কুকুরের কামড়ে প্রাণ গেল পাঁচ জনের, আক্রান্ত ৭
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রয়েছেন আরো ৮ জন।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে শারমিন সুলতানা (৫২) নামে এক জনের মৃত্যু হয়। এর আগে, বুধবার (৬ মে) নন্দা রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া (৫২), শুক্রবার (৮ মে) রতনেশ্বর কুমার (৪২) এবং মঙ্গলবার (১২ মে) মারা যান আফরোজা বেগম (৫০)।
নিহতরা হলেন- উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী আফরুজা বেগম (৪০), কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫), একই গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২), ধুবনী বাজার এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৯) ও ছাপরহাটী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোকা বর্মণের ছেলে রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)।
আহতরা হলেন- উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতন নেছা, আশরাফুল আনন্দের স্ত্রী রুমিনা বেগম, লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত উমিতুল্লাহ ব্যাপারীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী গোলেনুর বেগম, মনসুর আলীর মেয়ে মিতু আক্তার, শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর মিয়া, খাইরুল ইসলামের মেয়ে লাবন্য আক্তার ও আনিছুর রহমানের ছেলে বিজয় হোসেন। তারা সবাই অসুস্থ্য হয়ে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের আকস্মিক ‘তাণ্ডবে’ অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত হন। কুকুরটির কামড়ে অধিকাংশেরই মুখ, নাক, কান ও চোখের চারপাশে ক্ষত সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন গ্রহণের পর কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেছেন, ‘নিহত ও আহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
গাইবান্ধা জেলার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেছেন, ‘কুকুর কামড়ানোর পর কেউই সময়র মতো চিকিৎসা নিতে যাননি। হাসপাতালে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা ছিলো।’
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা করবে। যেসব এলাকায় এমন ঘটনা ঘটবে, সেখানে কুকুরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। আমাদের কাছে কোনো ভ্যাকসিন নেই।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘পশুপ্রেমীদের দাবির কারণে কুকুর নিধন কার্যক্রম বন্ধ আছে। তবে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সচেতনতা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবাই টিকা নিলে জলাতঙ্ক থেকে রেহাই পাওয়ার কথা।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিব যাতে করে মানুষ সময়মতো ভ্যাকসিন পায় এবং মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়।’
