হাতিরঝিলের সড়ক বন্ধে রাজধানীতে তীব্র যানজট

আগের সংবাদ

বিশাল লক্ষ্যমাত্রার বাজেট প্রস্তুতি : সম্ভাব্য আকার ৬,৭৫,১৩৯ কোটি টাকা, আয় ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা

পরের সংবাদ

বড় হারে সিরিজ ড্র : ক্রাইস্টচার্চে প্রাপ্তি লিটনের নান্দনিক সেঞ্চুরি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : নিউজিল্যান্ডের মাটিতে গত দুই দশকে যেটা সম্ভব হয়নি সেটাই মঙ্গানুইয়ে করে দেখিয়েছেন মুমিনুল হকরা। ক্রিকেটের যে কোনো সংস্করণে ৩২ বছর পর প্রথম জয়ের স্বাদ পায় টাইগাররা। টেস্ট চ্যাম্পিয়ন্স নিউজিল্যান্ডকে তাদেরই ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে মুমিনুলদের এত সব সাফল্য মলিন হয়ে যায় ক্রাইস্টচার্চে এসে। সিরিজের শেষ টেস্টে গতকাল হ্যাগলি ওভালে কিউইদের বিপক্ষে ইনিংস ও ১১৭ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে স্বস্তি এটাই, এবার লজ্জা নয় সিরিজ সমতা নিয়েই দেশে ফিরবে টাইগাররা।
নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে এবার দুরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে হার ইনিংস ব্যবধানে। বিশাল পরাজয় নিয়ে সফর শেষ করলেও সফরকারী শিবিরে তৃপ্তির ঢেকুর। নিউজিল্যান্ডে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে খেলা ৩২ ম্যাচ পর প্রথমবার জয়ের স্বাদ পেয়েছে মুমিনুল হকের দল। সেটিও টেস্টের বনেদি ফরম্যাট টেস্টে। এজন্য শেষ ম্যাচ হারলেও বিশাল প্রাপ্তি দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস আর ১১৭ রানে হারের পরও মুমিনুল বলেন, ‘অবশ্যই সিরিজ সমতায় সফর শেষ করা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। গত দুই বছর আপনি জানেন আমরা দেশের বাইরে খুব বেশি ম্যাচ খেলিনি। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় কিছু। কারণ আগে যেমনটা বলেছি, অন্তত একটা ম্যাচ আমরা এখানে জিততে চাই।’ বিদেশের মাটিতে জয়ের এই ধারা ধরে রাখতে চায় মুমিনুলের দল। টেস্ট ফরম্যাটের অধিনায়ক চ্যালেঞ্জ আরো বেশি বেড়ে গেছে জানিয়ে বলেন, ‘এখন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ আরো বাড়ল। সবাই আমাদের নিয়ে দেশের বাইরে খানিক সতর্ক থাকবে পরবর্তী সিরিজগুলোতে। আমাদের এই চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে এবং মোমেন্টাম ধরে রাখতে হবে।’
ক্রাইস্টচার্চে তৃতীয় দিন সকালটা বাংলাদেশের জন্য ছিল একটু প্রতিরোধ গড়ার। প্রথম সেশনে ২ উইকেট ও দ্বিতীয় সেশনে নিল ওয়াগনারের তোপে আরো ৩ উইকেট হারানোর পর ইনিংস পরাজয় মনে হচ্ছিল সময়ের অপেক্ষা। তবে শেষ সেশনে লিটন কেড়ে নিলেন সব আকর্ষণ, নুরুল হাসানের সঙ্গে তার শতরানের জুটি অপেক্ষায় রাখল নিউজিল্যান্ডকে। দারুণ প্রতি আক্রমণে দেশের বাইরে প্রথম শতক খেললেও অবশ্য তৃতীয় দিনই বাংলাদেশের ইনিংস পরাজয় আটকাতে পারেননি লিটন। বিদায়ী টেস্টে রস টেলর ইবাদত হোসেনের উইকেট পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ২৭৮ রানে।
এর আগে ৩৯৫ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে ফলোঅন করিয়েছিলেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম। সাদমান ইসলাম শুরুটা করেন ইতিবাচক, তবে ৪৮ বলে ২১ রান করে কাইল জেমিসনের লেগসাইডের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়া টম ব্লান্ডেলের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ইতিবাচক শুরু করা নাজমুল হোসেন ৪ রানে জীবন পান, এরপর নিল ওয়াগনারের সঙ্গে জমে ওঠে তার দ্বৈরথ। হুক-পুলে দুই চার ও একটি ছয় মারার পর শর্ট বলে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি ২৯ রান করে। দ্বিতীয় সেশনে এসে ফেরেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাঈম। এক বাউন্ডারিতে তিনি খেলেন ২৪ রানের ইনিংস। মুমিনুল ওয়াগনারের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন। স্লিপে টেলরের হাতে ধরা পড়ার আগে করেন ৬৩ বলে ৩৭ রান। ইয়াসিরও শিকার ওয়াগনারের, শর্ট বলে ক্যাচ তোলেন তিনি। অবশ্য দ্বিতীয় সেশনের শেষেই ওয়াগনারকে দারুণ দুটি পুল শটে চার মেরে লিটন যেন লড়াইয়ের আভাসটা দিয়ে রেখেছিলেন। দেশের বাইরে নিজের প্রথম শতকের পথে বাংলাদেশের পাল্টা আক্রণের নেতৃত্ব দেন লিটন, সঙ্গী হিসেবে পান নুরুলকে। চা-বিরতির আগে ও পরে এ দুজনের জুটিতে ১২ ওভারের মধ্যে আসে ১৮টি বাউন্ডারি। দুজনের জুটি শতরান ছুঁয়ে ফেলে মাত্র ৯৮ বলে, ১০৫ বলে ওঠে ১০১ রান। ড্যারিল মিচেলের বলে নুরুল ৩৬ রান করে মিডঅফে ওয়াগনারের দারুণ ক্যাচে পরিণত হলে একটু ছেদ পড়ে লিটনের গতিতে। তবে ওয়াগনারকে দুই চার মেরে পৌঁছান নব্বইয়ে। জেমিসনকে একটা চার মেরে ৯৮ রানে যাওয়ার পর পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক। ১১৪ বলে ১০২ রানের ইনিংসে মারেন ১৪টি চার ও ১টি ছয়। সেই জেমিসনের বলেই এলবিডব্লিউ হন তিনি। লিটনের আগে-পরে মিরাজ ও শরীফুল ইসলামকে ফেরান জেমিসন। এরপর ওয়াগনারের এক ওভার পেরিয়ে বলটা যায় টেলরের হাতে, যার হাতেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের বড় ব্যবধানে হার। ক্রাইস্টচার্চে এই হারের পরও মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের জন্য যেমন এ সফরটা মনে রাখবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ অধিনায়কের কথায় সেই মানসিকতা ঠিক রাখতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও নিউজিল্যান্ডের মাটি থেকে এই প্রথম সিরিজ না হেরে ফিরছে বাংলাদেশ। মুমিনুল সে কারণেই দলের ওপর নিজের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি আসলে খুবই গর্বিত। বিশেষ করে বিদেশে খেলাটা খুব গর্বের। প্রথম টেস্ট জয়ের পর আমি প্রচণ্ড আনন্দিত ও গর্বিত। এই সিরিজে আমাদের অনেক ভালো ও ইতিবাচক দিক আছে।’ লিটন দাসের প্রশংসা করে মুমিনুল বলেন, ‘লিটন যেভাবে খেলল, তাতে মনেই হয়নি খুব কঠিন উইকেটে খেলা হচ্ছে। চমৎকার খেলেছে লিটন।’ টেলরের ১৫ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষটা হলো রূপকথার মতো, লিটন দাসের দুর্দান্ত এক শতক ছাপিয়ে নিউজিল্যান্ড জিতল ইনিংস ও ১১৭ রানে। ২ ম্যাচের সিরিজ স্বাগতিকেরা ড্র করল ১-১ ব্যবধানে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়