জামালদের বিদায় করে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

আগের সংবাদ

বাস মালিক-শ্রমিকরা বেপরোয়া : এখনো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় > গেটলক-সিটিং সার্ভিস বহাল > বিআরটিএর তৎপরতা লোক দেখানো

পরের সংবাদ

হেফাজত নেতাদের দুর্নীতি অনুসন্ধান যে কারণে স্থবির : তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠিতে সাড়া দেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

এস এম মিজান : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও কারাগারে আটক সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের তহবিলের অর্থ তছরুফ ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রাথমিক পর্যায়ে হেফাজতের অর্ধশত নেতার তালিকা নিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে শীর্ষ নেতাদের তথ্যউপাত্ত চেয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তথ্য না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত এই অনুসন্ধানের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সহিংসতা চালায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা। পরে হেফাজতের ডাকা হরতালে চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক সহিংসতা হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় থানা, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায়। কয়েকদিনের সহিংসতায় ১৭ জন মারা যান, পাশাপাশি অসংখ্য মানুষ আহত হন। এ ঘটনায় হেফাজতের একাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
হেফাজতের সেই আন্দোলনে কোনো সন্ত্রাসী অর্থায়ন হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে গত ৫ এপ্রিল হেফাজতের (বর্তমানে প্রয়াত) আমির জুনায়েদ বাবুনগরী, সাবেক মহাসচিব (প্রয়াত) নূর হুসাইন কাসেমী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজত নেতা মামুনুল হকসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব করে বিএফআইইউ। এই নেতাদের

বিরুদ্ধে সংগঠনের তহবিল, বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও ইসলামী প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকা এবং ধর্মীয় কাজে আগত বৈদেশিক সহায়তা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ করেছেন। এমন অভিযোগ সামনে রেখে মূলত দুদকের অনুসন্ধান চলছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদকের গোয়েন্দাদের যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে দুদক পরিচালক মো. আকতার হোসেন আজাদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি টিম গঠিত হয়। দলের বাকি সদস্যরা হলেন- উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ, মো. সাইদুজ্জামান ও উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান। দুদক টিম বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ ১১টি দপ্তরের কাছ তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। তবে এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান থেকেই কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা থেকে শুরু করে অনুসন্ধানে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বলে অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট টিম সূত্রে জানা গেছে। অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা তথ্য পাওয়ার জন্য আরো কিছুটা সময় দিতে চান সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
এ বিষয়ে দুদকের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, হেফাজত নেতাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে। কমিটি বিষয়টি দেখছে। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যউপাত্ত যাচাই-বাছাই করবে। তারপর যেসব অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে আসবে সেগুলোর তদন্ত হবে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাকে যখন জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হবে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে জানা গেছে, মামুনুল হকসহ হেফাজতের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের তদন্ত এরই মধ্যে শেষ করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ইতিমধ্যে হেফাজতে ইসলামের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে ৩১৩ জনকে চিহ্নিত করেছে ডিবি। সংগঠনের নেতা মামুনুল হকের ব্যাংক হিসাবে ছয় কোটি টাকার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব তথ্যউপাত্তও কমিশন আমলে নিয়েছে। এ ছাড়া দুই দফায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) প্রায় শতাধিক হেফাজত নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠায় বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে। সেই তথ্য অনুযায়ী হেফাজতের ৫৪ নেতার ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে গরমিল পাওয়া যায়। যার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দুদকেও পাঠানো হয়। সেটিও আমলে নিয়েছে কমিশন।
এ বিষয়ে গত ২ জুন দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেছিলেন, কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির ৫৪ নেতার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এসব ব্যক্তিদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সংস্থার কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য আসেনি। পাঠানো চিঠির জবাব এলে পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, তথ্য না পাওয়ায় হেফাজত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। একেবারে কিছু কাগজপত্র না পেয়ে তো আর জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় না। তারপরও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এখতিয়ার দেয়া আছে। তারা যদি জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করেন তাহলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন কোনো হেফাজত নেতাকে তলব কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। এ বিষয়ে জানতে দুদক সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপডেট কিছু আমার জানা নেই। না জেনে বলতে পারব না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়