ভিটেমাটি হারিয়ে বৃদ্ধার আশ্রয় দোকানঘরে, কাটছে না কষ্টের দিন
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
স্মৃতিবিজড়িত ভিটেবাড়ি হারিয়ে এখন একটি ছোট্ট দোকানঘরে মানবেতর দিন কাটছে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা জরিনা বেগম ও তার মেয়ে রত্না আক্তার রুমার। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামের এই বৃদ্ধার চোখে এখন শুধুই অশ্রু আর অনিশ্চয়তার ছাপ। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু ফিরে পেতে তারা এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সরেজমিনে আঠালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি হারিয়ে ভাঙাচোরা স্মৃতির মাঝে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন এই পরিবারটি।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী প্রবাসী মিলনের মদদে তাদের বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
ঘর হারিয়ে বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ দোকানঘরই হয়েছে মা-মেয়ের শেষ ঠিকানা। মুখে আতঙ্ক আর বুকভরা কষ্ট নিয়ে জরিনা বেগম জানান, যে ভিটেতে জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে, আজ সেখান থেকে বিতারিত হয়ে তারা যাযাবরের মতো জীবন কাটাচ্ছেন। উচ্ছেদের সেই বেদনা আর ঘর হারানোর আতঙ্ক এখনও তাড়া করে ফিরছে তাদের।
ভুক্তভোগী জরিনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন,“এই ভিটাতেই আমার জন্ম, এইখানেই সংসার করছি। এখন শেষ বয়সে আমাকে ঘরছাড়া করা হলো। কোথায় যাব, কার কাছে দাঁড়াব?”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আঠালিয়া মৌজার তিনটি দাগের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় দখলের চেষ্টা হলেও স্থানীয়দের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে জরিনা বেগমের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃদ্ধার মেয়ে রত্না আক্তার রুমা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিলো, নতুন জায়গায় ঘর করে দেওয়া হবে। সেই আশায় আমরা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। আমরা মা-মেয়ে একটি ছোট দোকানঘরে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘মা সারারাত ঘুমাতে পারেন না। সবসময় ভয় পান—আমরা কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব?’
অভিযুক্ত প্রবাসী মিলন দাবি করেন, ‘জরিনা বেগমের ওই জায়গায় বৈধ মালিকানা নেই। মানবিক কারণে পাশেই জমি কিনে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, প্রতিশ্রুত পুনর্বাসন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। তাই শেষ বয়সে মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
