ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
জনগণের নিরাপত্তায় আরো কঠোর অ্যাকশন নেয়া হবে
শেখ হাসিনা পালায় না, বিএনপি মদত দিচ্ছে, জানমাল রক্ষার জন্য কারফিউ
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক : আগুনসন্ত্রাসীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৩-১৪ সালে যারা অগ্নিসংযোগ করেছে তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে। কেউ বাদ যায়নি। এবার আবার একই চেহারায় ফিরে এসেছে। তবে এবার এত সহজে ছাড়া হবে না। আমাদের কষ্টের ফসল উন্নয়ন; আর সেটিই ধ্বংস করা হচ্ছে। ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশ ধ্বংস করা, বিদেশ থেকে অর্ডার করা আর হবে না। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় জঙ্গীদের দমন আর ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করাই লক্ষ্য উল্লেখ করে জনগণের নিরাপত্তায় আরো শক্ত অ্যাকশন নিয়ে দমন করা হবে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এর উদ্দেশ্য কী? কোটা আন্দোলন? আমরাই তো আপিল করেছি। তারা যেভাবে চেয়েছে, কোর্ট সেভাবেই রায় দিয়েছে। এরপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কী উদ্দেশ্যে? একটা রাজনৈতিক দল এরকম করতে পারে? শিবির তো জঙ্গী। গলা কাটে কে? নৃশংসতা করে কে? জামায়াত জঙ্গী। বিএনপি এখনো হুকুম দেয়, চালিয়ে যাও। তিনি বলেন, দ্রুত দুর্বৃত্ত জামায়াত-শিবির সন্ত্রাসীদের ধরতে পারব। এদের কঠোর শাস্তি হবে। এত সহজে কাউকে ছাড়া হবে না। আগুন দেয়া কোন ধরনের আন্দোলন- এই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব জ¦ালিয়ে ছাই করেছে। এরা কারা? অপরিচিত কেউ নয়। বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি। ওখান থেকে হুকুম দেয় জ¦ালাও-পোড়াওয়ের। খুন-খারাবি জামায়াত-শিবির একসঙ্গে করেছে। বয়স্ক রাজনীতিবিদ আমি। আমি তো চিনি সবাইকে।
শেখ হাসিনা পালায় না : শেখ হাসিনা পালায় না মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, শেখ হাসিনা নাই, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে! শেখ হাসিনা পালায় না। তিনি বলেন, আমাকেও মারতে পারে। আমি পরোয়া করি না। এক-এগারোতে আমাকে দেশে আসতে দিতে চায়নি। আমি ফিরে এসেছি। স্পেন, ব্রাজিল সফর বাতিল করেছি। আমার কাছে ক্ষমতা কিছুই না। আমি ক্ষমতার মুখাপেক্ষীও নই। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেন বজায় থাকে। আমি ক্ষমতায় এসেছি দেশের উন্নতি করতে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। ২০০৯ থেকে দেশের উন্নয়ন করছি; আর সেটিই ধ্বংস করা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, সব হারিয়ে দেশে এসেছিলাম, লক্ষ্য একটাই- এদেশের মানুষের সবার ভাগ্য পরিবর্তন করা। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো দিনরাত পরিশ্রম করি, উন্নয়ন করি, আর তারা ধ্বংস করে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা ব্যবসা করেন, বিদেশে যান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বিদেশে গেলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কেমন ছিল; আর আমাদের এই ১৫ বছরে আমরা কেমন পরিবর্তন করেছি। এর সম্মান নিশ্চয়ই আপনারা পান। আমার একটাই উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সুন্দর করা, যাতে দেশ সুন্দরভাবে চলতে পারে, একটা ইমেজ গড়ে ওঠে। দিনরাত এজন্যই পরিশ্রম করি।
জানমাল রক্ষার জন্য কারফিউ : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছেলেমেয়েরা কোটা চায় না। তাই বাতিল করেছি। মুক্তিযোদ্ধারা মামলা করেছেন। আদালত সেটি স্থগিত করেছে। আমরা আপিল করেছি। ওরা যখন আন্দোলন করে আমরা ধৈর্য ধরতে বলেছি। কোর্ট সময় দিয়েছে। আমি নিজে বলেছি, কেউ হতাশ হবেন না। এবার যেহেতু কোর্টে আছে, কোর্ট সময় দিয়েছে, সেখানে ফয়সালা দিয়ে দেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক। সারা বাংলাদেশ অচল করে দেয়া হয়। যারা তাদের সাপোর্ট দিয়েছেন কিন্তু সেই সময় কেউ কিছু বলেনি। তিনি বলেন, আমার দেয়া প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়েছে। তাদের হতাশ না হতে বলেছি। এই সময়টা ধৈর্য ধরা উচিত ছিল। বারবার কথা বলেছি, স্বান্ত¡না দিয়েছি, বুঝিয়েছি। এরপরও আন্দোলন চালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ঠিক যখন মানুষের জীবনমান উন্নত, ব্যবসা বাণিজ্য উন্নত হচ্ছে, সেই জায়গার ওপর আঘাত এলো। অর্থ কোথা থেকে এলো প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
আগুন যারা দিল তাদের বিরুদ্ধে তাদের বলতে হবে। ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে। ছাত্রলীগের রুম পুড়িয়েছে। আমি বলেছি ধৈর্য ধরো। শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলেছে। এরপরও তাদের দাবি মেনে নিয়েছি। কারা পেছনে? শিবির দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেছে। ঢাকার আশপাশে ঘাপটি মেরে ছিল। বিএনপি মদত দিচ্ছে।
জানমাল রক্ষার জন্য কারফিউ দিয়েছি- মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, ছাত্রদের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকে আমরা নজর দিয়েছি। ছাত্ররা বলেছে তারা জড়িত না। যখন বলেছে তখন আর্মি নামিয়েছি। আমি ছাত্র রাজনীতি করেছি। আর্মিরা কী করে তা আমি জানি। সেনা মোতায়েন ও কারফিউ দিতে বাধ্য হয়েছি। ১৯৮১ সালে প্রতি রাতে কারফিউ ছিল। অনেকের মনে নেই। তরুণ যারা তারা জানে না। এখন বাধ্য হয়ে কারফিউ দিয়েছি। তবে অবস্থার দ্রুত উন্নতি হবে আশা করছি। যখনই অবস্থা ভালো হবে তখনই কারফিউ তুলে নেয়া হবে। জেলাগুলোর দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি।
আগে ছিল গাড়ি পুড়ানো, এবার স্থাপনা : আগে ছিল গাড়ি পুড়ানো, এবার স্থাপনা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আবার অগ্নিসন্ত্রাস করছে। হাজারো সম্পদ নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকন্যা। দেশকে ভালোবাসি। যারা আমার দল করেন না, তাদেরও ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছি। সহযোগিতা করেছি। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রেখেছি। ২০১৩-২০১৫ পর্যন্ত মোকাবিলা করেছি। একের পর এক বাধা। তবে জঙ্গীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, আমি জানি ব্যবসা বাণিজ্য সচল রাখতে হবে। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা দরকার। আমার কাছে খবর এলো গার্মেন্টসে আগুন দেবে। তাই গার্মেন্টস বন্ধ করাই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার সব কিছু খুলে দেবেন। আর কেউ যদি নিজ দায়িত্বে গার্মেন্টস খুলতে চান, তাহলে কোনো সহিংসতা হলে দায় সরকার নেবে না। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে আপনাদের ব্যবসায়ীদের খাত আমিই উন্নতি করেছি। কোভিডের সময়ও ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছিল। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক জায়গায় কথা বলেছি। সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। এমনকি আপনাদের অনেকের শ্রমিকের বেতনও আমি দিয়েছি। একের পর এক আঘাত আসে। ২০১৩-১৪-১৪ অগ্নিসন্ত্রাস। তখন ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষতি হয়নি? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ বছর আগে ব্যবসায়ীরা কেউ বিতাড়িত, কেউ জেলে। সেই জায়গা থেকে দেশ ফিরিয়ে এনে রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে যখন বাংলাদেশকে একটা জায়গা নিয়ে এলাম, আজ মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, বাজার সৃষ্টি হয়েছে, বিদেশে রপ্তানির জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সহজে ব্যবসা করা যাচ্ছে। আমরা ব্যবসার জন্য চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছি। বাংলাদেশ ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে হাঁটে না। সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি। আমার আমলে যারা ব্যবসা করছে তাদের হাওয়া ভবনে দিতে হয়নি।
