তিস্তায় বালুর গর্তে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের তিস্তা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সৃষ্টি করা গভীর গর্তে পড়ে পানিতে ডুবে দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের সলেডি স্প্যার বাঁধসংলগ্ন তিস্তা নদী এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো সিফাত আহমেদ (১৮) ও স্বচ্ছ আহমেদ (১৪)। তারা লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় খলাইঘাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলামের ছেলে। একসঙ্গে দুই সন্তানের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে দুই ভাই বন্ধুদের সঙ্গে তিস্তা নদীর চরে খেলাধুলা করতে যায়। পরে দুপুরের দিকে তারা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় ছোট ভাই স্বচ্ছ নদীর এমন একটি স্থানে পা দেয়, যেখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। মুহূর্তেই সে পানির নিচে তলিয়ে যেতে থাকে।
ছোট ভাইকে ডুবতে দেখে বড় ভাই সিফাত তাকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু পানির গভীরতা ও তীব্র স্রোতের কারণে সেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। একপর্যায়ে দুই ভাইই নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন নদীতে তল্লাশি চালিয়ে দুই ভাইকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সোয়াদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। অতিরিক্ত পানি পেটে চলে যাওয়া ও শ্বাসরোধের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ডাব্লিউ অধিকারী বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই নদীতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। আজ দুটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল।”
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে কারও গাফিলতি বা দায় রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
