ভিসি এয়ার মার্শাল নজরুল : ওবিই হচ্ছে জ্ঞানগর্ভ ও চিন্তা উদ্দীপক কর্মশালা

আগের সংবাদ

টানা ৪ জয়ে সেমিতে পাকিস্তান

পরের সংবাদ

আত্মসমর্পণকারী সুন্দরবনের দস্যুরা চান প্রতিশ্রুতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন

প্রকাশিত: নভেম্বর ২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

আজিজুর রহমান জিদনী, রামপাল থেকে : খুলনার মোংলা এলাকার জয়মনি গ্রামের বাসিন্দা মো. মোস্তফা শেখ (২৮)। গত ৬ বছর আগে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে ছোট ভাই বাহিনীর জলদস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে যায় তাকে। মুক্তিপণ দাবি করে ৩০ হাজার টাকা। সেই দাবি মেটাতে না পারায় ২-৩ মাস তাকে জিম্মি রেখে দস্যুবৃত্তি করায় বাহিনীটি। এভাবেই এ কাজে জড়িয়ে পড়ে সে। তবে ডাঙ্গায় র‌্যাব ও বনে বাঘের ভয় ছাড়াও পলাতক জীবনে অতিষ্ঠ ছিল সে। এ সময় জলদস্যু আত্মসমর্পণের বিষয়টি তার কাছে আশীর্বাদ হয়ে আসে। তখন শান্ত বাহিনীর সদস্য হিসেবে আত্মসমর্পণ করে সে। এখন স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে মাহিদকে নিয়ে ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চলছে তার। শুধু মোস্তফা শেখই নয়, বিল্লালের (১৮) কাহিনীও একই। অল্প বয়সেই অপহরণ হয়ে মোস্তফার মতো দস্যুতায় জড়ায় সেও। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সেই সুন্দরবনে এখন জলদস্যুমুক্ত। তবে অপহরণের ভয় না থাকলেও তারা এখন টিকে থাকার লড়াই করছেন। সরকার ও র‌্যাবের কার্যক্রম চলমান থাকলেও আত্মসমর্পণের সময় মামলা নিষ্পত্তিসহ সহযোগিতার প্রতিশ্রæতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চায় তারা।
জলদস্যুমুক্ত সুন্দরবনের ৩ বছর পূর্তি ও পুনর্বাসনের জন্য ঘর, মুদিদোকান, নৌকা ও মাছ ধরার জালসহ গবাদিপশু হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গতকাল সোমবার আত্মসমর্পণকারী প্রায় সবার মুখ থেকে উঠে আসে এমন দাবি। দস্যু বাহিনী আলিফ গ্রুপের তায়েজুল ওরফে বড় ভাই ভোরের কাগজকে গতকাল জানান, ২০১৩ সালে অভাব ও সঙ্গদোষে দস্যুতায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। তবে অনিশ্চিত ও পরিবার-পরিজন ছাড়া পলাতক জীবনে অতিষ্ট হয়ে ওঠেন তিনি। এছাড়া র‌্যাবের গুলি ও বাঘের ভয়তো আছেই। দুবছর আগে ৫ মামলার এ আসামি আত্মসমর্পণ করেন। তিনি বলেন, এখন ছোট মুরগির খামার ও মাছ ধরার আয় দিয়ে স্ত্রী জাহানার ও ৯ বছর বয়সি ছেলে তামিম এবং ৭ বছরে মেয়ে মীমকে নিয়ে সংসার তাদের। কোনো রকম চলে গেলেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিপাকে রয়েছেন। অনুদানের টাকা পেলেও তা মামলাতেই চলে যায়। একই কথা জানান নোয়া বাহিনীর জাহাঙ্গীর মাইঝা ভাই। তিনিও বলেন, খুন, অস্ত্র ও ডাকাতির ৫ মামলার আসামি তিনি। দুটি খালাস পেলেও ৩ মামলা ঝুলছে। হাজিরা দিতে গেলেই ন্যূনতম উকিল ৫০০ ও মুহুরিকে ২০০ টাকা দিতে হয়। মাস্টার বাহিনীর প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৬ সালে প্রথম দিকেই আত্মসমর্পণ করি। হত্যাসহ ৫ মামলার আসামি আমি। এক মামলায় ওয়ারেন্ট হওয়ায় দুবছর ধরে ফেরারি জীবনযাপন করছি। মোটরসাইকেল মেরামত ও পার্টসের দোকান ফেরারি হওয়ার কারণে বন্ধ। বড় ভাই বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মো. রফিকুল ইসলামের কাহিনীও একই। তারা সবাই সরকারের প্রতিশ্রæতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চান। চান স্বাভাবিক জীবনযাপন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়