নৌপুলিশের অভিযান : ৩৫ লাখ মিটার জাল জব্দ

আগের সংবাদ

পঞ্চম দফায়ও সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা > ভোটে ঝরল আরো ১১ প্রাণ : পুলিশের গাড়িতে আগুন, আহত শতাধিক, আটক অর্ধশত

পরের সংবাদ

মিরাজের অনন্য কীর্তি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : ব্যাট ও বল হাতে সাদা পোশাকে দারুণ নৈপুণ্য দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের দ্রুততম বোলার হিসেবে ১০০ টেস্ট উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার তিনি নতুন বছরের শুরুতে নাম লেখালেন ১০০ উইকেট ও ১ হাজার রান করা অলরাউন্ডারদের ক্লাবে। বাংলাদেশের হয়ে সবার আগে মোহাম্মদ রফিক প্রবেশ করেন এই ক্লাবে। তার লেগেছিল ৩৩ ম্যাচ। পরে ২৮ ম্যাচেই এ রেকর্ড গড়েন সাকিব আল হাসান। মিরাজের লেগেছে ৩০ ম্যাচ। সবমিলিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে ৭৩তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ১ হাজার রান ও ১০০ উইকেটের মালিক হয়েছেন মিরাজ। গতকাল মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যখন মিরাজরা লড়ছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে থাকা সাকিব একটি টুইট করেন। ছোট্ট এক বাক্য লিখে বুঝিয়ে দিয়েছেন, মিরাজের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের সাফল্য।
সাকিবের টুইট, মিরাজ হলো বাংলাদেশের সাফল্যের চাবিকাঠি।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরাজ বল হাতে প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নিয়ে তাদের দ্রুত অলআউটে দারুণ অবদান রাখেন। আর ব্যাট হাতেও একই কাজ করেন। তার ৪৭ রানের কল্যাণে গতকাল ১৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে একটি মাইলফলকেও নাম লেখান। টেস্টে পেরিয়ে গেলেন ১ হাজার রানের ঘর। চলমান মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের চতুর্থ দিনে এই এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেন মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৮৮ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৪৭ রান করেন তিনি। এতে ৩০ টেস্টে ২০.৯১ গড়ে মিরাজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ হাজার ৪ রান। টেস্টে একটি শতক ও তিনটি অর্ধশত রয়েছে মিরাজের।
বল হাতে এই অফস্পিনার ২০২১ সালের শুরুতে স্পর্শ করেন ১০০ উইকেটের মাইলফলক। বাংলাদেশিদের মধ্যে টেস্টে দ্রুততম ১০০ উইকেট নেয়ার কীর্তি মিরাজের। মাত্র ২৪ টেস্টেই রেকর্ডটি গড়েন তিনি।
টেস্টে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বাধিক উইকেটধারী বোলার মিরাজ। ৩০ ম্যাচে ৩৪.১৩ গড়ে তার শিকার ১১৮ উইকেট। তালিকায় মিরাজের ওপরে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম (৩৫ ম্যাচে ১৪৪ উইকেট) ও সাকিব আল হাসান (৫৯ ম্যাচে ২১৫ উইকেট)।
টেস্ট ফরম্যাটে দ্রুততম ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড রয়েছে সাকিবের। মোহাম্মদ রফিক ৩৩ ম্যাচে ১০০ উইকেটের পাশাপাশি করেন ১ হাজার ৫৯ রান।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মিরাজ শুধু একাই কীর্তি গড়েননি। নিউজিল্যান্ডে এবার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে চলছে লাল-সবুজের ব্যাটসম্যান ও বোলাররা। চতুর্থ দিন শেষে এমন অনেক কীর্তি গড়েছে টাইগাররা।
চমৎকার ব্যাটিং : মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ব্যাট করেছে ১৭৬.২ ওভার। একটি টেস্ট ইনিংসে যা তাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে সর্বোচ্চ ১৯৬ ওভার ব্যাট করেছিল বাংলাদেশ। এশিয়ার বাইরে কোনো টেস্ট ইনিংসে দ্বিতীয়বার ১৫০-এর বেশি ওভার ব্যাটিং করল বাংলাদেশ। তারা ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে ১৫২ ওভার খেলেছিল।
২০০৯- নিউজিল্যান্ডে সবশেষ ২০০৯ সালে কোনো সফরকারী দল একটি টেস্ট ইনিংসে ১৭৬.২ ওভারের বেশি ব্যাট করেছিল। ম্যাকলিন পার্কে সিরিজ ড্র করা ম্যাচে ১৯৩.২ ওভার ব্যাট করেছিল পাকিস্তান।
লিড : এই ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানের লিড নিয়েছে। ২০১৭ সালের পর প্রথমবার হোম টেস্টে নিউজিল্যান্ড এত বেশি রানে পিছিয়ে থাকল। ২০১৯ সালে সেডন পার্কে ইংল্যান্ড ১০১ রানের লিড নেয়। এই সময়ের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে ২২ টেস্টে কোনো সফরকারী দলের ১০০ রানের লিড নেয়ার একমাত্র ঘটনা ছিল সেটি। অ্যাওয়ে টেস্টে ১৩০ রানের চেয়ে বেশি লিড নিয়েছে বাংলাদেশ একবারই। গত বছর হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৯২ রানের লিড নেয়। টেস্টে পরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লিড, ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকায় ২৯৫ রানের লিড নিয়েছিল তারা।
আট ব্যাটসম্যান : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের প্রথম আট ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকে ৫০-এর বেশি বল মোকাবিলা করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম আট ব্যাটসম্যানের একই ইনিংসে ৫০ বা তার বেশি বল টিকে থাকার একমাত্র ঘটনা এটাই।
৪০০ প্লাস : নিউজিল্যান্ডে এক ইনিংসে ৪০০ বা তার বেশি রান বাংলাদেশ করেছে চতুর্থবার। সবই এসেছে ২০১০ সালের শুরু থেকে। এই সময়ের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে কোনো সফরকারী দল এর চেয়ে বেশিবার ৪০০ বা তার বেশি রান করতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়াও ২০১০ সালের পর থেকে চারবার নিউজিল্যান্ডে ৪০০ ছাড়ানো রান করেছে, তার মধ্যে তিনবার ৫০০ পার করে তারা।
প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের পেসাররা মোট বল করেছে ৮৯০টি। ২০০০ সাল থেকে একটি টেস্ট ইনিংসে ১০ উইকেটের সব নেয়ার পথে কোনো দলের পেসাররা সবচেয়ে বেশি বল করল।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়