প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ, ভিন্নমত স্থানীয়দের
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার মেঘনায় মোসা. রোকসানা আক্তার (২৫) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে তার এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) রাধানগর ইউনিয়নের পাড়ারবন্দ গ্রাম থেকে তিনি নিখোঁজ হন।
রোকসানা উপজেলার চালিভাঙ্গা গ্রামের মো. আমিন হোসেনের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে বুধবার সকালে প্রবাসে থাকা স্বামী ঈদ উপলক্ষ্যে সংসারের খরচের জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫৭ হাজার টাকা পাঠান। ওই টাকা উত্তোলন করে বাজার করার উদ্দেশ্যে একই দিন দুপুরে ১৮ মাস বয়সী কন্যাসন্তান নূরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলার মানিকারচর বাজারে যান রোকসানা।
একই দিনে রোকসানার মা রাধানগর ইউনিয়নের পাড়ারবন্দ গ্রাম থেকে মানিকারচর বাজারে এসে মেয়ের জন্য কিছু কাপড় দিয়ে যান। কাপড় বুঝিয়ে দেওয়ার পর রোকসানাকে এগিয়ে দেওয়ার কথা বলা হলে, তিনি নিজেই গাড়িতে করে শ্বশুরবাড়ি চালিভাঙ্গায় যেতে পারবেন বলে জানান।
রোকসানার স্বামী আমিনের পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মানিকারচর বাজার থেকে রওনা দিলেও রোকসানা আর বাড়িতে পৌঁছাননি। পরে সন্দেহ হলে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকারসহ তিনি নিখোঁজ হয়েছেন। এরপর সারারাত পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
এদিকে, রোকসানার ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এক রহস্যজনক মন্তব্য করেন। তারা বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি, আমাদের ভাগনিকে আমরা ফেরত চাই, তবে রোকসানা নামে আমাদের কোনো বোন নেই। আপনারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করুন।
ভাইদের এমন বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, রোকসানা পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলে তাদের সন্দেহ ছিল এবং তিনি প্রায়ই মোবাইল ফোনে দীর্ঘ সময় কথা বলতেন, পাশাপাশি তার চলাফেরা ও বাচনভঙ্গিও তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হতো না, তাদের ধারণা ছিল, একসময় তিনি স্বামীকে রেখে চলে যেতে পারেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় এখন তাদের মনে হচ্ছে তিনি নিখোঁজ নন, বরং পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে গেছেন। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
তবে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য আমিনের পরিবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
