গ্যালারি কায়া : বাংলাদেশ-ভারতের শিল্পীদের নিয়ে ‘এপিক ১৯৭১’

আগের সংবাদ

স্বস্তির ভোটে আইভীর হ্যাটট্রিক : সব শঙ্কা উড়িয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট, শামীম ওসমানের কেন্দ্রে হেরেছে নৌকা

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন কর্মীরা উদাসীন : একতরফা সিদ্ধান্তে শতভাগ আসনেই যাত্রী তুলছে বাস!

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গতকাল শনিবার থেকে গণপরিবহনে বিধিনিষেধ কার্যকর হলেও তা মানার ক্ষেত্রে কারো কোনো আগ্রহ নেই। সরকারের অনুমতি ছাড়াই একতরফা সিদ্ধান্তে শতভাগ যাত্রী নিয়ে বাস চালিয়েছে মালিকরা। সরকারি প্রজ্ঞাপনে নির্দেশনা ছিল আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলবে। সরকারি নির্দেশের তোয়াক্কা না করে ‘যত আসন তত যাত্রী’ নিয়ে বাস চালানোর ঘোষণা দেয় মালিকপক্ষ। তবে কার্যক্ষেত্রে তাও মানা হয়নি; বেশির ভাগ বাসে দাঁড়িয়েও যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সড়কে বিআরটিএর মোবাইল কোর্ট তৎপর ছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শতভাগ যাত্রী পরিবহন করার দায়ে কোনো বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
এদিকে রাজধানীর সব রুটের গণপরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক পরার ক্ষেত্রে যাত্রী ও পরিবহন কর্মীদের উদাসীনতা দেখা গেছে। বিধিনিষেধ কার্যকরে সড়কে বিআরটিএর তৎপরতা থাকলেও তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিআরটিএর ১০টি মোবাইল কোর্ট তৎপর ছিল। এছাড়া যাত্রীদের মধ্যেও বিধিনিষেধ না মানার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
সকালের দিকে কিছু কিছু গণপরিবহনে বিধিনিষেধ মানতে দেখা গেলেও অধিকাংশ বাসে অফিসগামী যাত্রীরা ঠাসাঠাসি ও ধাক্কাধাক্কি করেই ওঠানামা করেছে। সুরক্ষার জন্য যাত্রীদের মাস্ক পরার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। মাস্ক ছিল হাতে, থুতনিতে ও পকেটে। বাসে হেলপার ও চালকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক থাকলেও সেদিকে কেউ খেয়াল রাখেনি। সরকারের ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন পুরোপুরি উপেক্ষিত ছিল। রাজধানীর ধানমন্ডি শংকর, ঝিগাতলা, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, শাহবাগ, পল্টন ও গুলিস্তান এলাকায় সকালের অফিস টাইমে হেলপাররা চিরচেনাভাবে দরজায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ডেকে টেনে

তুলেছে। গাবতলী থেকে কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, ফার্মগেট এলাকায় সব বাসেই যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো ও নামানো হয়েছে। কিছু কিছু পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি কিছুটা মানার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে যাত্রীদের বেপরোয়া আচরণের কারণে তাও পরে আর টেকেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। অধিকাংশ গণপরিবহনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা ছিল না। আবার কিছু কিছু পরিবহনে এসব থাকলেও তা ব্যবহার না করে দরজার পাশেই রেখে দেয়া হয়। মিডলাইন পরিবহনের হেলপার সুমন জানান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে। যাত্রীরা চাইলে দেয়া হয়। মাস্ক পরার দায়িত্ব যাত্রীর নিজের, আমার নয়।
স্বাধীন পরিবহনের হেলপার মনির জানান, অতিরিক্ত যাত্রী নিতে চাই না, কিন্তু সিট না থাকার পরও যাত্রীরাই ঠেলাঠেলি করে বাসে উঠে পড়ে। আমাদের কিছুই করার থাকে না।
মোহাম্মদ আলী নামের এক যাত্রী বলেন, মতিঝিলে অফিসে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি, কিন্তু বাস পাচ্ছি না। দাঁড়িয়েও যাত্রী যাচ্ছে। বাসে কিছুটা সংকট আছে। তাই লোকজন যে যেভাবে পারছে ঠেলাঠেলি করে বাসে উঠছে। রামপুরা, মগবাজার রুটের বাসেও স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা যাত্রীদের ভিড়ে ঠাসা ছিল। সায়েদাবাদ-আব্দুল্লাহপুরগামী অনাবিল পরিবহনের কন্ট্রাকটর আব্দুল গনি জানান, এত যাত্রীর চাপে স্বাস্থ্যবিধি মানা কঠিন।
এদিকে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সড়কে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন অথরিটির (বিআরটিএ) ১০টি মোবাইল কোর্ট তৎপর ছিল। এর মধ্যে ঢাকায় ৬টি মোবাইল কোর্ট কাজ করেছে। স্বাস্থ্য বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপনে গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলের নির্দেশনা থাকলেও রাজধানীর কোথাও তা মানা হয়নি। কিন্তু এজন্য মোবাইল কোর্ট কোনো পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। এ প্রসঙ্গে বিআরটিএ’র উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) হেমায়েত উদ্দিন বলেন, পরিবহন আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি তদারকির জন্য আমাদের ১০টির মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত সড়কে কাজ শুরু করছে। এর পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার না করায় গণপরিবহনের বহু যাত্রীকে সতর্ক করা হয়েছে। রাজধানীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৬টি মোবাইল কোর্ট কাজ করছে।
জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগ, গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল, মতিঝিল, রমনা, ওয়ারী, চকবাজার, গেন্ডারিয়া, ডেমরা, বংশাল, লালবাগ, শ্যামপুর, সূত্রাপুর, হাজারীবাগ ও সদরঘাট ও এর আশপাশ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত-১ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন মনিরার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত-৫ ইসিবি চত্বর, বনানী, কাকলী, মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাজীপুর সড়কে সিটি করপোরেশন সীমানা এলাকা, ৩০০ ফিট এলাকা এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কে সিটি সীমানা ও এর আশপাশ এলাকায় তৎপরতা চালায়।
আর কেরানীগঞ্জ, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, ঢাকা-সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজা পারভিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করে। দিয়াবাড়ী, জোয়ারসাহারা, খিলক্ষেত, ঢাকা-আব্দুল্লাহপুর সড়কে সিটি করপোরেশন সীমানা এবং উত্তরা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত-৬ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে তৎপর ছিল। একইভাবে তেজগাঁও, ফার্মগেট, আদাবর, কলাবাগান, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর, বসিলা ব্রিজ, বাবু বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত-৭ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিলা বিনতে মতিনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত-৮ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় মিরপুর, কল্যাণপুর, গাবতলী বাস টার্মিনাল এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সিটি করপোরেশন সীমানা এলাকায়। অন্যদিকে গুলশান, ভাটারা, বাড্ডা, শাহাজাদপুর এবং রামপুরা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত-১০ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জুবের আলীর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়