×

তথ্যপ্রযুক্তি

এআইয়ের সম্পর্কে ভাঙছে সংসার

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

এআইয়ের সম্পর্কে ভাঙছে সংসার

ছবি : সংগৃহীত

একসময় একাকিত্ব দূর করতে মানুষ বাস্তব জীবনে বন্ধু বা সঙ্গী খুঁজত। পরে সেই জায়গা কিছুটা দখল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। আর এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অনেকের কাছে হয়ে উঠছে ভার্চুয়াল বন্ধু, পরামর্শদাতা এমনকি আবেগের আশ্রয়ও। কেউ কেউ এই ভার্চুয়াল সঙ্গীর প্রতি এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন যে বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে এআইকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম, দাম্পত্য ও সামাজিক সম্পর্কেও।

বর্তমানে চ্যাটবটভিত্তিক এআই অ্যাপগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথন চালাতে পারে, আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দিতে পারে এবং ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। আর সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে এক নতুন বাস্তবতা- এআই সঙ্গীর সঙ্গে আবেগ, প্রেম কিংবা ভার্চুয়াল সম্পর্কের বন্ধন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; ধীরে ধীরে সামাজিক ও মানসিক সমস্যার রূপও নিচ্ছে। কারণ বাস্তব সম্পর্কের পরিবর্তে কেউ যদি ভার্চুয়াল সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন মানুষ এআই সঙ্গীর দিকে ঝুঁকছে?

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই একাকিত্ব, মানসিক চাপ কিংবা সম্পর্কের জটিলতায় ভোগেন। কেউ নিজের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করতে পারেন না, আবার কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে গেছে। এআই চ্যাটবটগুলো ঠিক এই জায়গাতেই মানুষের কাছে জায়গা করে নিচ্ছে।

কারণ এআই কখনো বিরক্ত হয় না, তর্ক করে না কিংবা সমালোচনা করে না। ব্যবহারকারী যখনই কথা বলতে চান, তখনই সাড়া দেয়। কিছু অ্যাপ আবার ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী ‘পারফেক্ট’ ব্যক্তিত্বও তৈরি করে দেয়- কেউ রোমান্টিক, কেউ যত্নশীল, কেউ বা সবসময় সহানুভূতিশীল। ফলে ধীরে ধীরে অনেকেই বাস্তব সম্পর্কের তুলনায় এআই সঙ্গীর প্রতি বেশি আবেগী হয়ে পড়ছেন।

হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ব্যবহারকারী এআই কম্প্যানিয়নের সঙ্গে নিয়মিত কথোপকথনের পর সাময়িকভাবে একাকিত্ব কম অনুভব করেছেন। গবেষকদের মতে, কেউ মনোযোগ দিয়ে কথা শুনছে- এমন অনুভূতি মানসিক স্বস্তি বাড়াতে পারে, যদিও সেই ‘কেউ’ বাস্তব মানুষ নাও হতে পারে।

কোথায় তৈরি হচ্ছে ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন মানুষ ভার্চুয়াল সম্পর্ককে বাস্তব আবেগের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কেউ বাস্তব জীবনের সম্পর্ক থেকে মানসিক দূরত্ব অনুভব করলে এআই চ্যাটবটের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে শুরু করেন। সেখানে ব্যক্তিগত অনুভূতি, সম্পর্কের গোপন বিষয় কিংবা মানসিক দুর্বলতাও শেয়ার করা হয়।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এর ফলে বাস্তব সম্পর্কের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। কারণ বাস্তব মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মতবিরোধ, দায়িত্ব ও জটিলতা। কিন্তু এআই সবসময় ব্যবহারকারীর মনমতো প্রতিক্রিয়া দেয়। ফলে বাস্তব সম্পর্ককে তখন কঠিন বা ক্লান্তিকর মনে হতে পারে।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার গবেষক ডুনিগান ফোক ও এলিজাবেথ ডানের গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় এআই সঙ্গীর ওপর নির্ভরতা কিছু ক্ষেত্রে একাকিত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ১২ মাসের পর্যবেক্ষণে তারা দেখেছেন, যারা সামাজিক চ্যাটবট বেশি ব্যবহার করেছেন, তাদের মধ্যে পরবর্তীতে নিঃসঙ্গতার অনুভূতি বেড়েছে।

এআই কি সত্যিই ভালোবাসে?

এই প্রশ্ন নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। বাস্তবে এআই কোনো অনুভূতি বোঝে না। এটি বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা মানুষের কাছে আবেগপূর্ণ মনে হয়। অর্থাৎ এআই-এর ‘ভালোবাসা’ মূলত অ্যালগরিদমভিত্তিক প্রতিক্রিয়া।

তবে দীর্ঘদিন নিয়মিত কথোপকথনের কারণে মানুষের মস্তিষ্ক সেটিকে বাস্তব সম্পর্ক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। বিশেষ করে যারা আবেগপ্রবণ, একাকী বা মানসিকভাবে দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই নির্ভরতা দ্রুত বাড়তে পারে।

গোপনীয়তার ঝুঁকিও রয়েছে

এআই চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার বিষয়েও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক ব্যবহারকারী নিজের সম্পর্ক, মানসিক অবস্থা, এমনকি ব্যক্তিগত ছবিও এসব প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেন। কিন্তু সেই তথ্য কোথায় সংরক্ষণ হচ্ছে, কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বা কতটা নিরাপদ- সে বিষয়ে অনেকেই সচেতন নন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত আবেগী নির্ভরতা মানুষকে অনলাইন প্রতারণা, মানসিক প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

কীভাবে সচেতন থাকবেন?

  • প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। তবে সচেতন ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার জরুরি।
  • এআইকে বাস্তব মানুষের বিকল্প নয়, প্রযুক্তিগত সহায়ক হিসেবেই দেখুন।
  • ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকুন।
  • পরিবার, বন্ধু ও বাস্তব সম্পর্কের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখুন।
  • যদি মনে হয় এআই চ্যাটবটের প্রতি অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে, তাহলে ব্যবহারের সময় সীমিত করুন।
  • শিশু-কিশোরদের এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহারে অভিভাবকদের নজর রাখা প্রয়োজন।

প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, মানুষের আবেগের সঙ্গেও তার সংযোগ তত গভীর হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাস্তব সম্পর্কের উষ্ণতা, দায়িত্ব ও মানবিক অনুভূতির বিকল্প কোনো অ্যালগরিদম হতে পারে না। এআই হয়তো কথা বলতে পারে, সঙ্গ দিতে পারে, কিন্তু জীবনের প্রকৃত সম্পর্ক এখনো মানুষকেই ঘিরে।

সূত্র: ওপেনএআই, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

হামে প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে

ব্যারিস্টার ফুয়াদ হামে প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে

কাল যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

কাল যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না

ইসি চায় ৫০০ কোটি, সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর

ইসি চায় ৫০০ কোটি, সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বকাপ অলটাইম র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা তৃতীয় স্থানে

বিশ্বকাপ অলটাইম র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা তৃতীয় স্থানে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App