বিজিএমইএ নির্বাচন মার্চে

আগের সংবাদ

জাপার আসনে নৌকা প্রত্যাহার! ৩০ থেকে ৩৫ আসন প্রত্যাশা জাতীয় পার্টির > চলছে দেনদরবার

পরের সংবাদ

দুর্নীতির আখড়া প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি অফিস

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

ফরহাদ হোসেন নীলয়, দেবহাটা প্রতিনিধি : লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্টের আওতায় সাতক্ষীরার দেবহাটায় হাঁস, মুরগি ও ছাগলের ঘর নির্মাণে সরকারি বরাদ্দের ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা খামারিদের মধ্যে বিতরণ না করে পকেটে রাখার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, হাঁস-মুরগির ঘর নির্মাণে ৩০ জন খামারির প্রত্যেকের জন্য ২০ হাজার টাকা ও ছাগলের ঘর নির্মাণে ৪০ জন খামারির প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার ৫শ টাকা করে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়া হলেও সম্প্রতি বদলি হওয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. তৌহিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার ও এ প্রকল্প অফিসার ডা. মো. নাজমুল হোসাইন এবং বর্তমান জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এসএম মাহবুবুর রহমান যোগসাজশ করে খামারিদের নামে বরাদ্দের টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না দিয়ে নিজের কাছে রাখেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ খামারিরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করলে বরাদ্দের তুলনায় অতি সামান্য টাকায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে খামারিদের বাড়িতে হাঁস-মুরগি ও ছাগলের ঘর তৈরি করে দেয়ার পাঁয়তারা করছেন। খামারিরা অভিযোগ করেন, চলতি অর্থবছরে দেবহাটা উপজেলায় পিজি গ্রুপের ৩০ জন খামারির বাড়িতে হাঁস-মুরগির ঘর নির্মাণের জন্য ২০ হাজার টাকা করে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও, সেই টাকা কোথায় আছে তা জানেন না খামারিদের কেউই। আর ৪০ জন খামারির বাড়িতে ছাগলের ঘর নির্মাণে প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার ৫শ টাকা করে দেয়া সরকারি বরাদ্দের টাকাও আজ পর্যন্ত পৌঁছায়নি খামারিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। পরে বিষয়টি নিয়ে খামারিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ২৫ হাজার ৫শ টাকার স্থলে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে নিম্নমানের কিছু নির্মাণসামগ্রী কয়েকজন খামারির বাড়িতে পৌঁছে ঘর নির্মাণ করে দিতে চাইছেন প্রাণিসম্পদ অফিসাররা।
প্রকল্প এলাকা দেবহাটা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরে এ উপজেলায় হাঁস-মুরগি পিজি গ্রুপের খামারিদের বাড়িতে ঘর নির্মাণের জন্য ৬ লাখ টাকা এবং ছাগল পালন পিজি গ্রুপের খামারিদের বাড়িতে টিনের ঘর নির্মাণের জন্য ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। হাঁস-মুরগির ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া ৬ লাখ টাকার ছিটেফোঁটাও পৌঁছায়নি ৩০ জন খামারির কাছে। আর ছাগলের খামারিদের প্রতিটি ঘরের জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয় খামারিরা এর সঙ্গে ইচ্ছামতো টাকা বিনিয়োগ করে প্রয়োজনানুসরে ঘর বড় করে নির্মাণ করতে পারবেন। আর সেই টাকা প্রত্যেক খামারির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বদলি হওয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তৌহিদুল ইসলাম এবং এ প্রকল্পের দায়িত্বে প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার ডা. মো. নাজমুল হোসাইন মাস তিনেক আগে ৪০ জন খামারির কাছ থেকে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে বরাদ্দের টাকা খামারিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না পাঠিয়ে তুলে নেয়। একপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. তৌহিদুল ইসলামকে অন্যত্র বদলি করা হলে সব টাকা চলে যায় প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার ডা. মো. নাজমুল হোসাইন ও জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এসএম মাহবুবুর রহমানের কাছে।
ছাগল পালন পিজি গ্রুপের খামারিদের মধ্যে কুলিয়া ইউনিয়নের আয়েশা খাতুন বলেন, মাস তিনেক আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসাররা এক প্রকার জোর করেই নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে খামারিদের সই করিয়ে নেয়। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের ২৫ হাজার ৫শ টাকা আমাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেয়ার কথা ছিল। আমরা তাতে আরো বিনিয়োগ করে ইচ্ছামতো বড় ঘর নির্মাণ করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেয়া হয়নি। সম্প্রতি আমরা এ নিয়ে আন্দোলন করলে অফিসাররা তাদের লোক দিয়ে অতি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কেবলমাত্র আমার ঘরটি নির্মাণ করে দিয়েছে। এখন এই ছাগলের ঘর আমার কোনো কাজে আসছে না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে এ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার ডা. নাজমুল হোসাইনের দেখা পাওয়া গেলেও তিনি সাংবাদিকদের সামনে মুখ খোলেননি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়