পদ্মায় পড়ে যাওয়া বাস উদ্ধার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ বাসটিকে নদী থেকে উপরে তুলতে সক্ষম হয়।
এর আগে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স বাসটি সকাল ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে ফেরি কবরী কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে ফেরির বিপরীত পাশের র্যাম ভেঙে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
বাসটির সহকারী সাকিব হোসেন (২৭) জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি লাফিয়ে ফেরির পন্টুনে পড়ে যান। এতে তিনি সামান্য আহত হন। তবে চালক ঝন্টু আলী (৪৭) বাসসহ নদীতে পড়ে গেলেও পরে জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতরে ওপরে উঠতে সক্ষম হন। পরে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শুভ সেন জানান, তিনি ফেরিঘাটে লুজ যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত মারুফ বিল্ডার্সের ম্যানেজার। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ৭নং ঘাটের পন্টুনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, এসবি পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে আসছে। তখন সেখানে দায়িত্বে থাকা নৌ-পুলিশ ও অন্যরা বাসের যাত্রীদের নেমে যেতে বলেন।
আরো পড়ুন : আবারো বাস পড়ল পদ্মায়
যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি ফেরিতে তোলেন। তবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি ফেরির ডালায় আঘাত করলে ডালার তার ছিঁড়ে যায় এবং বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
বাসটির সুপারভাইজার আজমল হোসেন বলেন, বাসটিতে ৪০ জন যাত্রীর টিকিট কাটা থাকলেও ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। সবাইকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
চিকিৎসাধীন চালক ঝন্টু মিয়া বলেন, কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট থেকে সকাল সোয়া ৭টার দিকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। যাত্রার আগে ইঞ্জিন ও ব্রেক পরীক্ষা করা হয়েছিল। তারপরও ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। তিনি জানান, হেলপার তাকে সতর্ক করে লাফিয়ে নেমে যান এবং বাসে তখন তিনি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। বাসটি ডুবে গেলেও জানালা দিয়ে বের হয়ে ভেসে উঠতে সক্ষম হন। পরে স্থানীয়রা নৌকায় করে তাকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস, এসিল্যান্ড মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের আগে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তিনি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফেরিতে ওঠা-নামার সময় সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অনুসরণ করা উচিত।
