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেছে বসুন্ধরা। বল দখলের লড়াইয়ে কেরালার ৪৬ শতাংশ দখলের বিপরীতে বাংলাদেশি ক্লাবটির ফুটবলারদে দখলেই ছিল ৫৪ শতাংশ। আক্রমণের দিক থেকেও কৃপণতা প্রকাশ করেনি বসুন্ধরা। সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে ২২টি শট নিয়েছে রবসনরা। যেখানে ৬টি শট ছিল লক্ষ্য বরাবর। তাদের বিপরীতে গোকুলাম কেরালা ৯টি শটের মধ্যে ৪টি রেখেছে লক্ষ্য বরাবর।
বসুন্ধরার জন্য এএফসি কাপ অনেকটা আক্ষেপের টুর্নামেন্ট। ২০২০ সালের ১১ মার্চ ঢাকায় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হার্নান বার্কোসের চার গোলের সুবাদে টিসি স্পোর্টসকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দুরন্ত অভিষেক হয়েছিল তাদের। কিন্তু করোনার কারণে ওই বছর আর মাঠে গড়ায়নি এ প্রতিযোগিতা। গত বছর অনেকটা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছিল অস্কার ব্রুজেনের শিষ্যরা। কোনো ম্যাচ না হারলেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চ্যাম্পিয়নদের।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়