সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

লিভারপুলকে রুখে দিল আর্সেনাল

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : ইংলিশ দ্বিতীয় সারির লিগ কাপে গতকাল লিভারপুলকে রুখে দিয়েছে ১০ জনের আর্সেনাল। ইএফএল কাপে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নিজেদের ঘরের মাঠে অ্যালিসন বেকাররা ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র করে। আগামী বৃহস্পতিবার রাতে দুই দল দ্বিতীয় লেগে ফের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে স্প্যানিশ সুপার কাপে গতকাল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে অ্যাথলেটিক বিলবাও। আগামী রবিবার রাতে প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ।
লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় একজন কম নিয়ে খেলল আর্সেনাল। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ম্যাচে জুড়ে আক্রমণে আধিপত্য করল লিভারপুল। কিন্তু আক্রমণভাগের ব্যর্থতায় কেবলই হতাশা ফুটে উঠল। অসাধারণ দৃঢ়তায় রক্ষণ আগলে রেখে ড্রয়ে মাঠ ছাড়ল মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন গ্রানিত জাকা। ২০১৫ সালে জার্গেন ক্লপ লিভারপুলের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ম্যাচের আগ পর্যন্ত লিভারপুল সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে যে কোনো প্রতিপক্ষের হিসেবে আর্সেনালের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি ৪৩টি গোল করেছিল। সেই তারাই এবার ৭৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে ১৭টি শট নিয়ে মাত্র একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। লক্ষ্যে থাকা একমাত্র প্রচেষ্টাটিও একেবারে শেষ দিকে। আর ঘর সামলাতে ব্যস্ত আর্সেনালের তিন শটের একটি ছিল লক্ষ্যে।
এর আগে নিজেদের ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য গোল পেতে পারত লিভারপুল। অনেকখানি এগিয়ে থাকা আর্সেনাল গোলরক্ষক অ্যারন রামসডেল সতীর্থের ব্যাকপাস ধরে শট নেন। তবে বল সামনে ছুটে আসা প্রতিপক্ষের জর্ডান হেন্ডারসনের গায়ে লেগে গোলের দিকে চলে যায়। তবে সফরকারীদের ভাগ্য ভালো, বল লক্ষ্যে ছিল না। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ৭০ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে আক্রমণ করে যাচ্ছিল লিভারপুল। যদিও নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে তেমনই এক আক্রমণে আর্সেনালের ডি-বক্সের বাইরে দিয়োগো জোটার বুকে বুট দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন জাকা।
২০১৬ সালের মে মাসে আর্সেনালে যোগ দেয়ার পর থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই নিয়ে পাঁচবার লাল কার্ড দেখলেন সুইস মিডফিল্ডার জাকা। গত পাঁচ বছরে প্রিমিয়ার লিগ খেলোয়াড়দের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। বিরতির আগ পর্যন্ত একইভাবে আক্রমণ করে যায় লিভারপুল। গোলের উদ্দেশে চারটি শট নিলেও লক্ষ্যে একটিও রাখতে পারেনি তারা। মোহাম্মদ সালাহ আফ্রিকা নেশন্স কাপ খেলতে যাওয়ায় নেই দলে। তার অভাব ঠিক পূরণ বরতে পারল না রবের্তো ফিরমিনোরা। প্রতি-আক্রমণে তেমন কিছু করতে পারেনি আর্সেনালও। দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে এগোতে থাকে ম্যাচ। অধিকাংশ সময় বল আর্সেনালের সীমানাতেই ছিল। কিন্তু আক্রমণের শেষে গিয়ে বারবার তালগোল পাকাচ্ছিল ফিরমিনো-জটারা। রক্ষণ জমাট রাখায় সফরকারীরাও ছিল দৃঢ়। খেলার ধারার বিপরীতে ৭১তম মিনিটে গিয়ে ম্যাচে লক্ষ্যে প্রথম শটটি রাখতে পারে আর্সেনাল। প্রতি-আক্রমণে সতীর্থের পাস ডি-বক্সে পেয়ে যথেষ্ট জোরে অবশ্য শট নিতে পারেননি বুকায়ো সাকা, রিফ্লেক্সে রুখে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে দারুণ সুযোগ পেয়েও হারায় লিভারপুল। বাঁ থেকে সতীর্থের ক্রস ছয় গজ বক্সের বাইরে ফাঁকায় পেয়েও প্রয়োজনীয় হেড করতে পারেননি পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড জটা। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ফাঁকায় বল পেয়ে ১০ গজ দূর থেকে উড়িয়ে মারেন মিনামিনো। এমন সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট হতে দেখে ডাগআউটে মাথায় হাত দিয়ে বসেন কোচ ক্লপ, যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার। পুরো ম্যাচেই দলটির আক্রমণভাগ ছিল এমন ছন্নছাড়া। সেমিফাইনালের প্রথম লেগ মূলত হওয়ার কথা ছিল গত বৃহস্পতিবার, আর্সেনালের মাঠে। কিন্তু লিভারপুল শিবিরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি স্থগিত হয়ে যায়। ফলে অ্যানফিল্ডের এই লড়াইটি বিবেচিত হচ্ছে প্রথম লেগ হিসেবে। পাল্টে যাওয়া সূচিতে দ্বিতীয় লেগ হবে আগামী বৃহস্পতিবার আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়ামে। এর আগে ইএফএল কাপের প্রথম সেমিফাইনালে টটেনহ্যাম হটস্পারকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে চেলসি। দুই লেগ মিলিয়ে প্রতিযোগিতাটির সেমিফাইলে চেলসি এগিয়েছিল ৩-০ গোল ব্যবধানে। ফাইনালের সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
এদিকে লা লিগার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল অ্যাথলেটিক বিলবাও। এলোমেলো প্রথমার্ধের পর লড়াই হলো জমজমাট। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পিছিয়ে পড়া অ্যাথলেটিক বিলবাও ঘুরে দাঁড়াল দুর্দান্তভাবে। চার মিনিটের ঝলকে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে উঠে গেল স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে। সৌদি আরবের রিয়াদে গতকাল প্রতিযোগিতাটির দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। গোলরক্ষক উনাই সিমোনের আত্মঘাতী গোলে তারা পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরান ইয়েরে আলভারেস লোপেস। জয়সূচক গোলটি করেন নিকো উইলিয়ামস। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আগামী রবিবার রাতে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বিলবাও।

এর আগে গত বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী বার্সেলোনাকে ৩-২ গোলে হারায় কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচে বল দখলে একটু এগিয়ে থাকা অ্যাথলেটিকোর ১০ শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে। আর বিলবাওয়ের ১০ শটের ছয়টিই লক্ষ্যে ছিল। প্রথম ১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিলবাওয়ের জালে বল পাঠান জোয়াও ফেলিক্স। তবে অফসাইডের পতাকা তোলেন সাইড রেফারি। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে একচেটিয়া আধিপত্য করলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি অ্যাথলেটিকো। ম্যাচের ৬২তম মিনিটে সৌভাগ্যসূচক গোলে এগিয়ে যায় মাদ্রিদের দলটি। কর্নার থেকে আসা ফেলিক্সের হেডে জোর ছিল না তেমন। তবে বল পোস্টে লেগে ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষক সিমোনের পিঠে লেগে বল জালে জড়ায়। পরক্ষণেই সমতায় ফিরতে পারত বিলবাও। কর্নারে ইনিগো মার্তিনেসের হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকান গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে কর্নারে কাছ থেকে জোরালো হেডে সমতা ফেরান লোপেস। তিন মিনিট পর জয়সূচক গোলের উৎসও কর্নার। দানি গার্সিয়ার হেড একজনের গায়ে বাধা পাওয়ার পর বাঁ-পায়ের শটে গোলটি করেন নিকো উইলিয়ামস। যোগ করা সময়ে মারাত্মক এক ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন অ্যাথলেটিকোর ডিফেন্ডার জোসে মারিয়া হিমেনেস। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিলবাও।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়