পরিকল্পনামন্ত্রী : দেশে রাজনীতিবিদের চেয়ে আমলাতন্ত্রের দাপট বেশি

আগের সংবাদ

শ্যামল দত্ত’র প্রত্যয় : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাবে ভোরের কাগজ

পরের সংবাদ

ওমিক্রন অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত : মির্জ্জা আজিজুল হক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

নতুন বছরে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোসহ অর্থনীতিতে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ মেকাবিলা করতে হবে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আমাদের দেশেও প্রভাব ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। বহির্বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছে। কোনো কোনো দেশ কঠোর লকডাউন পালন করছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বছরে অর্থনীতির ক্ষেত্রে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে। এছাড়া উন্নয়ণশীল দেশে উত্তরণের ফলে আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং আমরা যে বাণিজ্য সুবিধাগুলো পাই, তা খানিকটা ব্যাহত হবে। নিঃসন্দেহে আমাদের বেশ কিছু সুবিধা হাতছাড়া হয়ে যাবে।
নতুন বছরে করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের চোখ রাঙানি কতটা প্রভাব ফেলবে সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে বহির্বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছে। কোনো কোনো দেশ কঠোর লকডাউন পালন করছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের দেশের বিনিয়োগেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই নতুন বছরে অর্থনীতির প্রথম চ্যালেঞ্জ হিসেবে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকেই মনে করছি। যদিও সম্প্রতি এ খাতে কিছুটা ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এটা কতদিন বজায় থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বহির্বিশ্বে বা আমাদের দেশে ওমিক্রনের প্রভাব বাড়লে রপ্তানির চাহিদা কমে যেতে পারে। রপ্তানিতে সম্প্রতি যে সুবাতাস দেখা গেছে, সেটা হয়তো স্থিমিত হয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে রপ্তানি ও বিনিয়োগ দুটোই বাধাগ্রস্ত হবে।
নতুন বছরে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, প্রবাসী আয় বাড়ানো। বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের প্রেরিত অর্থ কিছুদিন আগেও উঁচুমাত্রায় বেড়েছিল। আমি বলেছিলাম, এ ধারা ব্যাহত হবে। আমার সেই দুশ্চিন্তা এখন বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে প্রবাসী আয়ে ধাক্কা লেগেছে। প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি অনেক কমেছে। আগামী বছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে মনে হয় না। কারণ নতুন করে শ্রমিক পাঠানো যাচ্ছে না। যদিও মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি কতদিনে বাস্তবায়ন হবে এবং আগামী বছরের মধ্যে নতুন শ্রমিকরা যেতে পারবে কিনা- তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারি লোকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এতে আয় বৈষম্য বাড়ছে। বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ শতাংশের উপরে লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, যা ২০১৯ সালে ২০ শতাংশের মতো ছিল। সুতরাং এটা অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়বৈষম্যের মাত্রা ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছে। যা দেশের সামাজিক বা অর্থনৈতিক কোনো জায়গা থেকেই কাম্য নয়।
স্বলোপন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আমরা উন্নয়নশীল দেশের দিকে যাচ্ছি, ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমাদের যে শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত বাণিজ্যিক সুবিধা আছে সেটা আর থাকবে না। যদিও এটা কিছুটা মধ্যমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। সুতরাং নতুন করে জিএসপি প্লাস সুবিধার বাস্তবায়ন লাগবে। এজন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। এ শর্তগুলো বাস্তবায়ন একটি চ্যালেঞ্জ হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে মেধাস্বত্ব রক্ষণের যে বাধ্যবাধকতা আছে সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। উত্তরণের ফলে আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে এবং আমরা যে বাণিজ্য সুবিধাগুলো পাই, তা খানিকটা ব্যাহত হবে। বিশ্ব দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সুবিধা থাকবে না। ঋণের সুদের হার বেড়ে যাবে। এর সঙ্গে আরো চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রণোদনা প্যাকেজের যথাযথ বিতরণ, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো, প্রশাসনের জবাবদিহিতার ঘাটতি কাটানো প্রভৃতি। সার্বিকভাবে দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাও একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়