×

খবর

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার

রাজনৈতিকভাবে কিছু লোক কিশোরদের ব্যবহার করছে

Icon

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : অদ্ভুত সব নামের কিশোর গ্যাংসহ এদের যারা মদতদাতা, তাদেরও তালিকা করা হয়েছে। রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা- এ ৪টি এলাকায় এ ধরনের তৎপরতা বেশি দেখা গেছে। তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১০টি থানা এলাকায় পড়ে। তবে কিশোর গ্যাংয়ের সেভাবে গডফাদার নেই, অর্থাৎ শুধু অপরাধের জন্য কেউ কিশোর গ্যাং তৈরি করেছে- বিষয়টি এমনও নয়। তবে রাজনৈতিকভাবে কিছু লোক কিশোরদের নিয়ে যাচ্ছে বা ব্যবহার করছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজন কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন নিয়ে ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর এফডিসিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক জি এম তসলিম, সাংবাদিক জিয়া খান, সাংবাদিক অনিমেষ কর ও সাংবাদিক কাওসার সোহেলী। ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, আজকের কিশোর আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবে। ৯-১৮ বছর বয়সি কেউ অপরাধ করলে আমরা তাকে কিশোর অপরাধী বলছি। এই বয়সিরা দলবদ্ধভাবে অপরাধ করলে তাকে আমরা বলছি কিশোর গ্যাং। এসব নিয়ন্ত্রণে প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করে থাকে পুলিশ। মসজিদে-মসজিদে জুমার দিনে থানার ওসিরা কিশোর গ্যাং বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। কিশোর গ্যাং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের বিভিন্ন সভা-সমাবেশও করা হয়েছে। স্কুলে-স্কুলে গিয়েও কিশোর গ্যাং অপরাধ প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আসল কাজ করতে হবে পরিবার থেকে। মা-বাবা, বড় ভাই-বোন এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে অশ্লীল কন্টেন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি অবশ্যই নেতিবাচক। এরই মধ্যে এমন টিকটকারদের আমাদের সাইবার টিম আইনের আওতায় এনেছে। পুলিশের সাইবার টিম বিটিআরসির কাছে বিভিন্ন কনটেন্টের তালিকা নিয়মিত দেয়। কিশোর অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতি আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো গাফিলতি নেই। অভিযোগ এলেই মামলা নেয়া হয়। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রাথমিকভাবে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ পুলিশের কাজ নয়, তা স্থানীয় জনসাধারণের কাজ। জনগণ সোচ্চার হলে কিশোর গ্যাং কালচার কমে যাবে। কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত কাউন্সিলরদের নাম এসেছে, এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, কাউন্সিলরদের কিছু অনুসারী রয়েছে যাদের বয়স ১৮ বছরের উপরে। এলাকায় রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে কেউ কেউ কিশোরদের ব্যবহার করছে। সরাসরি কোনো কাউন্সিলর কিশোরদের নিয়ে অপরাধ করার জন্য গ্যাং বানাচ্ছে- এমন তথ্য পাইনি আমরা। কাউন্সিলরদের সহযোগী রয়েছেন এমন কেউ কেউ আছেন তারা কিশোরদের নিয়ে চলাচল করেন। এসব কিশোরদের বেশিরভাগই ছিন্নমূল। বেশির ভাগ কিশোরেরই বাবা নেই। মা থাকলেও দেখা যায় তিনি অন্যের বাসায় কাজ করেন। এসব বিষয়েও পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে আইনের আওতায় পড়লে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক উপনেতা-পাতিনেতাদের বিভিন্ন সময় থানায় ডেকে শাসানোও হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App