নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

আগের সংবাদ

কালো টাকার অবাধ সুযোগ! : বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বিরল উদ্যোগ, কর দেয়ায় নিরুৎসাহিত হবে সৎ করদাতারা

পরের সংবাদ

স্ত্রীর পাশে সমাহিত : একুশের কবিকে একুশের গানেই চিরবিদায়

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : শেষ ইচ্ছানুযায়ী রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রী সেলিমা আফরোজ চৌধুরীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অমর একুশের গানের রচয়িতা, প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক আবদুল গাফ্?ফার চৌধুরী। গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় তার দাফন করা হয়। এর আগে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে আবদুল গাফ্?ফার চৌধুরীর মরদেহ নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। সেখান থেকে দুপুরে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আবদুল গাফ্?ফার চৌধুরীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। এরপর দুপুর ৩টা ২২ মিনিটে ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪টায় গাফ্?ফার চৌধুরীর মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। সেখানে আরেকটি জানাজা শেষে তার মরদেহ নেয়া হয় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।
যে কালজয়ী গানের মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালির হৃদয় ছুঁয়েছিলেন সেই ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেরুয়ারি’- গান গেয়েই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে বিশ্বজনীন বাঙালি আবদুল গাফ্?ফার চৌধুরীকে। শুরুতেই ঢাকা জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহবাহী কফিন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মঞ্চে নেয়া হয়।
প্রথমে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাউদ্দীন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির আহমেদ শ্রদ্ধা জানান। তারপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধা জানান। আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর শ্রদ্ধা জানান সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ড. ইয়াসমীন হক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, ড. মুহাম্মদ সামাদ, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সংসদ সদস্য অ্যারমা দত্ত, সাংবাদিক আবেদ খান, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক মিনার মনসুর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, কলামিস্ট আব্দুল মান্নান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, অভিনয় শিল্পী রোকেয়া প্রাচী।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর চার সন্তান ছেলে অনুপম আহমেদ রেজা চৌধুরী এবং তিন মেয়ে তনিমা, চিন্ময়ী ও ইন্দিরা চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্য ও নাতি-নাতনিরা।
সাংগঠনিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানায় ১৪ দলীয় জোট, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় পার্টি, ন্যাপ ভাসানী, ন্যাশনাল পার্টি (ন্যাপ), ঐক্য ন্যাপ, ঢাকা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ গণতন্ত্রী পার্টি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৃত্যশিল্পী সংস্থা, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, যুবমৈত্রী, ছাত্রলীগ (জাসদ) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলাদেশ কবিতা পরিষদ, রফিক আজাদ স্মৃতি সংসদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সংস্কৃতি মঞ্চ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, বাংলা বিভাগ ঢাবি, ওয়ার্ল্ড হিন্দু ফেডারেশন, খেলাঘর, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাহানারা ফাউন্ডেশন জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, ছায়ানট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, প্রশিকা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ ছাত্র ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, ঢাকা কলেজ, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, গণস্বাক্ষরতা অভিযান, পথনাটক পরিষদ, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, প্রজন্ম একাত্তর, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, গ্রাম থিয়েটার, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ, জাতীয় পার্টি, প্রমা আবৃত্তি পরিষদ, বৃত্ত নাট্যদল, ভিন্নধারা, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন, ঢাকা ক্লাব, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, স্বণন, গণআজাদী লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উদীচী প্রভৃতি। শ্রদ্ধা নিবেদন বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে। শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে গাফ্ফার চৌধুরীর সৃষ্টিকর্ম, রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা স্মরণ করবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী আমাদের কাছে বটবৃক্ষের মতো ছিলেন। তার তুলনা তিনি নিজেই। মৃত্যুবরণ করলেও তিনি বেঁচে থাকবেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’- এই অমর গানের মধ্য দিয়ে। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি দুঃসময়ে এবং সংকটে পরামর্শ দিতেন।
দীপু মনি বলেন, আমাদের সকল আন্দোলন ও সংগ্রামে সাহস জুগিয়েছেন তিনি। কখনো মনে হয়নি তিনি দীর্ঘকাল প্রবাস জীবনযাপন করছেন। তার কলম যে থেমে গেল, এটা দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, অসাধারণ কলামিস্ট এবং একজন দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শ- অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য তিনি সারা জীবন লিখেছেন এবং সারা জাতিকে উজ্জীবিত করেছেন।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ওনার চলে যাওয়ায় আমি মানসিকভাবে নিসঙ্গ হয়ে গেলাম। ওনার বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করতাম। আমরা সবকিছু খণ্ডিতভাবে লিখি, উনি সেটা ডিটেইলস লিখতেন। কারণ, ইতিহাস সম্পর্কে তার খুব পরিষ্কার জ্ঞান ছিল।
আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরীর ছেলে অনুপম আহমেদ রেজা চৌধুরী বলেন, বাবা জানতেন এই দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে। এ কারণেই তার অন্তিম ইচ্ছা ছিল দেশের মাটিতেই সমাহিত হবেন। তার সেই শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাফ্ফার চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৮ বছর। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়