বিশ্বের প্রতি ১৩ দেশের একটিতে হামলার হুমকি দিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিজেকে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে তুলে ধরে প্রতিদ্বন্দ্বীদের “যুদ্ধবাজ” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা যুক্তরাষ্ট্রকে নানা বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে, এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকিতেও ফেলতে পারে।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড ছিল তার উল্টো। একের পর এক দেশকে তিনি সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি হামলাও চালিয়েছেন।
এরই মধ্যে গত বুধবার (২৭ মে) হোয়াইট হাউসের এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ওমানকেও হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা করলে ওমানের ওপরও হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, ওমানও সবার মতো আচরণ করবে, নাহলে আমাদের ওদের উড়িয়ে দিতে হবে।
আরো পড়ুন : প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন হামলায় নিহত ১
এই মন্তব্যটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল কারণ এটি তিনি খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, যেন হঠাৎ করে বলা একটি কথা হিসেবে প্রকাশ করেন। এটি ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এখন প্রায় সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওমান হলো অন্তত ১৫তম দেশ, যাদের তিনি তার দুই মেয়াদে সরাসরি হামলা চালিয়েছেন, হামলার হুমকি দিয়েছেন অথবা সেই সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন। এসব ঘটনার প্রায় সবই তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৬ মাসে ঘটেছে।
এ পর্যন্ত তিনি সাতটি দেশে সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে, ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এর মধ্যে কিছু দেশে প্রথম মেয়াদেও হামলা হয়েছিল।
এছাড়া ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানবিরোধী অভিযানের নামে প্রায় ৬০টি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে ১৯০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
কানাডা, কলম্বিয়া, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড (ডেনমার্কের অংশ), মেক্সিকো, পানামা এবং ওমানের ওপরও সম্ভাব্য হামলার হুমকি বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রথম মেয়াদেও মেক্সিকো ও উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
সব হুমকি বা হামলা একই ধরনের নয়। কিছু ক্ষেত্রে, যেমন ইরাকে, হামলা মূলত নির্দিষ্ট সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে ছিল, সরকারকে নয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি হামলার ঘোষণা না দিয়ে শুধু সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব নীতির পেছনে ট্রাম্পের “ম্যাডম্যান থিওরি” কাজ করছে। অর্থাৎ নিজেকে অননুমেয় ও ভয়ংকর হিসেবে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখতে চাইছেন তিনি। তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতি একজন প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয়, যা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ট্রাম্প প্রায় ১৫টি দেশকে হয় হুমকি দিয়েছেন অথবা হামলা করেছেন, যা বিশ্বের প্রায় ১৩ ভাগ দেশের সমান। এই দেশগুলোর জনসংখ্যা মিলিয়ে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় প্রতি ১১ জনের একজন এমন দেশের বাসিন্দা যেখানে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত পাঁচটি দেশ তার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের মোট দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি। তার নীতি চারটি মহাদেশে বিস্তৃত—এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, যেসব দেশের বিরুদ্ধে তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বা হুমকি দিয়েছেন, তাদের মধ্যে পাঁচটিকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- কানাডা, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, পানামা (বিশেষ করে পানামা খাল) এবং ভেনেজুয়েলা।
