নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ

আগের সংবাদ

কালো টাকার অবাধ সুযোগ! : বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বিরল উদ্যোগ, কর দেয়ায় নিরুৎসাহিত হবে সৎ করদাতারা

পরের সংবাদ

অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার : অভিযানে বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: মে ২৯, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশেই অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে এ পর্যন্ত কতটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা জানাতে পারেনি অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এ অভিযান আজ রবিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। ভোরের কাগজের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত দেশের ১৫টি জেলায় অভিযান চালিয়ে ৭০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে।
গতকাল ভোরের কাগজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কতটি বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেটি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ সারাদেশেই অভিযান চলমান রয়েছে। সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা রবিবার (আজ) এ সম্পর্কিত রিপোর্ট আমাদের কাছে পাঠাবেন। সেই রিপোর্ট নিয়ে আগামীকাল সোমবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হবে। তখন জানতে পারব কতগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে, আর কতগুলো লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান আছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আমাদের করণীয় কী হবে- এ নিয়েও পর্যালোচনা করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার এক নির্দেশনায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনিবন্ধিত ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই হিসেবে গতকালই নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কথা। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সরকারি ছুটির দিন থাকায় এ অভিযান আজও চলবে। গত শুক্রবার রাতে সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন ডা. বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয় ২৬ তারিখ (বৃহস্পতিবার)। অনেক এলাকায় ওই দিন থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে। ২৬ তারিখ যেহেতু চিঠি পাঠানো হয়েছিল তাই সেই দিনটি বাদ দিলে ২৭ থেকে ধরে ২৯ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার কথা। এছাড়া শুক্রবারের বৈঠকে অনেকে বলেছেন, শুক্রবার যেহেতু সরকারি ছুটি ছিল, তাই অনেকেই হয়তো কর্মস্থলের বাইরে ছিলেন। ছুটির দিনে পুরোপুরি কাজ করা সম্ভব হয়নি। সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রবিবার (আজ) পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
উদ্যোগ কতটা সফল হবে বলে আশা করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা আমাদের রুটিন কাজ। আগেও এমন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন কারণে হয়তো এর ধারাবাহিকতা ছিল না। যেহেতু তখন আমি এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, তাই সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। তাছাড়া পুরো দু’বছর কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা নিয়েই আমাদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। সেই সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে। অনেকে করোনার ভয়ে হাসপাতালে যায়নি। করোনার কারণে এই বিষয়ে খুব একটা মনোযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এখন যেহেতু পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে, রোগীরাও হাসপাতালে যাচ্ছে। তাই মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। শতভাগ সফলতা হয়তো আসে না, কিন্তু আমরা আশাবাদী। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
সারাদেশের চিত্র : গতকাল অভিযান

চালিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৬টি বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করে ৪টি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পেয়ে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়া হয়। এগুলো হলো- চট্টশ্বেরী রোডের চট্টগ্রাম কসমোপলিটন হাসাপাতাল, ডবলমুরিং থানার ডিউটি রোডের পপুলার মেডিকেল সেন্টার, দামপাড়া এলাকার নিরুপনী প্যাথলজি ল্যাবরেটরি, পাঁচলাইশের এসটিএস হাসপাতাল সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া আরো ২টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র আছে ১৫৬টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে ৯৩টি এবং ১৫ উপজেলায় ৬৩টি। কিন্তু চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের কোনো তালিকা নেই। অভিযোগ আছে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় অন্তত ১ হাজার অনুমোদনহীন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আছে।
গতকাল দুপুরে অভিযান চালিয়ে চুয়াডাঙ্গার হাসপাতাল সড়ক এলাকার ৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালাসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেন্ট্রাল মেডিকেল সেন্টার, আমাদের সনো ও চুয়াডাঙ্গা আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেন্টার সিলগালা করা হয়। এছাড়া ইসলামী হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক বিভাগ ও তিশা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। অভিযানের খবরে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ রেখে পালিয়ে যান মালিকরা। অভিযান পরিচালনাকারী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান জানান, চুয়াডাঙ্গায় ২৫টি ক্লিনিক ও প্যাথলজি চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হচ্ছে।
টাঙ্গাইল পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩টি অবৈধ ক্লিনিক সিলগালাসহ ৩টি ক্লিনিককে কাগজপত্রে ত্রæটি থাকায় ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অনুমোদন না থাকায় স্বদেশ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পদ্মা ক্লিনিক ও আমানত ক্লিনিক এন্ড হসপিটালকে সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে দি সিটি ক্লিনিকে ২০ হাজার, কমফোর্ড হাসপাতালকে ৩০ হাজার ও ডিজি ল্যাবকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রানুয়ারা খাতুন জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে ১৫টি অনুমোদনহীন ক্লিনিক।
গাজীপুরের শ্রীপুরে নিবন্ধন না থাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধন দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করায় ৩টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২টির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় শুক্রবার অভিযান চালিয়ে মাওনা পপুলার মেডিকেল সেন্টার ও আনোয়ারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিবন্ধন না থাকায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। নবায়ন না করে মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধন দিয়ে পরিচালনা করায় কোয়ালিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলায় ১৭৯টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে ২৭টি অনিবন্ধিত ও ৪৮টির নবায়ন করা হয়নি। ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর, টার্মিনাল, হামদহসহ বিভিন্ন এলাকার অভিযান চালিয়ে ৮টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়। সেগুলো হলো- ওমেগা প্রাইভেট হাসপাতাল, ছন্দা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঢাকা ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নোভেল প্রাইভেট হাসপাতাল, সিটি হাসপাতাল, ইম্পেরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং সবুজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গতকাল অভিযান চলিয়ে ৪টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- উপজেলার ছেংগারচর বাজারে ছেংগারচর পেইন ক্লিনিক ও ফিজিওথেরাপি সেন্টার, মর্ডান ডেন্টাল কেয়ার ও দি ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এদিকে ছেংগারচর বাজারে হাড়ভাঙ্গা চিকিৎসালয়ের লাইসেন্স ও কাগজপত্র না থাকায় সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। নাটোরে অভিযান চালিয়ে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করে দেয়া হয়।
বরিশালসহ বিভাগের ৬ জেলায় অভিযান পরিচালিত হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় অনুমোদনকৃত ডায়াগনস্টিকের সংখ্যা ৫৭২টি, আর ক্লিনিকের সংখ্যা ২১১টি। অথচ বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকাসহ বিভাগের ৬ জেলায় ১ হাজার ১০৫টি বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল, প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। ৩২২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র নেই। রংপুরে রংপুরে নিবন্ধিত-অনিবিন্ধিত ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে অন্তত ২৪০টি। এরমধ্যে নিবন্ধিত ১২০টি। বাকিগুলো অনিবন্ধিত হওয়ায় সেগুলোকে সমিতির সদস্য করা হয়নি।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অভিযান চালিয়ে ৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও ১টি ক্লিনিককে সতর্ক করা হয়। প্রতীক আধুনিক ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, প্রদীপ ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিশ্বাস ডেন্টাল কেয়ার, শিমুল ডেন্টাল কেয়ার ও কুমারখালী ডায়াবেটিক সমিতি বন্ধের নির্দেশসহ নোভা ক্লিনিককে সতর্ক করা হয়। টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় ৩টি অবৈধ ডেলিভারি সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। একটিতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। ফরিদপুরে কনফিডেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করা হয়।
রাজশাহীতে অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। আজ সকাল থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে অভিযানে নামবে সিভিল সার্জন অফিস। বরিশালের গৌরনদীতে অভিযান চালিয়ে ৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। আরো ১২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনোটিকে পাঁচ দিন ও কোনোটিকে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে কাগজপত্র ঠিক করাসহ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়