লাইসেন্স ছাড়াই ৭ বছর ট্রাক চালায় জসিম

আগের সংবাদ

ফাইভ-জিতে অনাগ্রহ কেন : তরঙ্গ নিলামের শর্ত ও নীতিমালা চূড়ান্ত হয়নি > ‘বুঝে-শুনে আগে বাড়তে চায় বেসরকারি অপারেটররা

পরের সংবাদ

ব্রাজিলের ড্রয়ের রাতে আর্জেন্টিনার জয়

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মেসিকে ছাড়াই চিলির বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। অপরদিকে ব্রাজিলকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে ইকুয়েডর। গতকাল স্বাগতিক চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার হয়ে একটি করে গোল করেছে ডি মারিয়া ও লতারো মার্তিনেজ। করোনার ধকল কাটিয়ে উঠতে না পারায় দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। করোনা পজিটিভ থাকায় ডাগ আউটে থাকতে পারেননি কোচ লিওনেল স্ক্যালোনিও। তাদের ছাড়াই ডি মারিয়ার নেতৃত্বে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড হাতে তুলে নিয়েই সত্যিকারের নেতা হয়ে উঠেছিলেন ডি মারিয়া। শুরুতে এগিয়ে দিয়েছিলেন দলকেও। ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। সপ্তম মিনিটেই পেয়ে যায় গোলের দেখা। রদ্রিগো ডি পল বল বাড়িয়ে দেন ডি মারিয়ার দিকে। তার সামনে তখন প্রতিপক্ষে ৩ ফুটবলার। তাদের এক রকম ফাঁকি দিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শটে দৃষ্টিনন্দন এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি আলবিসেলেস্তারা। ম্যাচের ২০তম মিনিটেই স্বাগতিক চিলিকে সমতায় ফেরান বেন ব্রেন্টন দিয়াজ। মার্সেলিয়ানো নুয়েজের কাছ থেকে পাওয়া বলে গোল করেন তিনি। ২৫ মিনিটে ডি মারিয়ার বক্সের বাইরে থেকে নেয়া আরো একটি শট আটকে দেন গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডদের একের পর এক আক্রমণে স্বাগতিকদের প্রতিরোধ দুর্গ ভেঙে যায় ৩৪ মিনিটে। ৩৪ মিনিটেও ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন রদ্রিগো ডি পলের শট। কিন্তু ফিরতি বল পেয়ে গোল করতে ভুলেননি মার্তিনেজ। ৩৭ ও ৩৮ মিনিটে দুটি সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি চিলি। পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় স্বাগতিকদের। বিরতি থেকে ফিরে দুদলই কিছুটা ছন্দহীন ফুটবল খেলতে থাকে। তবে ৮৪ মিনিটে এসে গোলের খুব কাছাকাছি ছিল চিলি। কিন্তু আর্জেন্টাইন ত্রাণকর্তা মার্তিনেজ আটকে দেন তাদের। বেন ব্রেন্টেনের হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের। বাছাইপর্বে এটি আর্জেন্টাইনদের নবম জয়। ১৪ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে আছে আলবিসেলেস্তেরা। ১৫ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সাতে আছে চিলি।
অপরদিকে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে গতকাল ঘরের মাঠে শক্তিশালী ব্রাজিলকে জয় নিতে দেয়নি স্বাগতিক ইকুয়েডর। লাল কার্ড আর ফাউলে ঠাসা ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল সফরকারী সেলেসাওরা। স্বাগতিকদের ৪৫ ভাগ বল দখলের বিপরীতে ৫৫ ভাগ বল দখলে রেখেছে নেইমারহীন ব্রাজিল। সফরকারীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ১২টি শটের বিপরীতে স্বাগতিকরা নিয়েছে ১০টি। তবে স্বাগতিকরা পেরে উঠেনি লক্ষ্যে রাখতে।
সেলেসাওদের ৬টির বিপরীতে স্বাগতিকরা নিয়েছে মাত্র একটি। সেই এক শটই যথেষ্ট ছিল সফরকারীদের জয় রুখে দেয়ার জন্য। স্বাগতিকরা রুদ্ধশ্বাসের সেই শট নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল ৭৫তম মিনিটে। ম্যাচের প্রথমার্ধ্বেই সফরকারীদের এগিয়ে দেয় ক্যাসেমিরো। ৬ মিনিটের মাথায় গোল এনে দেয় ক্যাসেমিরো। ফেলিপে কৌতিনিওর বলে হেড করেন ম্যাথিউস কুনহা। সেটা কোনোরকমে বাঁচান ইকুয়েডর গোলরক্ষক। বল পেয়ে ডান পায়ের আলতো টোকায় গোলবারের কাছ থেকে নেয়া শটে গোল করেন ক্যাসেমিরো। পরে ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে গিয়ে স্বাগতিকদের পক্ষে সমতা টানেন ফেলিক্স তোরেস।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৮৫০ মিটার উঁচুতে খেলতে নেমে মোট ৩২টি ফাউল করেছেন দুই দলের ফুটবলাররা। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই মোইজেজ কাইসেদোকে বাজে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ব্রাজিলের এমারসন। এর রেশ চলেছে ম্যাচজুড়ে। ম্যাচের ২০তম মিনিটে এমারসন ফাউল করেন আরো একটি। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এটি হতে পারত ইকুয়েডরের জন্য আশীর্বাদের। কিন্তু এর ৫ মিনিট আগে লাল কার্ড পায় তারাও। ২৬তম মিনিটে ব্রাজিল পড়েছিল আরো বড় বিপদে।
৯ জনের দল হতে বসেছিল তারা। প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণ রুখতে ডি-বক্স থেকে বের হয়ে শট নেন এলিসন। কিন্তু একটু পরই তার পা লাগে এনের ভ্যালেন্সিয়ার মাথায়। লাল কার্ড দেখান রেফারি। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায় ভিএআরের সাহায্যে। যোগ করা সময়ে এসে ব্রাজিলের গোলরক্ষক বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের মিডফিল্ডার প্রেসিয়াদোর মুখে আঘাত করেন। এরপর তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ইকুয়েডটের দুই পেনাল্টির সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে বদলে গেছে। চোটের কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার। তার জায়গায় স¤প্রতি বার্সেলোনা থেকে ধারে অ্যাস্টন ভিলায় খেলতে যাওয়া কৌতিনিওকে নিয়ে মাঠে নামে সেলেসাওরা। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিল ১৪ ম্যাচে ১১ জয় ও তিন ড্রয়ে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে ব্রাজিল। ১৫ ম্যাচে সাত জয় ও তিন ড্রয়ে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ইকুয়েডর।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়