পুলিশের স্থাপনায় হামলার ঘটনায় মামলা : আসামি অজ্ঞাত কয়েক হাজার

আগের সংবাদ

‘ওমিক্রন’ নিয়ে সতর্ক সরকার

পরের সংবাদ

ওয়েবসাইটে অনেক স্কুলেরই নাম নেই : স্কুলে ভর্তির আবেদনের শুরুতেই ভোগান্তি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন নেয়া শুরু হলেও ওয়েবসাইটে অনেক স্কুলেরই নাম নেই। এর ফলে কাক্সিক্ষত স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদনই করতে পারেননি অনেক শিক্ষার্থী। বেসরকারি স্কুলের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকার বিখ্যাত ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান থাকার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ভর্তি থেকে সরে যায়। তারা এখন আলাদাভাবে ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ করবে। এছাড়াও ঢাকা মহানগরের বাইরের কয়েকটি মহানগর ও অনেক জেলার তালিকা ওয়েবসাইটে যুক্ত হয়নি। যে কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওইসব এলাকার অভিভাবকরা আবেদন করতে পারেননি।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজিজ উদ্দিন বলেন, মোট তিন হাজার ৯৮৮টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে দুই হাজার ৭০০ মতো এই প্রক্রিয়ায় এসেছে। যারা অনলাইনে সরকারি তত্ত্বাবধানে আসেনি তাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে আলাদাভাবে এবং মাউশি গঠিত কমিটির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম চালাতে হবে। সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা টেলিটক ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) জানানো হয়েছে।
আগের ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল ৯টায় ভর্তিসংক্রান্ত ওয়েবসাইট উন্মুক্ত করার কথা। কিন্তু ২ ঘণ্টা পর বেলা ১১টায় তা খুলে দেয়া হয়। আবার বিলম্বে খোলা হলেও ওয়েবসাইট ছিল অপূর্ণাঙ্গ। সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সব জেলার তথ্য আপলোড করা হয়নি। ঢাকা মহানগরের বাইরে অনেক জেলার প্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখা যাচ্ছে না।
ঢাকা মহানগরের তালিকা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দনিয়া একে হাইস্কুল তালিকায় নেই। বংশাল থানায় পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এর মধ্যে আহমদ বাওয়ানী স্কুল ও কলেজ তালিকায় থাকলেও হাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়

নেই। বাণিজ্যিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ক্যামব্রিয়ান আছে তালিকায়। কিন্তু পুরান ঢাকার রায়হান স্কুল ও কলেজ, উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল ও কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান নেই এই তালিকায়।
প্রসঙ্গত, সরকারি-বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে এই প্রক্রিয়ায় ভর্তি করা হবে। ৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। একজন শিক্ষার্থী ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে। এবার কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাপসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের নিয়ে লটারির আয়োজন করা হবে। ১৫ ডিসেম্বর হবে সরকারি হাইস্কুল আর বেসরকারি হাইস্কুলের লটারি হবে ১৯ ডিসেম্বর। ৩০ ডিসেম্বর ভর্তির কাজ শেষ করা হবে। ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাস শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ায় ৩৯২টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আছে। করোনার কারণে এবার ভর্তির আবেদন ফি কমানো হয়েছে। চলতি বছর প্রতিটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে আবেদন ফি ছিল ২০০ টাকা আর সরকারিতে ১৭০ টাকা। এবার দিতে হচ্ছে ৫টির জন্য ১১০ টাকা।
নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে হলে শিক্ষার্থীর বয়স ছয় বছরের বেশি হতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে ১০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখা হবে। অর্থাৎ, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত আসনের ১০ শতাংশ আসনে তারা অগ্রাধিকার পাবে।
বেসরকারি বিদ্যালয় : জেলা পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ ভর্তি প্রক্রিয়ার অধীনে আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন কমপক্ষে একটিসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে। নিজ প্রশাসনিক থানার বাইরে আশপাশের সর্বোচ্চ ৩টি প্রশাসনিক থানা ক্যাচমেন্ট এলাকা ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা যাবে। একই প্রতিষ্ঠানের দুই শিফটে আবেদন করলে দুটি প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে মর্মে ধরে নেয়া হবে। আবেদনকারীরা আবেদনের সময়ে প্রতিষ্ঠান নির্বাচনকালে মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদরের সদর উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ ৫টি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।
সরকারি বিদ্যালয় : ঢাকা মহানগরে এবার আছে ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি ফিডার শাখা। এবার জাতীয়করণ হওয়া আরো দুটি বিদ্যালয় যুক্ত হয়েছে। এবারো বিদ্যালয়গুলোকে ৩টি গুচ্ছে (এ, বি এবং সি) করে ভর্তির কাজ সম্পন্ন হবে। আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী একটি গুচ্ছের ৫টি বিদ্যালয়ে ভর্তির পছন্দক্রম দিতে পারবে। এখান থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়