×

প্রথম পাতা

খুন-ধ্বংসের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র

অচলাবস্থা সৃষ্টি করে সরকারের পতন ঘটানোই ছিল টার্গেট, প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা

Icon

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

খুন-ধ্বংসের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র

ঝর্ণা মনি : কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরুর আগেই কিলিং মিশন স্টাইলে দেশকে ধ্বংস করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করে বিএনপি-জামায়াত। নীল নকশার অংশ হিসেবে ঢাকার আশপাশে ক্যাডারদের আস্তানা গড়ে তুলে জামায়াত-শিবির। সারাদেশের তৃণমূল নেতাদের ধীরে ধীরে ঢাকায় জমায়েত করে বিএনপি। এর মধ্যেই নীল নকশাকারীদের জন্য সুযোগ হয়ে আসে কোটাবিরোধীদের আন্দোলন। টানা একুশ দিন ধরে চলা আন্দোলনে মদত দেয় বিএনপি। নেপথ্যের পুরো ছক কষে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবির। কিলিং মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য- দেশ অচল করে সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উসকে দেয়া। পুরোদেশ শাটডাউন করে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ ঘটানো। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ভোরের কাগজকে নিশ্চিত করেছে, এই উদ্দেশে দেশে কৃত্রিম খাদ্য সংকটের পরিস্থিতিও তৈরির পরিকল্পনা করেছিল তারা। কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরু হয় একুশ দিন আগে। শুরুতে শিক্ষার্থীদের সমন্বয়করা সিদ্ধান্ত নিলেও শেষের দিকে আন্দোলনের নাটাই চলে যায় বিএনপি-জামায়াতের হাতে। শিক্ষার্থীরা হয়ে যায় তাদের ক্রীড়নক। টানা সাত দিন চলে ধ্বংসযজ্ঞ, যার প্রধান টার্গেট সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি স্থাপনা। খুন আর সরকারি সম্পদ ধ্বংসের পৈশাচিক উন্মাদনায় নামে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য এসব ধ্বংসের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো। বাংলাদেশ টেলিভিশন আক্রমণের পর তাদের উদ্দেশ আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

টানা ১০ দিনের পৈশাচিক তাণ্ডবে তারা বিটিভি, সেতু ভবন, পুষ্টি ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফার্মগেট মেট্টোরেল স্টেশন ভাঙা, ফার্মগেট মেট্টোরেল ডিপোতে হামলা, শনির আখড়ায় মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় আগুন-ভাঙচুর, বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে হামলা ও আগুন, ধানমন্ডি পিবিআই অফিসে আগুন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে হামলা ভাঙচুর ও আগুন, মহাখালী ডাটা বেজ সেন্টারে হামলা ও আগুন দিয়েছে। নরসিংদী কারাগারে হামলা করে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। ওয়াসা শোধনাগার, বাড্ডা, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। রায়পুর পুলিশ কেন্দ্রে হামলা ও অগিসংযোগ করেছে, রামপুরা থানায় অগিসংযোগ, মেরাদিয়া অফিস পিআইবি ভাঙচুর, উত্তরায় রেললাইন উপড়ে ফেলেছে। মৌচাক পুলিশ বক্সে আগুন, বছিলায় সিটি হাসপাতালে হামলা, কদমতলী, মোহাম্মদপুর থানায় হামলা,বরিশালে র‌্যাবের কার্যালয়ে হামলা, গাড়ির ভেতের র‌্যাব সদস্যকে হত্যা করা, রায়েরবাগে পুলিশকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা, গাজীপুরে হাসপাতাল থেকে বের করে মেরে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। আহত পুলিশ সদস্যকে হাসপাতাল থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে হত্যা করা হয়েছে। রমনা ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, চট্টগ্রাম রোডে সন্ত্রাসী হামলা। ফকিরাপুল পুলিশ বক্সে আগুন, উত্তরা পুলিশের ডিসি কার্যালয়, টিএনটি আঞ্চলিক অফিস, টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগ কার্যালয়, কালিহাতী উপজেলা কার্যালয়, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন। গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের অফিসে ভাঙচুর ও ১১টি মোটরসাইকেল পুড়ানো, রেললাইন উপড়ে ফেলা, বগুড়া জেলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর, কোনাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ, ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, কোনাবাড়ী পুলিশ থানা অফিস ভাঙচুর, বসুন্ধরা চৌরাস্তা পুলিশ বক্স, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জোনাল অফিসে ২০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল অফিসে অগ্নিসংযোগ, টঙ্গী ডেসকো বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ, বেক্সিমকো গার্মেন্টসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, টঙ্গী পূর্ব থানায় হামলা, দুর্যোগ ভবন আক্রমণ করে শতাধিক গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়ানো হয়েছে। সেতু ভবনের ৫০ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নারায়ণগঞ্জ জেলা হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন হামলা, নারায়ণগঞ্জে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি পুড়িয়েছে। মাদারীপুরে বাস পোড়ানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন উত্তরা, মোহাম্মদপুর, মহাখালী, মিরপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে হামলা করেছে। বর্জ্য পরিবহনের গাড়ি পুড়ানো, কীটনাশক ওষুধ পুড়িয়ে দিয়েছে। রামপুরা পাম্প হাউসে অগ্নিসংযোগ। বগুড়ায় আওয়ামী লীগ অফিস, জাসদ কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা

কমপ্লেক্স, সাং¯ৃ‹তিক জোটের কার্যায়ল, পুলিশ বক্স, ভূমি অফিস, সিটি অফিস, ন্যাশনাল ব্যাংক, রেলস্টেশন, সরকারি শাহ আজিজুল হক কলেজ, সদর থানায় হামলা, বগুড়া পৌরসভা, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীকে হত্যা করেছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী নাজমুল হোসেন, সুমন এবং যুবলীগ কর্মী রোমানকে হত্যা করেছে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য কী- এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, ঠিক যে সময় মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, ব্যবসাবাণিজ্য উন্নত হচ্ছে, সেই জায়গার ওপর আঘাত এলো। আজকে বিটিভি, যেখানে ইতিহাস জ¦ালিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শতাধিক গাড়ি পুড়ানো হয়েছে, সেখানে আগুন দেয়া হয়েছে। সেতুভবন দুইবার জ¦ালিয়েছে, লুটপাট করেছে। এই ক্ষতিগুলো, কার? আমরা যেসব অফিস তৈরি করেছি, বেজা অফিস থেকে কিছুই বাদ যায়নি। হামলা করেছে, আগুন দিয়েছে। একটা রাজনৈতিক দল এরকম করতে পারে? শিবির তো জঙ্গি। গলা কাটে কে? নৃশংসতা করে কে? জামায়াত জঙ্গী। বিএনপি এখনো হুকুম দেয়, চালিয়ে যাও। তিনি বলেন, দ্রুত দুর্বৃত্ত জামায়াত শিবির সন্ত্রাসীদের ধরবো। এদের কঠোর শাস্তি হবে। এত সহজে কাউকে ছাড়া হবে না।

সরকারপক্ষ জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর হবে। ইন্টারনেট ও সার্ভার চালু না হওয়ায় মেট্রোরেলের সহিংসতাকারীদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সিআইডি। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, তারা আক্রমণগুলো বিচ্ছিন্নভাবে করছে না, পরিকল্পিত আক্রমণ করছে- ঠিক জঙ্গিরা যেভাবে আক্রমণ করে। তারা ডাটা সেন্টার জ¦ালিয়ে দিয়েছে, যাতে ইন্টারনেট বন্ধ থাকে, বাংলাদেশকে সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা যায়। যাতে ব্যবসাবাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে, উন্নয়ন আটকে দিতে পারে। বাংলাদেশে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, সেগুলোকে তারা জ¦ালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছে। দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথকে যেনো রুদ্ধ করে দিতে পারে- এটাই ছিল তাদের পরিকল্পনা।

বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেক্টরকে ধ্বংস করে দেয়াই বিএনপি-জামায়াতের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে বিদ্যুৎ বিভাগের ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে থাকার প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বিকেএমই, বিজিএমই, এফবিসিসিআই নেতারা বলছেন, এইটুকু সময়ে এত বড় প্রলয় হয় না। এরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠেছে। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় তারাই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে যে অপরাধ করেছে এসবের বিচার হলে এখন আর এত বড় অপরাধ করতে পারতো না। তারা বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে আর কোনোদিন ক্ষমতায় দেখতে চাই না। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়ায় আমরা সঙ্গে আছি। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য জীবন দিয়ে হলেও আমরা তার পাশে আছি। যারা সহিংসতা করেছে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

২৬ মার্চ ঢাকার যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন

ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা ২৬ মার্চ ঢাকার যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন

স্বাধীনতার দিবসে বিশেষ ম্যাচ, মাঠে নামছেন আশরাফুল-নাফিসরা

স্বাধীনতার দিবসে বিশেষ ম্যাচ, মাঠে নামছেন আশরাফুল-নাফিসরা

ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করলেন সাবেক এমপি প্রার্থী

ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করলেন সাবেক এমপি প্রার্থী

‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না, মজুতে লাভ নেই’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না, মজুতে লাভ নেই’

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App