নৌপুলিশের অভিযান : ৩৫ লাখ মিটার জাল জব্দ

আগের সংবাদ

পঞ্চম দফায়ও সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা > ভোটে ঝরল আরো ১১ প্রাণ : পুলিশের গাড়িতে আগুন, আহত শতাধিক, আটক অর্ধশত

পরের সংবাদ

সিংগাইর : পরিবারকে আশ্রয় দিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে এক পরিবারকে নিজের জায়গায় আশ্রয় দিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের বায়রা (ভেদাডাঙ্গী) গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত কালীপদ সরকারের ছেলে প্রভাবশালী রাধেশ্যাম সরকার ওই দরিদ্র পরিবারকে তার নিজের জায়গায় আশ্রয় দেয়। এ সুযোগে ওই পরিবারের ১৪ বছরের কিশোরীকে গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে আখক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত রাধেশ্যাম নিজের টাকা ব্যয় করে যৌতুক দিয়ে ভিকটিমের মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে ২৩ ডিসেম্বর এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে দেয়। পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি করতে উপজেলা সদরে হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার শান্তিলাল মণ্ডলের কাছে নিয়ে যায়। মেয়েটির বয়স কম থাকায় তিনি রেজিস্ট্রি করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
গত সোমবার সরজমিন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিকটিমের বাবা ৮-১০ বছর আগে মারা গেছেন। তার মা পরিবারের হাল ধরতে বিদেশ চলে যান। ভিকটিম তার নানা-নানির পরিবারের সঙ্গে রাধেশ্যামের আশ্রয়ে থাকেন। সুযোগ বুঝে রাধেশ্যাম মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। নিজেকে রক্ষা করতে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়। এরপর থেকে অভিযুক্ত রাধেশ্যাম গা-ঢাকা দেয়। সেই সঙ্গে নবদম্পতিকেও সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত রাধেশ্যামকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মোবাইলে মেয়ে লতা সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার বাবার সঙ্গে বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে। মেয়েটিকেও বিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা ভালো আছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় না লেখার জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।
হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার শান্তিলাল মণ্ডল বলেন, মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় আমি বিয়ের রেজিস্ট্রি করিনি। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের রীতি-নীতি অনুযায়ী মামাতো-ফুপাতো ভাইবোনের মধ্যে বিয়ে চলে না। এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার এসআই মো. মাহফুজ রানা বলেন, বিষয়টি শুনে ওসি স্যারের নির্দেশে দারোগা আবুল হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন। এসআই মো. আবুল হোসেন বলেন, আমি নির্বাচনী ডিউটিতে আছি। কাল-পরশু সাক্ষাতে আলাপ হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়