তথ্যমন্ত্রী : টিআইয়ের রিপোর্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে

আগের সংবাদ

নীরব মহামারি অসংক্রামক রোগ

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামে ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কষছে ঢাকা-বরিশাল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আজ থেকে চট্টগ্রাম পর্ব শুরু হচ্ছে। ঢাকায় চার দিনে ৮ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা পর্বে ২ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ৩ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে কুমিল্লার ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে মেহেদী হাসান মিরাজের চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। আজ দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স-খুলনা টাইগাসের মোকাবেলা করবে। দিনের অন্য ম্যাচে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিলেট সানরাইজার্স-মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকার বিপক্ষে খেলবে। ঢাকা পর্বে ফরচুন বরিশাল ৩ ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছে। অন্য দিকে মিনিস্টার গ্রুপ অব ঢাকা ৪ ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে। ঢাকা পর্বের ব্যর্থতা ভুলে চট্টগ্রামে ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কষছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঢাকা এবং সাকিব আল হাসানের বরিশাল। এবার বিপিএলে দল গোছানোর পর সবাই মনে করেছিলেন ঢাকা এবং বরিশাল শক্তিশালী দল গড়েছে। ‘পঞ্চ পাণ্ডবে’র তিন পাণ্ডব মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাজানো মিনিস্টার ঢাকার কাছে পাত্তা পাবে না কেউ। দেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে টি-টোয়েন্টির বড় নাম ব্যাট ও বলের স্পেশালিস্ট আন্দ্রে রাসেল যুক্ত হওয়ায় মনে হচ্ছিল শিরোপার অন্যতম দাবিদার ঢাকা।
দলটির তিন শীর্ষ তারকা মোটামুটি আলো ছড়িয়েছেন। রিয়াদ প্রথম পর্বের টপ স্কোরার। তামিম ইকবালও জোড়া হাফ সেঞ্চুরিয়ান হয়ে রান তোলায় ওপরের দিকেই অবস্থান করছেন। আর ঢাকা পর্বের শেষ তথা ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথম মাঠে নামা মাশরাফিও বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য (৪ ওভারে ২/২১) দেখিয়েছেন। আন্দ্রে রাসেল স্বরূপে আবির্ভূত হতে না পারলেও খারাপ করেননি, তারপরও ঢাকা পর্ব ভালো কাটেনি রিয়াদ বাহিনীর। চার ম্যাচে একটি মাত্র জয় সঙ্গী মিনিস্টার ঢাকার।
অন্য দিকে সাকিবের ফরচুন বরিশালও শক্তিশালী দল গড়তে সক্ষম হয়। সাকিব, ক্রিস গেইলকে নিয়েও ঢাকা পর্বে তিন ম্যাচে একটি মাত্র জয় পেয়েছে বরিশাল। সে তুলনায় ভালো করেছে মেহেদি হাসান মিরাজের চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
দুই জায়ান্ট মিনিস্টার ঢাকা ও খুলনা টাইগার্সকে হারিয়ে মিরাজের দল এখন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সঙ্গে যৌথভাবে রয়েছে শীর্ষে। তবে পয়েন্ট সমান ৪ হলেও ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সই আসলে সবার ওপরে। দুই ম্যাচে অংশ নিয়ে প্রতিটিতেই জিতেছে তারা।
তিন বিদেশি রিক্রুট ফাফ ডু প্লেসি, মইন আলি এবং সুনীল নারিনের মধ্যে শুধু ডু প্লেসিই এখনো পর্যন্ত খেলেছেন। তার মানে কিছুই করতে পারেননি এ প্রোটিয়া।
সুনীল নারিন দলের সঙ্গে থাকলেও হালকা ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে পারেননি। আর মইন আলিও নাকি চট্টগ্রাম পর্বে এসে যোগ দেবেন দলের সাথে।
আর দলটির এক নম্বর পারফরমার লিটন দাসও ছুটিতে থাকায় কোনো ম্যাচ খেলেননি। তারপরও মাঠে দুর্বার কুমিল্লা। ফরচুন বরিশাল আর সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে জয়ের শতভাগ জয়ের রেকর্ড অব্যাহত ইমরুল বাহিনীর।
ঢাকার বিপক্ষে ১৮৩ রানের বিরাট ও চ্যালেঞ্জিং স্কোর টপকে দারুণ জয় পেলেও পরে সে ধারাবাহিকতা রাখতে পারেনি মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্স। পরের ম্যাচেই মিরাজের চট্টগ্রামের কাছে হেরেছে ২৫ রানে। ঢাকা পর্বে তাই মুশফিক বাহিনীর জয় পরাজয় সমান সমান। অন্যদিকে তারুণ্যনির্ভর সিলেট সানরাইজার্সও চমক দেখিয়েছে। শেষ ম্যাচে ঢাকাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই জয়ের নাগাল পেয়েছে মোসাদ্দেক হোসেনের দল। ঢাকা পর্বে ব্যাট হাতে তিন ম্যাচে ব্যর্থ ছিলেন সাকিব আল হাসান।
তিন ম্যাচে আউট হয়েছেন ১৩, ২৩ ও ১ রান করে। প্রথম ম্যাচে দল জিতলেও পরের দুটিতে হার। গতকাল ফরচুন বরিশালের দলীয় অনুশীলন ছিল সকাল সাড়ে ১০টায়। তার আগেই নিজেকে ঝালিয়ে নিতে মাঠে উপস্থিত হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাঠে এসে ব্যাট-প্যাড পরে প্রেসবক্স সীমান্তের পাশের উইকেটে ব্যাট নিয়ে নেমে পড়েন। এমন সাকিবের দেখা মেলা ভার। সাগরিকার বুকে এদিন অন্য এক সাকিবকে আবিষ্কার করা গেল। ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটানোর মিশন নিয়ে সাগরিকার বুকে প্রায় দেড় ঘণ্টা একা একাই অনুশীলন করলেন সাকিব।
বিপিএলের গত তিন ম্যাচে বোলিং ভালো হলেও ব্যাটিংটা ঠিক হচ্ছে না তার। নিজের ব্যাটিং ব্যর্থতার সঙ্গে দলের বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতা মিলিয়ে বরিশালের তাঁবুতে অস্বস্তি বাড়ছে। তিন ম্যাচে তাদের জয় মাত্র একটিতে। এমন অবস্থায় চট্টগ্রামের সাগরিকা স্টেডিয়ামের বুকে ব্যাটারদের নিয়েই বেশি কাজ করতে দেখা গেল কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনকে। হবেই না কেন বিপিএলে নিজেদের অবস্থার উন্নতি করতে হলে ব্যাটারদের রানের ফেরার বিকল্প নেই।
অধিনায়ক সাকিবের ভাবনাও কম নয়। দলের ব্যাটিং তো আছেই, নিজের ব্যাটিং নিয়েও দুচিন্তায় তিনি। এই অবস্থায় নিজেকে ফিরে পেতে জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে দুজন থ্রোয়ারকে নিয়ে ঘণ্টাদেড়েক ব্যাটিং নিয়ে কাজ করেন।
আধঘণ্টারও বেশি সময় ব্যাটিং অনুশীলন করে বিরতিতে যান সাকিব। আবার যখন নেটে ফেরেন, তখন মাঠে ঢোকা শুরু করেন ফরচুন বরিশালের অন্য ক্রিকেটাররা। বিরতি থেকে ফিরেই লং শটস খেলার দিকে মনোযোগ দেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। কিছু শটস ‘পারফেক্ট’ না হলেও মিড উইকেট, লং অন ও লং অফের ওপর দিয়ে দারুণ কিছু শটস খেলেছেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়